স্থানীয় সংবাদ

যোগিপোল ইউপি চেয়ারম্যান লিংকন পলাতক : নাগরিক সেবা বঞ্চিত তৃণমূল জনগোষ্ঠী

# বিগত দিনে নীরিহ মানুষের নামে বিস্ফোরক ও গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে ইউনিয়ন বাসি #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নাগরিক সেবা বঞ্চিত তৃণমূল জনগোষ্ঠী জনরোষের ভয়ে দীর্ঘদিন যাবত ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারছে না খানজাহান আলী থানা যুবলীগের আহবায়ক খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার যোগিপোল ইউনিয়ন পরিষদের দাপুটে চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান লিংকন। বিগত দিনে দলের প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম দূনীতি ও গ্রাম্য বিচার সালিশীতে পক্ষপাতিত্ব , নীরিহ মানুষের নামে বিস্ফোরক ও গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানি, বিচারের নামে নিরীহ ব্যক্তিদের আটকিয়ে নির্যাতন ও অর্থ আদায় সহ নানা কারনে ইউপি চেয়ারম্যান লিংকনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ইউনিয়ন বাসি। গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের থেকেই তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেনা।ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়ন বাসি। এতে করে স্থবির হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। গতকাল সকাল ১১ টায় ইউনিয়ন পরিষদের অচলঅবস্থ্যা নিরসনের লক্ষে খুলনার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর নেতৃবৃন্দ ইউনিয়ন পরিষদে যান এবং সাধারন মানুষের সাথে কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা জেলা যুগ্ন আহবায়ক ইমতিয়াজ কায়সার , বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা জেলার যুগ্ন আহবায়ক ইব্রাহিম খলিল, খুলনা জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব শাহরিয়ার ইসলাম খালিদ, সাদনাম রাতুল সহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা জেলা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। যোগিপোল ইউপি সদস্য কিবরিয়া বলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের পাশ কাটিয়ে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত করতেন ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে করা হতো গায়েবী ও বিস্ফোরক মামলার আসামী ও নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে নির্যাতন। নানা অনিয়ম দুনীতির কারনে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন সাজ্জাদুর রহমান লিংকন । তার বিরুদ্ধে একাধিক সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের বৃহৎ একটি অংশ সভা সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। গত ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এলাকা ছাড়েন তিনি এর মধ্যে ৩ বার ইউনিয়ন পরিষদেও যান সর্বশেষ গত ১৩ নবেম্ভর ইউনিয়ন পরিষদে দেখা যায় চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান লিংকনকে। আত্মগোপনে থাকার পরও হঠাং মাঝে মধ্যে তাকে এলাকায় দেখা গেলেও পরিষদে যায় না তিনি। যোগিপোল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোঃ মামুন বলেন শেখ হাসিনার পতনের পর ইউপি চেয়ারম্যান লিংকন নিয়মিত অফিস করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তারের ভয় ও জনরোষের কারনে তিনি এলাকা ছেড়েছেন। তাকে পরিষদে পাচ্ছে না ইউনিয়ন বাসি। এ কারনে ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষ। তার বিতর্কিত কর্মকা-ে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা তার অপসারনের দাবি করছেন। ইউপি সদস্য এনামুল কবির বলেন , ৫ ই আগস্টের পর থেকেই চেয়ারম্যানের নিয়মিত দেখা মিলছে না। শুনেছি সে নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে কোথায় আছেন আমরা জানি না। তবে তার অনুপস্থিতিতে কে তার স্বাক্ষর প্রদান করছে তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। ইউপি সদস্য শরিফুল বলেন, চেয়ারম্যান তো নিয়মিত আসেন না পরিষদে। শুনেছি ঢাকায় থাকেন নাকি তিনি। খুলনা জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ন আহবায়ক ইমতিয়াজ কায়সার বলেন ,বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে তার দোসর ইউপি চেয়ারম্যান লিংকন ও তার সহযোগীরা সাধারন মানুষকে নির্যাতন করেছে। এ এলাকার এ্যাজাক্স জুট মিল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছিলো কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালিন সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান লিংকন তার ক্যাডার বাহীনি দিয়ে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিছিল সহ আন্দোলনরত ছাত্রদের নামের তালিকা প্রশাসনের কাছে দিয়েছে। লিংকনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে । কোন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি কিভাবে ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ, সহ গুরুত্বপুর্ন ফাকা কাগজে সাক্ষর করেন তা আমি ভাবতে পারিনি। জাব্দিপুর গ্রামের শিক্ষার্থী তালহা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আমরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।যোগিপোল গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল বলেন বিগত নির্বাচনে লিংকন সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এমপির প্রভাব বিস্তার করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় । তার কারনে এ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নামে গায়েবী মামলা হয়। বিনা কারণে গ্রেপ্তার হয়ে হাজত বাস করে অনেকেই। তার নির্যাতন থেকে বাদ পড়েনি নিজের দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি গত সংসদ নির্বাচনে খুলনা ৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়া এস এম কামাল হোসেন এর কাছের লোক সাজার জন্য আওয়ামীলীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে লিংকন চেয়ারম্যান তার লোক দিয়ে আগুন ধরিয়ে অসংখ্য বিএনপি জামায়াত নেতাদের নামে মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন, পুলিশ দিয়ে হয়রানী করিয়ে করেছেন এলাকা ছাড়া। যোগিপোল ইউপি সচিব আসমা খাতুন এর কাছে নিয়মিত অফিস না করায় নাগরিক সেবা নিতে যাওয়া মানুষকে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন চেয়ারম্যান কোথায় আছে জানিনা, তবে আমার সাথে ফোনে কথা হয় ,চেয়ারম্যান এর কাছের লোক লিমন নামে একজন এসে জরুরী কাগজপত্র নিয়ে যায় তিনি সাক্ষর করিয়ে নিয়ে আসেন । এ প্রসঙ্গে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এমন অভিযোগ আমার কাছে এসেছে বিষয়টি জানার জন্য আজ (সোমবার) যোগিপোল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সহ ইউপি সদস্যদের উপজেলাতে ডাকা হয়েছে, বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button