স্থানীয় সংবাদ

মেডিকেল ট্রেড ফেয়ার খুলনা জেলা শাখার ৬ষ্ঠ খুলনা বিভাগীয় সম্মেলনে বক্তারা

# চিকিৎসা সেবায় বিদেশ নির্ভরতা কমানোর এখনই সময় #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ “চিকিৎসা সেবায় বিদেশ নির্ভরতা কমানোর এখনই সময়”এ প্রতিবাদ্য বিষয় নিয়ে গতকাল (২০ ফেব্রুয়ারী )বৃহস্পতিবার খুলনা অভিাজাত হোটেল টাইগার গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল-এ বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ), খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে ৬ষ্ঠ খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন ও মেডিকেল ট্রেড ফেয়ার-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিপিএইচসিডিওএ, বিভাগীয় কমিটি ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. গাজী মিজানুর রহমান। খুলনা বিভাগের অন্তভুক্ত ৮টি জেলা হতে প্রায় চাঁর শতাধিক ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিকগন, সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকগণ ও খুলনা শহরের সম্মানিত গুনীব্যক্তিবর্গ উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। সম্মেলনের সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চানালয়ে ছিলেন বিপিএইচসিডিওএ, খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. গৌতম রায়।এছাড়া সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জনাব আবু সায়েদ মো: মঞ্জুর আলম। উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, খুলনা জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মো: মিজানুর রহমান, ফায়ার-সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের খুলনা জেলার উপ-পরিচালক মোঃ মতিয়ার রহমান। এছাড়াও উক্ত সম্মেলনে বিপিএইচসিডিওএ, খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. গাজী মিজানুর রহমান এর সঞ্চালানয়ে “চিকিৎসা সেবায় বিদেশ নির্ভরতা কমানোর এখনই সময়’-এ প্রতিবাদ্য শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা হলেন হলেন জনাব অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির শিক্ষাবিদ ও নির্বাহী পরিচালক, সুন্দরবন একাডেমি, খুলনা, জনাব স্বপন কুমার গুহ নির্বাহী পরিচালক, রূপান্তর, জনাব রাফিউল ইসলাম টুটুল সদস্য সচিব, খুলনা প্রেস ক্লাব, জনাব শেখ আশরাফুজ্জামান সভাপতি, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি, খুলনা, জনাব নাজমুল আজম ডেভিড সাধারণ সম্পাদক, কনজুমারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), খুলনা শাখা ও জনাব শামীমা সুলতানা শিলু নারী নেত্রী ও নির্বাহী পরিচালক, মাসেস, খুলনা। সভায় বক্তরা বলেন বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের জন্য স্বল্পপুঁজিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসার সরঞ্জামাদীর আমদানীতে শুল্ক তুলে নেওয়া এবং দক্ষ্য জনশক্তি তৈরী করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিধান, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বক্তরা আরো বলেন মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরী হয়। অতএব, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকর্মীদের কাছে বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবায় ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার জন্য আহবান জানান।
সভায় বক্তরা আরো বলেন, চিকিৎসা সেবায় বিদেশ নির্ভরতা কমাতে পারলে অর্থনীতিতে এর নানামুখী সুফল পাওয়া যেত। এতে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারতো, যেখানে বাংলাদেশ চিকিৎসার উৎকর্ষতার মডেল হিসেবে বাংলাদেশ পরিণত হতো, দেশের সেরা মেধা ও সম্পদ ধরে রাখতে পারত এর প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত না পাশাপাশি এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ত, জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করত এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে, দেশের মানুষের মধ্যে মর‌্যাদা ও আত্মনির্ভশীলতার অনুভূতি পুনরুদ্ধার করত। এছাড়া মেডিকেল ট্যুরিস্টদের বিদেশমুখী প্রবাহ ঠেকাতে প্রতিরোধ-মূলক চিকিৎসা এবং করেতেই রোগ নির্মূলের ওপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জনস্বাস্থ্য প্রচারণা, প্রাথমিক চিকিৎসা অবকাঠামো এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক কর্মসূচীতে বিনিয়োগ অনেক রোগের স্থানীয় সমাধান করতে পারে, ফলে ব্যয়বহুল এবং রোগের শেষ পর‌্যায়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবনতা অনেকাংশ কমে আসবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩৫হাজার কোটি টাকার উর্দ্ধে বিদেশে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়। যার বেশীর ভাগই ভারতের দ্রুত-বর্ধনশীল স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করে। এই অর্থপ্রবাহ কেবল একটি আর্থিক বিষয় নয়-এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের সমস্যা, যাতে দেশের উন্নত সুযোগ-সুবিধার অবাব থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী দুর্নীতি ও অদক্ষ্য ব্যবস্থাপনার মতো ঘাটতিগুলোকে সামনে আনে। বিপিএইচসিডিওএ এর সকল সম্মানিত সদস্য প্রতিষ্ঠান কে মানবিক দিক গুলো বজায় রেখে ক্লিনিক ডায়াগনস্টিকের মান-উন্নয়নে এক সাথে কাজ করার আহবান জানান। সম্মেলনে আগত সদস্যদের মধ্যে আন্তরিকতাপূর্ণ পরিচয় ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, তাদের পেশাগত মান উন্নয়ন ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। মেডিকেল সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে ছিলো আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন নতুন উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতি সমূহ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন জেলা হতে আগত স্বনামধন্য চিকিৎসকগণ ও হাসপাতালের মালিকগণ পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। সম্মেলনে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক পরিচালনার সংকটগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং তার দূরিকরনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের দৃষ্টি আর্কষন করা হয়। মেডিকেল ট্রেড ফেয়ারে মেডিকেল ইকুপেমেন্টস কোম্পানির অত্যাধুনিক মেশিনারিজ বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শন করেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় ‘স্যুভিনির’ প্রকাশিত হয়। সম্মেলন শেষে আর্কষনীয় র‌্যাফেল ড্র’র আয়োজন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button