স্থানীয় সংবাদ

খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ-২) প্রকল্পের অগ্রগতি

# জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় #
# ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সার্ভে ও সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে #
# এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে ডিজাইনের কাজ চলমান #
# প্রকল্প ব্যয় ৪’শ ৯১ কোটি ২৮ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা #

মোঃ আশিকুর রহমান : খুলনা মহানগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের প্রচেষ্টা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক নির্মান ও মেরামত, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় সমূহের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কেসিসি’র কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। এই ধারবাহিকতায় জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ- ২), Climate Change- Adapted Urban Development Phase 2 (CCAUD) প্রকল্পটির অগ্রগতির কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটির অগ্রগতির অংশ হিসাবে ইতোমধ্যেই প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পটির সার্ভে ও সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই বিষয়টি সামনে রেখে ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেসিসি’র পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক আবির-উল-জব্বার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪’শ ৯১ কোটি ২৮ লক্ষ ৬১ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প ব্যয়ের ৩৬% শতাংশ (১’শ ৭৮ কোটি ৪৬ হাজার টাকা) সরকার (জিওবি), ৬৩% শতাংশ (৩’শ ১২ কোটি ২৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা) জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এবং ১ কোটি টাকা কেসিসি’র নিজস্ব তহবিল হতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল নির্ধারন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।
ওই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৮০০ মিটার সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের উন্নয়ন, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি টাকা, ১৪,৭৪৫,৫৫ মিটার ড্রেনেজ সিস্টেম আপগ্রেডিং ঃ নবীনগর, সোনাডাঙ্গা, বাস্তহারা সাব-ক্যাচমেন্ট এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯০ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ৪,৮১৫ মিটার খাল আপগ্রেডিং ঃ নিরালা খাল, বাস্তহারা খাল, দেয়ানা চৌধুরী খাল, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা, ২৫০০ বর্গমিটার রূপসা রিভারফ্রন্ট উন্নয়ণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা, ১৭টি পুকুর (পূর্বে ২৩ পুকুর উন্নয়নের কথা থাকলেও ৫টি পুকুরের অনাপত্তি পত্র পাওয়া যায়নি) উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা, ৭৭৫ মিটার শহর রক্ষাকারী বাঁধ নির্মান (দৌলতপুর বাজার+মহেশ্বরপাশা শশ্মান ঘাট) পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা, আলু তলা আউটলেট গেট আপগ্রেডিং ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা, লবণচরা পাম্পিং স্টেশন ও আউটলেট গেট নির্মাণে ৭৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, ভূমি অধিগ্রহন/ক্রয় (পাম্প হাউজ নিমার্ণ, খাল প্রশস্তকরণ ও রিভারফ্রন্ট উন্নয়ন), পূনর্বাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা।
আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ণ হলে জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে করে খুলনা আগের ধাপ উন্নয়ণের মুখ দেখবে। বিশেষ করে বহু বছরের ঐতিহাসিক দৌলতপুর বাজার ভৈরবের ভাঙনের হাত হতে রক্ষা, সবমিলিয়ে এই প্রকল্পটি খুলনার জলাবদ্ধা দূরকরণ,পরিবেশ সংরক্ষন, শহররক্ষা বাধের মাধ্যমে দৌলতপুর বাজারকে রক্ষাকরণসহ সার্বিক উন্নয়ণে খুলনা আগামী একটি সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে উঠবে বলে আশাকরা যাচ্ছে। এদিকে চলমান প্রকল্পটির খোঁজখবর নিতে বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাস, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (জিআইজেড)’র একটি প্রতিনিধি দলের সাথে কেসিসি কর্মকর্তাদের সাথে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে নগর ভবনে মতবিনিময় করেন।
সভায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবেলাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্পে জার্মান সরকারের সহযোগিতা কৃতজ্ঞতা প্রকাশসহ আগামীতে নগরীতে বসবাসরত জলবায়ু উদ্বাস্তু ছিন্নমূল মানুষকে সহযোগিতা প্রদানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে কেসিসি’র পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি আগামীতেও জনগণের চাহিদার আলোকে গৃহীত প্রকল্পে সম্ভব সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জার্মানভিত্তিক দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়। ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকনোমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড)’র ডেস্ক অফিসার ম্যালিন রিবসামেন, জার্মান এ্যাম্বাসির জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের ডেপুটি হেড আলরিস ক্লেপম্যান, ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর ড. ডানা ডি লা ফন্টাইন ও মার্টিনা বারকার্ড, প্রিন্সিপ্যাল এডভাইজার ড. স্টিফান আলফ্রেড গ্রোয়েনউল্ডসহ কেসিসি’র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আগত প্রতিনিধি দল জার্মান সরকারের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত রূপসা ঘাট ও ৭নং ঘাট উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
দৌলতপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. পলাশ শেখ জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ- ২) প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ভেবে ভালো লাগছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ণ হলে, বিশেষ করে শহর রক্ষাকারী বাঁধ নির্মান হলে আমাদের বহু বছরের ঐতিহাসিক দৌলতপুর বাজার ভৈরবের ভাঙনের হাত হতে রক্ষা পাবে। এটা আমাদের বড় প্রাপ্তি।
সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র খুলনার সাঃ সম্পাদক এড. খুদরত-ই খুদা জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ- ২) প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে যাক এমনটি প্রত্যাশা করি। প্রকল্পটি সঠিকরুপে বাস্তবায়িত হলে জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। তবে কাজের সঠিক মান দিকে খেয়াল রাখাসহ নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পটি জনগনের সুফল না হয়ে দূর্ভোগের কারণ হতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্টদের সঠিক তদারকি থাকা দরকার বলে আমি মনে করি।
কেসিসি’র পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক আবির-উল-জব্বার জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন- ফেজ- ২ (ঈষরসধঃব ঈযধহমব- অফধঢ়ঃবফ টৎনধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চযধংব ২ (ঈঈঅটউ), প্রকল্পটির অগ্রগতির কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগ শেষে প্রকল্পটির সার্ভে ও সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনার জলাবদ্ধা দূরকরণ, পরিবেশ সংরক্ষন, শহররক্ষা বাধের মাধ্যমে দৌলতপুর বাজারকে রক্ষাকরণসহ সার্বিক উন্নয়ণে খুলনা আগামীতে একটি সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী।
উল্লেখ্য, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন এবং শহরমুখি ক্রমবর্ধমান জলবায়ু উদ্বাসত্তদের নাগরিক সেবা প্রদান, সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নগরীর সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোড ও ড্রেন উন্নয়ন, নবীনগর সাব-ক্যাচমেট ড্রেন উন্নয়ন, নিরালা খাল, বাস্তহারা খাল ও দেয়ানা চৌধুরী খাল উন্নয়ন এবং বাস্তহারা খালের সাথে সংযুক্ত ড্রেনসমূহের উন্নয়ন, রূপসা রিভার ফ্রন্ট পার্ক নির্মাণ, মহানগরীর ১৭টি পুকুর উন্নয়ন (পূর্বে ২৩ পুকুর উন্নয়নের কথা থাকলেও ৫টি পুকুরের অনাপত্তি পত্র পাওয়া যায়নি) দৌলতপুর ও মহেশ্বরপাশায় শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, মহেশ্বরপাশা শ্মশানঘাট উন্নয়ন, আলুতলা আউটলেট উন্নয়ন, লবনচরায় পাম্পিং স্টেশন ও আউটলেট গেট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button