বাগেরহাটের সাবেক পুলিশ সুপারকে আদালতে সোপর্দ : জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ

# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিñিদ্র নিরাপত্তা #
আজাদুল হক, বাগেরহাট ঃ বিশেষ ক্ষমতা ও বিষ্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার এজাহারনামীয় আসামী বাগেরহাটের সাবেক পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান কে বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হয়েছে। জেলার ফকিরহাট থানায় শনিবার দায়েরকৃত একটি মামলার এজাহার নামীয় আসামী সাবেক এসপি আবুল হাসনাত খান কে রবিবার বিকেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে বাগেরহাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম মতিয়ার রহমানের আদালতে তুললে বিচারক ওই পুলিশ কর্মকর্তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন বিকেলে ঢাকা থেকে সড়ক পথে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল হাসনাত খানকে বাগেরহাট আদালতে আনা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলা পুলিশ। শনিবার বাগেরহাট শহরের খারদ্বার এলাকার রফিকুল ইসলাম মিঠু নামের একজন ব্যক্তি বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা ও বিষ্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ফকিরহাট থানায় এখানের সাবেক তিন সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ সুপার হাসনাতকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। মামলায় অভিযোগ তোলা হয় গত বছরের ৪ আগষ্ট বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী গোলচত্ত্বর এলাকায় আসামীরা জড়ো হয়ে ছাত্রজনতার উদ্দেশ্যে গুলি ও বোমা ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তিনি বাগেরহাটের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারি চাকরিবিধি ভঙ্গ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার মূখে পড়েন পুলিশ সুপার হাসনাত খান। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের কিছুদিন পর তাকে বাগেরহাট জেলা থেকে রংপুরে বদলী করা হয়। শনিবার তাকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ফকিরহাট থানার ওসি এস এম আলমগীর কবীর বলেন, বাগেরহাট শহরের খারদ্বার এলাকার রফিকুল ইসলাম মিঠু নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিষ্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার এজাহার নামীয় অন্যতম আসামী বাগেরহাটের সাবেক পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান। তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলা পুলিশ। আদালতের বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তাকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ফকিরহাট থানার এসআই মেহেদী হাসান মিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি মামলার তদন্ত করছেন। মামলার অন্য আসামীদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



