মহানগরীতে আলোচিত আলামিন হত্যা মামলা তুলে না নেওয়ায় ভাই তৌহিদকে হত্যার চেষ্টা

১০ জনের বিরুদ্ধে বটিয়াঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামার লোহার গেট নবম গলি এলাকার আলোচিত আলামিন হত্যার দায়েরকৃত মামলা তুলে না নেওয়ার ঘটনায় এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ভাই তৌহিদকে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় (৫ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী তৌহিদ শেখ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের নাম উল্লেখ করে খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগেও নিহত আলামিনের ছোট ভাই ওবায়দুল শেখের উপরেও হামলা চালানো হয়।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ জুলাই মো. মিজান শেখ ওরফে দাদো মিজানের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা আলামিনকে খুন করে। এ ঘটনায় পিতা মো. জাহাঙ্গীর শেখ বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষদের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। যে কারণে তারা নিহতের ভাই তৌহিদ শেখ (৩৭) কে মারপিটসহ ক্ষয়ক্ষতির করার চেষ্টা করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে টার ৪ টারদিকে খুলনাস্থ নিজ বাড়ি হতে বটিয়াঘাটা থানাধীন চক্রাখালী গ্রামস্থ নির্মাণাধীন বসতবাড়ির মিস্ত্রীদের কাজের অর্থ পরিশোধ করার জন্য তার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে রওনা হন তৌহিদ। বিকেল আনুমানিক সোয়া ৫টারদিকে বটিয়াঘাটা থানাধীন চক্রাখালী গ্রামস্থ খুলনা-দাকোপগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের চক্রাখালী বাজারের ১০০ গজ পূর্বে বাঁশগোলার বিপরীত পাশে পাকা রাস্তাব উপর পৌঁছানো মাত্রই আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন আসামীরা ৬/৭ টি মোটরসাইকেল যোগে লোহার রড ও লাঠি-সোটা নিয়ে তৌহিদের মোটরসাইকেল এর সামনে এসে গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও তৌহিদের পিতার দায়েরকৃত হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বলে। তখন সে প্রতিবাদ করলে ১নং আসামীর হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে তৌহিদের কপালে সজোরে আঘাত করে। উক্ত আঘাতে তার বাম চোখের উপর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করা হয়। অন্যান্য আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে সজোরে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করে। হাত দিয়ে সে উক্ত আঘাত ঠেকাতে গেলে বাম হাতের কব্জিতে লেগে হাড়ভাঙ্গা জখম হয়। উক্ত আঘাতের ফলে আহত তৌহিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিপক্ষরা তাদের হাতে থাকা লোহার রড ও লাঠি-সোটা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে মাথা, মুখ সহ সমস্ত শরীরে আঘাত করে। এরপর তারা আহতের মোটরসাইকেল ভেঙে চুরমার করে। তাতে ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
প্রতিপক্ষরা আহত তৌহিদের পকেটে থাকা বিভিন্ন নোটের নগদ ৩০ হাজার টাকাও নিয়ে নেয়। ওই সময় মো. মিজান শেখ ওরফে কুত্তা মিজান তার হাতে থাকা পিস্তল উচিয়ে ও সাথে অন্যান্য আসামিরা পরবর্তীতে সুযোগ পেলে তাকে জীবনে শেষ করে ফেলবে বলে হুমকি-ধামকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা হলেন-খুলনা মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামার চৌধুরী গলি, বুড়ির বাগান এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে মো. মিজান ওরফে দাদো মিজান (৪২) ও মোঃ মিরাজ শেখ (৩৫), মিস্ত্রিপাড়া টাওয়ার গলি এলাকার মৃত বাবুল মাতুব্বরের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম মাতুব্বর (৩৫), পুর্ব বানিয়াখামার কমিশনার গলির কাঠাল তলা মোড় এলাকার বিল্লাল শেখের ছেলে মোস্তফা শেখ মোস্ত (১৯), বাগমারা ঈদগাহ লেন এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে চান্দু (৩৮), পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার ইমান শেখের ছেলে আলামিন (৩০), হরিণটানা মধ্যে পাড়া এলাকার গোলাম শেখের ছেলে মো. অপু শেখ (৩৫), হরিণটানা উত্তর পাড়া এলাকার কাশেম খাট্টো ডাকাতের ছেলে ঈমান (৫৫), রায়ের মহল আসর খার মোড় এলাকার বিল্লাল চোরের ছেলে জাহাঙ্গীর বাদুর সামাদ (৩৩) ও ফকিরহাট কাকডাঙ্গা এলাকার শহিদ মোল্লার ছেলে সাগর মোল্লা (২৭) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন। এসকল অধিকাংশ আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আলামিন হত্যার সম্পুরক মামলার অন্যতম আসামী সাবেক কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডনের সহযোগীরা এসব হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে ভুক্তভোগী আহত তৌহিদ শেখ অভিযোগ করেন।



