পাটকেলঘাটায় কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত হলো বিশাল বাঁশের সাঁকো

মোঃ হেলাল উদ্দীন, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি ঃ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদের উপর সাঁকো নির্মিত হয়েছে। যশোরের কেশবপুর ও সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ কাজে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা স্বত:স্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন। সাঁকো তৈরী হওয়ায় নদের দুপারের মানুষ নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পারছেরন। কপোতাক্ষ নদের দু’পারের মানুষের যাতায়াত সুবিধার কথা চিন্তা করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেছে স্থানীয় লোকজন। দুধারে ৮ টি সিমেন্টের পিলার করে তার উপর সাঁকোটি অনেক মজবুত ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। উজান থেকে ভেসে আসা শেওলা ও কচুরিপানার চাপে যেনো সাঁকোটি ভেঙ্গে না যায় সেদিকে খেয়াল রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে। নদ থেকে প্রায় ২০ ফুট উঁচু, ১০ ফুট চওড়া ও ১৮০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ লাখ টাকা। এতে ৩০০ বাঁশ ও ২ হাজার সিএফটি মেহগনির কাট ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়,মানুষের সাথে সাইকেল ভ্যান ও পারাপার হয় এই সাঁকো দিয়ে। মধুমেলা চলাকালীন সময়ে জনগণের কাছ থেকে কিছু টাকা নিলেও এখন দু’পারের মানুষের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে এই সাঁকোটি। সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য কাজী মনোয়ার আবু তাহের বলেন, কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন ও দুপারের মানুষের সহযোগিতায় সাঁকো নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাঁকো নির্মাণের জন্য ২মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। নদে বন্যার পানি বৃদ্ধি ও উজান থেকে ভেসে আসা শেওলা কচুরিপানার চাপে ওই স্থানে পুরানো সাঁকোটি ভেঙ্গে যায়। সেই থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুপারের হাজারো মানুষ নৌকায় করে পারাপার হচ্ছেন। তালা উপজেলার ধানদিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী সাহাদাত হোসেন বলেন, আমার প্রতিদিন সাগরদাঁড়ি বাজারে কাঁচা তরিতরকারী বেচাকেনা করতে যেতে হয়। সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে এখন এপারের নগরঘাটা, মিঠাবাড়ি, দৌলতপুর, ঝড়গাছা, শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতি, মানিকহার, সৈয়দপুর, বাটরা, গড়েরডাঙ্গা, নীলকন্ঠপুর, সরুলিয়া, ধানদিয়া, কুটিঘাটা, শারসা গ্রাম ও ওপারের সাগরদাঁড়ি, কোমরপুর, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর, রেজাকাটি সহ প্রায় ৪০টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে পারছে। নদের এ পারের মানুষজন ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজার-সওদাসহ সকল কর্মকান্ড সাগরদাঁড়ি বাজারে পরিচালনা করে আসছে। অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, সাঁকোটি নির্মাণ হওয়ায় ওপারের মানুষসহ আমাদের কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সহজেই সাগরদাঁড়ি আসতে পারছে। সাঁকোটি নির্মাণের জন্য ওপারের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাতক্ষীরা জেলার মানুষের যাতায়াতের পথ সহজ করতে সারসা থেকে সাগরদাঁড়ি কাঠবাদাম তলা পর্যন্ত সাঁকো নির্মাণ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছি।



