আন্দোলনের মুখে খালিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলে ফ্যাসিস্ট অধ্যক্ষের পদত্যাগ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত খালিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলে ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ তাসরিনা বেগমকে অবশেষে কর্তৃপক্ষ অব্যাহতি দিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার অত্র স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের নিকট এ অব্যাহতি পত্র জমা দেন। অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করেন, “আমি তাসরিনা বেগম, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, খালিশপুর, খুলনায় অধ্যক্ষ পদে ৯ জুলাই’২৪ থেকে অদ্যাবধি কর্মরত রয়েছি। সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমার পক্ষে অধ্যক্ষ পদের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা স্বাস্থ্যগতভাবে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে আমি অধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তির আবেদন করছি। গত কয়েক মাস ধরে ওই অধ্যক্ষে অপসারনের দাবিতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছিল। একই সাথে কেসিসি কর্তৃপক্ষ তার দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছেন। যা তদন্ত কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে। তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে বুধবার বহিরাগতদের দিয়ে ক্যাম্পাসে হানা দেয়। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশী হস্তক্ষেপে বহিরাগতরা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। অবশেষে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। অস্টম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী হিয়ার মা নাজনীন আক্তার রিপা জানান, ফ্যাসিস্ট অধ্যক্ষ তার অপরাধ ঢাকতে এত দিন দলবাজি করে চলেছেন। এতে করে স্কুলের শিক্ষার মান নিচে নেমে গেছে। দলাদলির কারণে স্কুলে এখনও স্পোর্টস, পিকনিক, ক্লাস বিভাজন, ক্লাস কিছুই হয়নি। কবে হবে তাও অনিশ্চিত। তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে ফেরৎ আনতে একটি চক্র বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে চড়াও হয়। তারা আল আমিনসহ অন্যান্য শিক্ষকদের খারাপ আচরণ করে। পরে পুলিশ ও কেসিসির ম্যাজিস্ট্রেট আসলে তারা নরম হয়। তিনি আরো বলেন, তাদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এটা খুবই খুশির খবর। তবে এখন চাই একজন যোগ্য অধ্যক্ষ। যত দিন নতুন অধ্যক্ষ না আসেন তত দিন স্কুলের বাকী ১৫ জন শিক্ষক যাতে তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে-এটাই অভিভাবকদের চাওয়া। কেসিসির একটি সূত্র জানায়, অধ্যক্ষে নিয়োগে ত্রুটি ছিল। তদন্ত টিম তাকে ওই নথিসহ তলব করলে তিনি তদন্ত টিমের কাছে হাজির না হয়ে পদত্যাগ করেন। নিজের গোপন তথ্য যাতে ধরা না পড়ে সে জন্যই এ পদত্যাগ বলে সূত্রটি জানায়। ৪০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে অস্থায়ীভাবে তিনি নিয়োগ পেলেও তিনি কৌশলে দ্বিগুন বেতন উত্তোলন করতেন। তিনি পদত্যাগ করলেই সব মাফ পাবেন না। তার এই অনিয়ম, দুর্নীতির তদন্ত হবে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে কেসিসি বলে সূত্রটি জানায়। স্কুলের শিক্ষক এসএম উজ্জল ও আল আমিনসহ অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, ম্যাডাম অধ্যক্ষ থাকাকালিন সবাই অবরুদ্ধ ছিলাম। স্কুলের অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষকরা সবাই ছিল এর ভুক্তভোগী। অধ্যক্ষের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আমাদেরকে স্বস্তি এনে দিয়েছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এ প্রতিষ্ঠানকে খুলনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেসিসির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ফিরোজ সরকার অধ্যক্ষের পদত্যাগের কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি আসলে খুবই চালাক। তবে তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত হচ্ছে। তা চলবে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।
