বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না খুলনা পিটিআই প্রাইমারি স্কুলের

শিক্ষকদের রমরমা কোচিং ব্যবসা
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) এর সুপারিনটেনডেন্ট মোল্যা ফরিদ আহমেদ এর নামে উঠা কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের (পিটিআই স্কুল) শিক্ষকদের নামে উঠেছে নানা অভিযোগ। সূত্র জানায়, দীর্ঘ একযুগ ধরে পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে নিজস্ব শিক্ষক না থাকায় বিভিন্ন প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের সেখানে সংযুক্তিতে এনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ গত ২০২৪ সালে খুলনা পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে ৫ জন নিজস্ব শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের নিয়োগ পাওয়া নিজস্ব শিক্ষকগণ হলো ইমরুল সাহেদ, রাসেল আহমেদ, ইমরান হোসেন, নেক্কার মৌসুমী হক, স্বর্ণা তাসনীম লিসা। এছাড়াও খুলনা সদরের পশ্চিম টুটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান পলি ও রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শুভ্রা কুন্ডু এ বিদ্যালয়ে সংযুক্তিতে কর্মরত আছেন। চলতি বছরে খুলনা পিটিআই-এ ২৬০ জনের মত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। বরাবরই এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা পাশর্^বর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থেকে বেশি থাকে। প্রাথমিক শিক্ষারমান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) এ প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। অভিভাবকদের বিশ^াস, পিটিআই স্কুলে ছেলে-মেয়ে ভর্তি করলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, খুলনা পিটিআই স্কুলের শিক্ষক ইমরুল সাহেদ, রাসেল আহমেদ, ইমরান হোসেন, নেক্কার মৌসুমী হক এই ৪ শিক্ষক গত ২০২৪ সালে এই পিটিআই-এ যোগদান করেই পিটিআই মোড় সংলগ্ন দিনা ভিলায় তারা ইনটেন্সিভ কেয়ার কোচিং (আইসিসি) নামে কোচিং সেন্টার খুলে ব্যবসা শুরু করেন। ঐ চার শিক্ষক বেআইনী ভাবে নিজ নামে সাইনবোর্ড দিয়ে ২০২৪ সাল হতে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। পিটিআই স্কুলের অভিভাবকদেরকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বেশী মার্ক দেওয়ার আশ^াস দিয়ে তাদের কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। তাদের কোচিং সেন্টারে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি না করলে পরীক্ষায় বেশী মার্ক দেবে না বলে তারা অভিভাবকদের চাপ সৃষ্টি করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিভাবকরা জানান, গত বছর তাদের কোচিং সেন্টারে ভর্তি না করায় দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ভালো মার্ক পেলেও বার্ষিক পরীক্ষায় তাদের কোচিং এ যারা পড়েছে সেই সব শিক্ষার্থীদেরকে বার্ষিক পরীক্ষায় বেশি মার্ক দিয়ে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে অভিভাবকগণ পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এর সাথে কথা বলেও কোন সুরাহা হয়নি। উল্টো তারা বিতর্কিত হয়েছেন বলে জানান। পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র প্রনয়ণ নিয়েও ঐ শিক্ষকগণ পিটিআই ইন্সট্রাক্টরদের সাথেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তারা ১০ম গ্রেডে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক তাই সাধারণ প্রাইমারি শিক্ষকদের থেকে বেশী যোগ্যতা সম্পন্ন বলে দম্ভ ও প্রচার করেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ঐ শিক্ষকরা পিটিআই এর কর্মচারীদের সাথেও ভালো ব্যবহার করেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষক ইমরুল সাহেদ ইতোপূর্বে তেরখাদা উপজেলার আটলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তখন তেরখাদা উপজেলায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত একটি শিক্ষক গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন বলে শিক্ষকরা জানান। এদিকে অভিভাবকরা জানান, সংযুক্তিতে কর্মরত খুলনা সদরের পশ্চিমটুটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান পলির নামেও অভিভাবক মহলে নানা রটনা রয়েছে। তিনি নিজ বাসায় একজন সহকারী থানা শিক্ষা অফিসারের সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর তার স্বামী হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশে সোপর্দ করে মামলা দেন। সে কারণে তার কলেজ শিক্ষক স্বামী মিজানুর রহমান তাকে ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ডিভোর্স দেন। এছাড়াও অপর সংযুক্তিতে কর্মরত শিক্ষিকা শুভ্রা কুন্ডু চারিত্রিক দোষের কারণে দু’ বার ডিভোর্স প্রাপ্ত হয়েছেন। এসব নিয়েও অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে বেশ চর্চা রয়েছে। সাধারণ অভিভাবকরা এসব বিতর্কিত শিক্ষকদের এই স্কুল থেকে সরিয়ে দিয়ে ভালো যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য দাবী তুলেছেন। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট কোন কিছু না বলায় সাধারণ অভিভাবকগণ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টের সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরুল সাহেদ বলেন, তারা প্রথম শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত কোচিং করান। তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি।



