হাই কোর্টের আদেশ মানছে না যশোর হাউজিং রাতারাতি উচ্ছেদে মরিয়া ৫৩ বছরের বসতবাড়ি

যশোর ব্যুরো ঃ হাই কোর্টের আদেশ অমান্য করে দীর্ঘ ৫৩ বছরের বসতবাড়ি রাতারাতি উচ্ছেদে মরিয়া হয়ে উঠেছেন যশোর হাউজিংয়ের কর্মকর্তারা। তারা আইনকানুনের থোড়াইকেয়ার করে এটি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেবল হাই কোর্টের আদেশ অমান্যই করছেন না, মাত্র দুইদিনের মধ্যে তিনতলা ভবনের একপাশ অপসারণের নির্দেশ দিয়ে অমানবিক কাজ করছেন তারা। তা না হলে তারাই উচ্ছেদ করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে, বাড়ির মালিকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
যশোর হাইজিংয়ের ডি ব্লকের ৭৩ নম্বর প্লট কেনেন রওশানা খাতুন নামে এক নারী। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সাল থেকে ওই প্লটে বসবাস করে আসছে তার পরিবার। তার প্লটের সামনেই হাইজিংয়ের খন্ড খন্ড জায়গা ফাঁকা পড়ে ছিল। সেই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে ও চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে রওশানার পরিবার। একপর্যায়ে পড়ে থাকা খন্ড জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন রওশানারা। সেই আবেদনে তারপক্ষে বরাদ্দ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেন হাউজিংয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা। যেহেতু বসতবাড়ির সামনের জায়গা সেই কারণে আইনানুযায়ী ওই জমি বরাদ্দ পাওয়ার দাবিদার একমাত্র রওশানারা।
এরপর সময়ের ব্যবধানে রওশানারার সন্তানেরা তার কেনা জমিতে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন। ভবন নির্মাণের সময় কিছু অংশ ওই জমির মধ্যে চলে যায়। এরপর হাউজিং কর্মকর্তাদের পরামর্শে বরাদ্দ পেতে বারবার আবেদন করেও ব্যর্থ হন রওশানারার পরিবার। ফলে, পরিবারের সদস্যদের বসবাসে চরম বিঘœ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে তিনি হাই কোর্টে রিট পিটিশন করেন। রিটে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজির সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ হাউজিংকে ৬০ দিনের মধ্যে রওশানার আবেদন নিষ্পত্তির আদেশ দেন। একইসাথে তিন কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিষয়ে রওশানারাকে জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয় হাই কোর্টের ওই র”লে। কিন্তু যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষ হাই কোর্টের আদেশ আমলেই নেয়নি। হাউজিং ৬০ দিনের মধ্যে না করেছে বরাদ্দ আবেদনের নিষ্পত্তি, তিনদিনের মধ্যে না জানিয়েছে রওশানারাকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাউজিং কর্তৃপক্ষ ৭৩/এ সাইট প্লটটি রাফসান সরোয়ার নামে একব্যক্তির কাছে অতিগোপনে বিক্রি করেছে। একাধিকবার হাউজিংয়ে গিয়েও ক্রেতার নাম জানা যায়নি। সর্বশেষ, সোমবার হাইজিংয়ের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে তিনতলা ভবনের বর্ধিত অংশ মাত্র দু’দিনের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে কর্মকর্তারা নিজেরাই উচ্ছেদ করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। এ ঘোষণার পর রওশানারার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্থ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, হাই কোর্টের রিট নিষ্পত্তি হওয়ার আগে হাউজিং কীভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। তাদের এ ধরনের কাজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে উল্লেখ করেছেন তারা। হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কীভাবে উচ্ছেদ চালানোর চেষ্টা চলছে জানতে সোমবার ১০ ফেব্র”য়ারী সকালে যশোর হাউজিংয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিবের কাছে গিয়ে তার কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। কখন পাওয়া যাবে কেউ বলতে পারেননি। তবে, কয়েকজন উপসহকারী প্রকৌশলী ইমাদুল ইসলাম তুহিনের কাছে যেতে বলেন। তার কক্ষও তালাবদ্ধ ছিল। এরপর মি. তুহিনকে বারবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।



