সংস্কারের নামে নাটক মঞ্চস্থ করে ফ্যাসিবাদকে আশ্রয়- প্রশয় দিচ্ছে

# খুলনায় সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি সভায় বিএনপি নেতা হেলাল
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ যে করছেন; ডেভিলটা কে? সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির সম্প্রতি বলছে, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ নাকি আওয়ামী লীগ করে।তাহলে ডেভিল হান্ট বাহিনীর পরিচালনার জন্যে যে স্কোয়াড বাহিনী গঠন করা হবে, তার মধ্যে তো ৯০ ভাগই তো পুলিশ। তারা তো আওয়ামী লীগের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করবে। আওয়ামী দোসর প্রশাসন এখন বিএনপি, জামাত ওঅন্যান্য দলগুলো সম্পর্কে বিষাদাগার করছে। সংস্কারের নামে নাটক মঞ্চস্থ করে ফ্যাসিবাদকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে? গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৬২ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জামিন পেয়েছে। কিভাবে এসব গণহত্যাকারীদের জামিন হলো? আমরা তো সর্বশেষ টানা ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করছি। হয়রানিমুলক মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছি; তখন তো জামিন পাইনি আমরা! এরশাদের আমলে নয় বছর, হাসিনার ৯১ থেকে ৯৬ সাল আর সর্বশেষ ১৭ বছর এ তিনদশকেরও বেশি সময় বিএনপি রাজপথে জনদাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলন করেছে। তাই বিএনপিই বাংলাদেশের সর্বাধিক আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দল। যারা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগনের পাশে থাকে সেই দল হল বিএনপি।
সোমবার (১০ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় নগরীর কে.ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা জেলা বিএনপি’র জরুরি প্রস্তুতিসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেছেন।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবেলাসহ বিভিন্ন জনদাবিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বেলা আড়াইটায় শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা বিএনপি’র সমাবেশ সফলে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তুতি সভা শেষে নেতৃবৃন্দ সমাবেশস্থলে ভেন্যু পরিদর্শন করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করবেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানকে ইঙ্গিত করেপ্রস্তুতি সভায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আরও বলেন, ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করবে-এ কথা বলে আপনি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। সাধারণ মানুষ বলছে- শেখ হাসিনার আমলেও যা ছিল, ড. ইউনুসের আমলেও তাই। এ দুইকে মিলিয়ে ফেললে বিএনপি’র সবচেয়ে বেশি ক্ষতি। কারণ হাসিনার শোষণামল ছিল মাফিয়ার আমল। এটার সাথে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তুলনা করা যাবে না। সে জন্য জনগনের সামনে আপনার নিরপেক্ষা প্রমাণে- দ্রব্যমূল্য কমান। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে হবে। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন সেটা বলতে হবে। সংস্কার প্রস্তাবগুলো সব একত্রে করতে হবে। দেশে নির্বাচনী আবহাওয়া তৈরি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন তিনি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনগনের পালস্ বোঝেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি রোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা জনগনের। তাই জনগুর”ত্বপূর্ণ দাবিসমূহ আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপিকেই ফের রাজপথে নামতে হবে। বিএনপি সব সময়েই জনগনের পক্ষে। প্রস্তুতিসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক এ্যাড. এসএম শফিকুল আলম মনা ওনগর বিএনপি’র সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন। খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টুর সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম, মো. সাইফুর রহমান মিন্টু, শেখ আবদুর রশিদ, গাজী তফসির আহমেদ, ডা. আব্দুল মজিদ, মো. জাবেদ মলি¬ক, সারোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, শেখ হেলাল উদ্দিন, মোঃ আসলাম পারভেজ, মো. মোজাফফর হোসেন, আলামিন সানা, ইবাদুল হক রুবায়েত, আতাউর রহমানের রনু, এমএ হাসান, হুমায়ুন কবির, মোল¬া ফরিদ আহমেদ, হাফিজুর রহমান মনি, আসাদুর রহমান আসাদ, খন্দকার ফারুক হোসেন, সেলিম রেজা লাকি, চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, মুর্র্শিদুর রহমান লিটন, আব্দুল মালেক, হাফিজুর রহমান হাফিজ, হাবিবুর রহমান হাবীব, এজাজুর রহমান শামীম, শেখ নাদিমুজ্জামান জনি, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, গোলাম মোস্তফা তুহিন, জিএম মাওলা বক্স, মোঃ শরিফুল আলম ও এ্যাড. সেতারা সুলতানা প্রমুখ। প্রস্তুতি সভা শেষে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থ্যতা কামনা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু প্রার্থনা, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ও তার কণিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে সকল শহীদদের মাগফেরাত কামনা করা হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ খুলনা জেলা ও মহানগর যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে খুলনা জেলা, উপজেলা/পৌরসভা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমার্থকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহনের আহবান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।



