নগরীতে শিক্ষক হত্যা মামলার অন্যতম আসামী দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত

# ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত ২ #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরী কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন হত্যা মামলার অন্যতম আসামী রাসেল ওরফে পঙ্গু রাসেল (২৭) দুর্বৃত্তের গুলি ও কোপের আঘাতে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২ টার দিকে মহানগরীর শেরেবাংলা রোডস্থ আলকাতরা মিলের পার্শ্বে ১ নং গলির প্রবেশপথে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কোপায়। এ সময় তার সাথে থাকা এসময় তার সাথে থাকা সদর হাসপাতালের পিছনের হুমায়ুন কবিরের ছেলে মোঃ সজিব (২৫) ও শেরেবাংলা রোড আমতলার মোড়ের মোঃ হান্নান শেখের ছেলে মোহাম্মদ ইয়াসিনকে (২৬) ধারালো চাপাতির কোপে রক্তাক্ত জখম করে। নিহত রাসেল মহানগরীর শেরেবাংলা রোডের আমতলার মোড়ের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১ টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদকের টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে একাধিক সূত্র দাবি।
পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে পঙ্গু রাসেলের বুকের পাশে ২টি গুলি করে এবং দুই পায়ের হাটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে। এসময় তার সাথে থাকা সদর হাসপাতালের পিছনের হুমায়ুন কবিরের ছেলে মোঃ সজিব (২৫) ও শেরেবাংলা রোড আমতলার মোড়ের মোঃ হান্নান শেখের ছেলে মোহাম্মদ ইয়াসিনকে (২৬) ধারালো চাপাতির কোপে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পঙ্গু রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পঙ্গু রাসেলের নামে মাদক, ডাকাতি অস্ত্র ও মাদকসহ ১১ টি মামলা রয়েছে। রাত ২টার দিকে পঙ্গু রাসেল মারা যান। জানা যায়, ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শওকত হোসেন ওরফে কালা শওকত ও তার ঘনিষ্ঠ সহচর তার মটরসাইকেল চালক শিমুল ওরফে ভাগিনা শিমুল এদের প্রত্যেক্ষ মদদে বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে রাসেল ওরফে পঙ্গু রাসেল নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো। ২০১৭ সালে ১৫ জানুয়ারি নগরীর শেরে বাংলা রোডের আমতলা এলাকায় ডুমুরিয়ার শহীদ আবুল কাশেম ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক চিত্তরঞ্জন বাইনকে হত্যার করে মালামাল লুট করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় চিত্তরঞ্জনের ছোট ভাই সুব্রত বাইন খুলনার সদর থানায় অজ্ঞাতানামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হত্যার ১৬ দিনের মাথায় প্রধান আসামি রাসেল ওরফে পঙ্গু রাসেলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ওই সময় তার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গোপন আস্তানায় সংরক্ষিত একটি দেশি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। তৎকালীন খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টুটপাড়ায় অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে পঙ্গু রাসেলের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। পুলিশ এ সময় ফাঁকা পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। তিনি বলেন, রাসেলের সহযোগীদের গুলি তার দু’পায়ে লেগেছিল। মামলায় ওই সময় তুহিন, মাহফুজ, আজিজুল ও রাজু গ্রেফতার ছিল।



