স্থানীয় সংবাদ

যশোর কেন্দ্রীয় কারা অভ্যন্তরে বন্দিদের রমরমা ক্যান্টিন ব্যবসা

যশোর ব্যুরো ঃ
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিদের জন্য গড়ে তোলা ক্যান্টিন ব্যবসাকে পুঁজি করে কারাগার সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা মাসে মোটা অংকের অর্থ উপার্জন করছে। এছাড়া, ভিতরে বন্দি কয়েদী আসামী কর্তৃক বন্দিদের ক্যান্টিন থেকে মুরগী কিনে রান্না করে বন্দিদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর কারাগারের জেলার বন্দিদের ক্যান্টিনে সিগারেট বিক্রিতে হিসাব নিকাশ কসলেও বন্দি কয়েদী আসামী কর্তৃক গ্যাস লাইট, লাইটের পাথর ও মুরগীর মাংস রান্না করে বন্দিদের মাঝে বিক্রির বিষয়টি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। যার ফলে কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিরা চড়ামূল্যে মুরগীর মাংস ক্যান্টিন থেকে রান্না করে বিক্রির টাকা বাইরের বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করা হচ্ছে।
কারাগার সংশ্লিষ্ট ও সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন,যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দি কয়েদী ও হাজতী আসামীদের জন্য গড়ে তোলা ক্যান্টিনে যে খাবার বিক্রি হয় তা চড়া মূল্যে। বন্দিরা তাদের পিসি’র মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে ব্যক্তিগত খরচে খাবার কিনে থাকেন। ওই ক্যান্টিনে সিগারেট,বিড়ি থেকে শুরু করে শুকনো খাবার যা বিক্রি হয় তা বাইরের চেয়ে অনেক বেশী। বাইরে এক প্যাকেট সিগারেট ও বিড়ি যে দামে বিক্রি হয় তা বন্দিরা পিসি’র মাধ্যমে চড়া মূল্যে কিনে থাকেন। প্রতিমাসে খুলনা বিভাগের এই বড় কারাগারে বন্দি থাকেন জেলা কারগারের চেয়ে কয়েকগুন বেশী। যার ফলে বন্দি বেশী থাকলে কারাগারের ভিতরের ক্যান্টিনে পিসি’র মাধ্যমে বেচাকেনা বেশী হয়। ভিতরের ক্যান্টিনে পিসি’র মাধ্যমে বন্দি কয়েদী ও হাজতী আসামী মাসে নূন্যতম ১৪ থেকে ১৫ লাখের অধিক কেনাবেচা করে থাকেন। অথচ কারাগারের জেলার ঢাকায় কারা মহা পরিদর্শকের কার্যালয়ে প্রতিমাসে ক্যান্টিনের বিক্রির হিসাব দেখান ৫০ হাজারের নীচে। বিক্রি মালামালের লাভের ৩৫ শতাংশ কারা মহা পরিদর্শকের খাতে জমা করেন। বাকী টাকা কারাগারের দুই কর্মকর্তা ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। সূত্রগুলো বলেছে, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে তাঁতী চালিতে হত্যা মামলার কয়েদী আসামী নাহিদ ক্যান্টিন থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের মুরগীর মাংস কিনে ক্যান্টিন ম্যানেজারের সহযোগীতায় সেখানে রান্না করে উক্ত মাংস তার তাঁতী চালিসহ কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চড়া মূল্যে বন্দিদের কাছে বিক্রি করছেন। নাহিদ রান্না করার মুরগীর মাংস বিক্রির পাশাপাশি গ্যাস লাইট ও গ্যাস লাইটের পাথর ও নিজে টুপি বানিয়ে বন্দিদের মাঝে চড়া মূল্যে বিক্রি করে যাচ্ছে হর হামেশায়। সূত্রগুলো জানিয়েছেন,বিক্রি করা মালামালের টাকা বিভিন্ন বিকাশ নাম্বারে পেয়ে যাচ্ছে। শুধু খাবার নয়। কারাগারের ভিতরে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হচ্ছে। ইতিপূর্বে এমডি চালিতে সজীব গাঁজাসহ কর্তব্যরত কারারক্ষিদের কাছে ধরা পড়ে। বিষয়টি কারাগারের জেলার ও সুপারের অজানা নয়। সূত্রগুলো বলেছেন, বন্দি আসামীরা বাইরে থেকে ভিতরে মাদকদ্রব্য পেয়ে যাচ্ছে কিভাবে এ নিয়ে বন্দিদের আত্মীয়স্বজনেরা হতবাক। কারাগারের ভিতরে বন্দি কর্তৃক মুরগী মাংস রান্না করে বিক্রি করার ব্যাপারে জেলার শরিফুল ইসলামের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান তিনি এ ব্যাপারে জানেন না। তাছাড়া,বিক্রি করার সুযোগ নেই। বন্দিদের আত্মীয়স্বজন অবিলম্বে কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিদের মাধ্যমে বিভিন্ন খাবার বেচাকেনা বন্ধসহ পিসি’র মাধ্যমে ভিতরের ক্যান্টিনের বেচাকেনা বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ প্রধান উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button