স্থানীয় সংবাদ

নড়াইল জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আবু হানিফের খুঁটির জোর কোথায়?

# বিভিন্ন পন্থায় প্রকল্পের অর্থ নিজের পকেটে নিতে নানা কুট কৌশল নেয়া তার এখন প্রধান কাজ #

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি নড়াইল থেকে ফিরে ঃ
নাগরিকগণের প্রাপ্য সেবা ও সুবিধাদি (সিটিজেন চার্টার) নিয়ে নড়াইল জেলা পরিষদে কর্মরত সার্ভেয়ার আবু হানিফের খুঁটির জোর কোথায়। বিসিএস ২৯ ব্যাচের কাজী মাহবুব উর রহমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে প্রকল্পের ১৫লাখ টাকার ভূয়া চেক প্রদান করার ঘটনা ধামা চাপা গেছে। নিজের ইচ্ছায় বদলী হওয়ার পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে বদলী বাতিলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নড়াইল জেলা পরিষদে কর্মরত সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় সার্ভেয়ার হয়েও নিজেকে জেলা পরিষদের প্রকৌশলীর পরিচয় দিয়ে বিগত বছরের প্রকল্পের অর্থ তার মনোনিত ঠিকাদারের মাধ্যমে পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া,জেলার র্শীষ একজন কর্মকর্তা একই জেলার বাসিন্দা দোহায় দিয়ে নিজেকে ক্ষমতাবান দাবি করেন। সম্প্রতি পরিষদে নতুন কয়েকজন যোগদান করায় তার কর্মকান্ডে তারা হতবাক হচ্ছেন। নড়াইল জেলা পরিষদের অধীনে সেবা প্রত্যাশী নাগরিকগণ অভিযোগ করেন, সার্ভেয়ার আবু হানিফ নিজেকে বিশায় ক্ষমতাবান দাবি করে বিগত অর্থ বছরের বরাদ্ধের বিভিন্ন প্রকল্পর নামে অর্থ পকেটস্থ করার পাশাপাশি পরিষদের অধীনে বিভিন্ন সড়কের গাছ,রাস্তা,ক্রীড়া,সংস্কৃতি,জাতীয় কর্মসূচী ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে অনুদান,মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি, জেলা পরিষদের ব্যবহার যোগ্য জমি একসনা ইজারা,পুকুর,খেয়াঘাট ইজারা, জেলা পরিষদ মিলনায়ত অডিটোরিয়াম,পিকনিক সেড ভাড়া,ডাক বাংলোতে সাময়িক আবাসন সুবিধা,যোগাযোগ অবকাঠামো,শিক্ষা,ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক,সামাজিক জনস্বাস্থ্য ইত্যাদি উন্নয়ন মূলক প্রকল্প, ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রদান,ঠিকাদারী লাইসেন্স নবায়ন, ঠিকাদারী বিল পরিশোধ,জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট দোকান বরাদ্দ প্রদান,একসনা ইজারা প্রদত্ত জমির ইজারা নবায়ন প্রকল্পে যে অর্থ উপার্জন ও ব্যয় হয় প্রতিটি কর্মকান্ডে সার্ভেয়ার আবু হানিফ হস্তক্ষেপ করেন। এখানে দীর্ঘদিন সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী না থাকার সুযোগে তিনি সার্ভেয়ার হয়েও সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। যার ফলে এ পরিষদে তালিকা ভূক্ত ঠিকাদারদের মধ্যে কয়েকজন এর সাথে তার একটি সু সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের কাছ থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়া বাবদ অলিখিত চুক্তি রয়েছে। সার্ভেয়ার হয়ে নিজে সহকারী প্রকৌশলী পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সেই দায়িত্ব পালনের সুযোগে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ তার মনোনীত ঠিকাদারের মাধ্যমে নিজের পকেট ভারী করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিষদের তালিকাভূক্ত ঠিকাদার ও পরিষদে কর্মরত কর্মচারীরা জানান, সার্ভেয়ার আবু হানিফ ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে এ পরিষদে একটি প্রকল্পের ১৫লাখ টাকার কাজ না করে বিল প্রস্তুত করে আত্মসাত করার ঘটনা তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুব উর রহমান এর কাছে ধরা পড়েন। তিনি দূর্নীতি পরায়ন সার্ভেয়ার আবু হানিফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তাব দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহন করায় সে বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি করে জেলার এক র্শীষ কর্মকর্তার স্মরনাপন্ন হয়ে বিভাগীয় কমিশনারের অফিস থেকে নড়াইল জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলীর আদেশ করান। বদলীর আদেশ করানোর পর তিনি নতুন কর্মস্থরে যোগদান না করে নিজেকে আড়াল করেন। এর কিছুদিন দায়িত্বরত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুব উর রহমান বদলী হয়ে যাওয়ার পর আবু হানিফ তার বদলীর আদেশ বাতিল করান। বিষয়টি নড়াইল জেলা পরিষদে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। তৎকালীন দায়িত্বরত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুব উর রহমান বিসিএস ২৯ ব্যাচের। আবু হানিফ তাকেও চ্যালেঞ্জ করে তার কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আবু হানিফের বিরুদ্ধে এ পরিষদে অভিযোগের শেষ নেই। তবে তার সাথে এ জেলায় একজন র্শীর্ষ কর্মকর্তার যোগসাজস থাকায় কেউ ভয়ে টু-শব্দ করতে সাহস পাইনা। যার ফলে আবু হানিফ এ পরিষদে কাউকে তোয়াক্কা করেন না। শুধু তাই আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সে নিজেকে আওয়ামীলীগের লোক পরিচয় দিয়ে নিজের উদ্দেশ্যে হাসিল করেছেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেন। অপর একটি সূত্র বলেছেন, সার্ভেয়ার আবু হানিফ গত অর্থ বছরের অর্থ বিভিন্ন কৌশল নিয়ে পকেটস্থ করেও তার দূর্নীতি কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ায় চলতি অর্থ বছরে জেলা পরিষদের বাজেটের অর্থ পকেটস্থ করতে নানা কৌশল নিয়েছেন। তাছাড়া, আবু হানিফ প্রায় ১১ বছর জেলা পরিষদে যোগদান করে খুলনার পর নড়াইল জেলায় একটানা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সার্ভেয়ার হয়ে সে কোটিপতি বনে গেছেন। তার বিরুদ্ধে দুদূকের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া,কর্মরত কর্মচারীদের আবু হানিফ বলেছেন,তার বিরুদ্ধে কেউ কিছুই করতে পারবে না। নড়াইল জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে কি পরিমানের অর্থ পকেটস্থ করেছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ পরিষদের ঠিকাদার ও কর্মরত কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button