স্থানীয় সংবাদ

‘পুঁজি’ হারানোর শঙ্কায় শীতের পোশাক ব্যবসায়ীরা

# খুলনায় এ বছর শৈত্য প্রবাহ অনুভূত না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত #
# কাংক্ষিত ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা দিন কাটাচ্ছে চরম হতাশায় #

মো. আশিকুর রহমান : শীতের পোশাকের মৌসুমি ব্যবসা তিন মাসের। শুরু হয় নভেম্বরে, চলে জানুয়ারির শেষ অবধি। শীতের ওঠানামার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেচাকেনা বাড়ে-কমে। তবে এ বাস্তবতার সঙ্গে এবারের কোনো মিল নেই। খুলনায় এ বছর শৈত্য প্রবাহ, মৃদু শৈত্য প্রবাহ বা তেমন হাঁড় কাপানো শীতের অনুভূত না হওয়ার দরুন শীত পোশাকের এই মৌসুমী ব্যবসায় অনেকটাই ধ্বস নেমেছে, যে কারণে এই পেশায় যুক্ত ব্যবসায়ী বর্তমানে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। খুলনার ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপণী বিতান গুলোতে থরে বিথরে কম্বল, জ্যাকেট, সোয়েটার, টুপি, মোজা, বাচ্চাদের পোশাকসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র সাজানো থাকলেও দেখা নেই ক্রেতাদের। কিছু দিন আগে খুলনায় মৃদু শৈত্য প্রবাহের কারণে যে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে ছিল, ওই সময় কিছুটা কেনাবেচা বেড়ে ছিল মনে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বর্তমানে সারাদিন ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা, দেখা নেই ক্রেতাদের। কারণ শীতের উপস্থিতিই নেই। ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকার শীতের পোশাক সরবরাহ করলেও কাংক্ষিত কেনাবেচা না হওয়ার কারণে মাথায় হাত পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর তেমন শীতের দেখা নেই। মাঘের মাঝামাঝি সময় চলছে। সাধারনত ব্যবসা শুরু হয় নভেম্বর থেকে চলে জানুয়ারির শেষ অবধি পর্যন্ত। বর্তমানে দোকানে শীতের পোশাকে বোঝাই। যে টাকা বিনিয়োগ করেছি, লাভ তো দূরের কথা চালান ওঠানোই দায় হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা গোনা কয়েকটি দিন আছে এই মৌসুমের। তাছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে বাচ্চাদের স্কুলের পোশাক তৈরী, ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকে সবাই। এক কথায় এ বছর শেষ, দায় দেনা, সমিতির ঋণ করে শীত পোশাকের ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করেছি, দু’চার পয়সা লাভের আশায়। এখন লাভ তো দূরে থাক, চরম লোকসানের মুখে পড়ছি আমরা। রবিবার (২৬ জানুয়ারী) বিকালে নগরীর ফেরীঘাটে পোশাক বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এসব কথা শোনা গেছে। একই ধরনের কথা বলেছেন নগরীর একাধিক শীত পোশাক বিক্রেতারা। রবিবার (২৬ জানুয়ারী) বিকালে খুলনা নগরীর বিভিন্ন শীতের পোশাকের দোকান ঘুরে জানা গেছে, মধ্য মাঘে দিনের বেলায় খুলনায় বেশ গরমের অনুভূত হচ্ছে। রাতে শীত থাকলেও তার তীব্রতা কম। শীত না পড়ায় খুলনায় শীতের কাপড় ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভুগছেন। শীতের তীব্রতা না থাকার কারণে শীতবস্ত্রের চাহিদাও বাড়েনি। এর ফলে শীতবস্ত্র বিক্রিতে বিরাজ করছে মন্দাবস্থা। বিক্রেতারা বলছেন, মধ্য মাঘেও শীত নেই। দিনের বেলায় গরম কাপড় ছাড়াই দিব্যি কাজকর্মে সময় কাটিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাতে গায়ে গরম কাপড় চাপাচ্ছেন, তবে সেসবও তেমন ভারী কিছু নয়। চাদর-মাফলার-টুপিতে কান-গলা-মাথা পেঁচিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার মতো হাড়কাঁপানো শীত এবার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। যার কারণে শীত পোশাক বিক্রি নেই বললেই চলে। পোশাকের দোকানের কর্মচারী আশিক আলী জানান, বিপুল পরিমাণ শীত পোশাকের সমাহার রয়েছে দোকানে । কিন্তু শীত কম থাকার কারণে বেচাকেনা নাই। সারাদিন শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর কেনাবেচার অবস্থা খুবই খারাপ। ফেরিঘাট মোড়ে শীত পোশাক বিক্রেতা মো. সেলিম শেখ জানান, সাধারনত শীতের পোশাকের মৌসুমি ব্যবসা তিন মাসের। শুরু হয় নভেম্বরে, চলে জানুয়ারির শেষ অবধি। শীতের ওঠানামার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেচাকেনা বাড়ে-কমে। এ বছর খুলনায় এ বছর শৈত্য প্রবাহ, বা তেমন হাঁড় কাপানো শীতের অনুভূত না হওয়ার দরুন শীত পোশাকের এই মৌসুমী ব্যবসায় অনেকটাই ধ্বস নেমেছে। যে কারণে আমরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান খুলে বসে আছি, ক্রেতাদের দেখা নেই। সিজিনের শুরুতে দোকানে প্রায় ২/৩ লাখ টাকার শীতের পোশাক সরবরাহ করি। সর্বসাকুল্যে ১ লক্ষ টাকার মতো শীতের পোশাক বিক্রি করেছি, বাকি পোশাক দোকানেই পড়ে আছে। আর ব্যবসার সময় কই? এবছর মাথায় হাত পড়েছে আমাদের।
হতাশার সুরে একই মোড়ের পোশাক বিক্রেতা মো. শাহাজাহান খান জানান, এবারে যে পোশাক এনেছিলাম তার তিন ভাগের এক ভাগও বিক্রি হয়নি। সিজিনের শুরুতে ৩/৪ লাখ টাকার শীতের পোশাক ক্রয় করি। এর মধ্যে সর্বসাকুল্যে লাখ খানের টাকার পোশাক বিক্রি করেছি। এক কথায় এ বছর তো শেষ। দায় দেনা, ঋণ করে শীত পোশাকের ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করেছি, দু’চার পয়সা লাভের আশায়। এখন লাভ তো দূরে থাক, পুজি নিয়ে টানাটানি। আশঙ্কা করছি লোকসান গুনতে হবে। পোশাক ব্যবসায়ী রাজু জানান, এ বছর তেমন শীতের দেখা নেই। মাঘের মাঝামাঝি সময় চলছে। সাধারনত ব্যবসা শুরু হয় নভেম্বর থেকে চলে জানুয়ারির শেষ অবধি পর্যন্ত। বর্তমানে দোকানে শীতের পোশাকে বোঝাই। যে টাকা বিনিয়োগ করেছি, লাভ তো দূরের কথা চালান ওঠানোই দায় হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে বাচ্চাদের স্কুলের পোশাক তৈরী, ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকে সবাই। দায় দেনা, ঋণ করে শীত পোশাকের ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করেছি, দু’চার পয়সা লাভের আশায়। এখন লাভ তো দূরে থাক, চরম লোকসানের মুখে পড়ছি। বর্তমানে দোকানে যে শীতের পোশাক রয়ে গেছে তা বিভিন্ন জেলা শহরের মেলাতে গিয়ে বিক্রির চেষ্টা করবো। তাছাড়া কি আর করার আছে। খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, সামনে শৈত্য প্রবাহের তেমন সম্ভবনা নাই।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button