আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন সংকট: শান্তি আলোচনায় পুতিন, তবে জেলেনস্কি বাদ

প্রআহ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে নয়। গত মঙ্গলবার এক বক্তব্যে পুতিন বলেন, জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি তাকে বৈধ শাসক মনে করেন না। তাই শান্তি আলোচনায় তার কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়। ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে প্রায় তিন বছর ধরে। যুদ্ধ থামাতে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকেই চাপ দিচ্ছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান এবং আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত। পুতিন এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যদি জেলেনস্কি আলোচনায় বসতে চায়, তাহলে আমি প্রতিনিধি পাঠাবো।” তবে তিনি জেলেনস্কিকে অবৈধ শাসক উল্লেখ করে বলেন, “যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়, তাহলে যে কেউ আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে পারে। যা আমাদের জন্য উপযুক্ত ও সংগতিপূর্ণ, সেটার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব।” পুতিনের এই মন্তব্যের পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, “আজ পুতিন আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি আলোচনায় ভয় পান, শক্তিশালী নেতাদের ভয় পান এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।” রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে পুতিন বলেন, “যদি পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে দুই মাস বা তারও কম সময়ে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব।” তবে তিনি পশ্চিমাদের এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য কিয়েভের যুদ্ধপ্রবণ নীতিকে দায়ী করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দলের পক্ষ থেকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। তবে উভয় পক্ষই আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যেকোনো শান্তি আলোচনায় কিয়েভকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। দেশটি অভিযোগ করেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে ‘কৌশলী আচরণ’ করতে চাইছেন পুতিন। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও বাস্তবে কবে শান্তি আলোচনা শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button