চাকুরি দেওয়ার নামে ১০ শতক জমিসহ ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

# মণিরামপুরের মদনপুর দাখিল মাদ্রাসা #
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোরের মণিরামপুরে মদনপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে দুইজন কর্মচারী নিয়োগের নামে ১০ শতক জমিসহ ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে আয়া পদে সালেহা আকতার মুন্নির কাছ থেকে ১০ শতক জমিসহ তিন লাখ এবং নিরাপত্তা কর্মী পদে হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে নয় লাখ টাকা উৎকোচ আদায়ের পর সভাপতি আবদুল জলিল ও সুপার আবদুল মান্নান আত্মসাত করেন। ভূক্তভোগীরা ওই জমিসহ টাকা ফেরত পেতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। জানা যায়, উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর দাখিল মাদ্রাসায় ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দুইজন কর্মচারী নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দুইটি পদের বিপরীতে হুমায়ুন কবির ও সালেহা আকতার মুন্নিসহ বেশ কয়েকজন আবেদন করেন। সালেহা আকতার মুন্নির স্বামী আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে আয়া পদে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে সুপার আবদুল মান্নান এবং সভাপতি ভূমি মন্ত্রনালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল ১০ শতক জমি (রেজিষ্ট্রি) এবং নগদ তিন লাখ টাকা উৎকোচ নেন। অপরদিকে হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে সুপার ও সভাপতি নয় লাখ টাকা নেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনছুর আলী অভিযোগ করেন, আবদুল জলিল ঢাকায় ভূমি মন্ত্রনালয়ে চাকুরি করার সুবাদে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি হয়ে সুপারের জোগসাজসে দুইজন কর্মচারী নিয়োগের নামে ১০ শতক জমি ও নগদ ১২ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। আবদুল জলিল ইতিমধ্যে চাকুরি থেকে অবসরে যান। তবে সুপার আবদুল মান্নান বলেন, ওই সময় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চাকুরি দিয়ে মুন্নি এবং হুমায়ুনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। জমি নেওয়ার ব্যাপারে সুপার বলেন, ১০ শতক জমি প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিষ্ট্রি করা হয়েছিল। ১২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি কমিটির সভাপতিসহ অন্যরা বলতে পারবেন। তবে তৎকালীন সভাপতি ভূমি মন্ত্রনায়লয়ের আপিল বোর্ডের সদস্য(সহকারি সচিব) অবসরপ্রাপ্ত আবদুল জলিল বলেন, প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের(ডোনেশন) টাকার সব হিসাব মাদ্রাসার সুপার আবদুল মান্নান দিতে পারবেন। এদিকে চাকুরির দুইবছর পর সালেহা আকতার মুন্নি ও হুমায়ুন কবির ওই জমি এবং টাকা ফেরত পেতে সুপার এবং তৎকালীন সভাপতির কাছে ধর্না দিয়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু এতেও কোন প্রতিকার হয়নি। ফলে চার নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনছুর আলী ভূক্তভোগীদের পক্ষে রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মদনপুর দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি নিশাত তামান্œা জানান, এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকরাম হোসেন খান জানান, বিষয়টি শুনানির জন্য দুপক্ষকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।



