মণিরামপুরে বাড়তি দামে সার কিনতে কৃষকরা দিশেহারা

# ৩-৫ টাকা বাড়তি দামে সার কিনেও ভবদহের জলাবদ্ধতায় আমন ধানের বিপর্যয়ের পর বোরো ধানের আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা #
মোঃ আব্বাস উদ্দীন মণিরামপুর (যশোর) থেকে ঃ মণিরামপুরে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে সার কিনতে যেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কেজি প্রতি সার কিনতে কৃষকদের ৩-৫ টাকা বাড়তি খরচা করতে হচ্ছে। যে কারণে ভবদহ অধ্যুষিত মণিরামপুরে জলাবদ্ধতায় আমন ধানের বিপর্যয়ের পর বোরো আবাদ ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে বোরো চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে খুচরা বজারে বিক্রির জন্য সরকারিভাবে প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা ও এমওপি ২০ টাকা দরে নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ডিসেম্বর মাসে ইউরিয়া ৭’শ৭৭, টিএসপি ৫’শ৪৬, ডিএপি ১৪’শ৭০ ও এমপিও ৫’শ৪৮ মেঃ টন, জানুয়ারী মাসে ইউরিয়া ২১’শ২১, টিএসপি ৪’শ ৪১, ডিএপি ১৩’শ ৪৪ ও এমওপি ৭’শ২৬ ও ফ্রেব্রয়ারি মাসে শুধু ইউরিয়া ২২’শ৫ মেট্রিক টন সার সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। যা বোরো মৌসুমের জন্য যথেষ্ঠ। অথচ সার ব্যবসায়িরা কৃষকের বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করে সারের সংকটের কথা বলে বেশি দামে সার বিক্রি করছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাট-বাজারে ইউরিয়া সার ২৯ টাকা, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৩২ টাকা, ড্রাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ২৩ টাকা এবং মিউরেট অব পটাশ ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা সার বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাকিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে বাড়িতি দাম নিচ্ছে। ব্যবসায়িরা বলেছেন, সরকারি নির্ধারিত দামে পরিবেশদের কাছ থেকে সার না পেয়ে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। যার কারণে তারা কৃষকের কাছ থেকে দুই/এক টাকা বেশি নিচ্ছেন।
চলতি আমন মৌসুমে বাড়তি দামে সার কিনতে হয়েছে এখনও সেই চড়া দামেই সার কিনতে হচ্ছে এমন অভিযোগ অনেক কৃষকের। বাড়তি দামে সার কিনতে না পারলে বোরো ধানের ফলন ব্যহত হবে বলে কৃষকরা আশংকা করছেন। বাড়তি দামের জন্য কৃষকরা তাই উপজেলা কৃষি দপ্তরকে দুষছেন। সুষ্ঠু নজরদারি ও তদারকি থাকলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত সারের দাম নিতে পারতো না বলে কৃষকদের অভিমত।
উপজেলার হালসা গ্রামের হাসান আলী, আমিনপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ঘঘুরাইল গ্রামের আবুল কাসেম জানান, আমরা ইউরিয়া সার ২৯ টাকা, টিএসপি ৩৩ টাকা, ডিএপি ২৫ টাকা দরে কিনিছি। যা সরকার কতৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি।
উপজেলার চিনাটোলা বাজারের সার পরিবেশক আসানুর রহমান বুলি জানান, চলতি মাসে শুধুমাত্র ইউরিয়া সারের বরাদ্দ পেয়েছি। কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বেশী দামে কোন সার বিক্রি করা হচ্ছে না বলে জানান।
জনৈক এক খুচরা সার বিক্রেতা জানান, কেজি প্রতি ২/১ টাকা বেশি দিয়েই সার কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া পরিবহন খরচও আছে। তাই দুই-চার টাকা লাভ না করলে চলব কী করে। তাই একটু বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, সার বেশী দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অত্র উপজেলায় ২৮ হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭০% জমিতে বোরো আবাদ শেষ হয়েছে। সারের কোন সংকট নেই। অচিরেই বাজার তদারিক জোরদার করা হবে ও বাজার নিয়ন্ত্রনে অভিযান চালানো হবে।



