কেসিসি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাঃ সম্পাদক আবুল হোসেন কারাগারে

# সাবেক প্যানেল মেয়রের জামাতা হওয়ায় সকল আইন ছিল তার পকেটে #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাঃ সম্পাদক আবুল হোসেন মৃধাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনার বাড়ি ঘর ভাংচুর মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামী। তিনি কেসিসির সাবেক প্রভাবশালী প্যানেল মেয়র ও আ’লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম মুন্নার জামাতা। আদালতের পিপি এড. চৌধুরি তৌহিদুর রহমান তুষার বলেন, কেসিসির প্রকৌশলী আবুল হোসেন মৃধা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনার বাড়ি ভাংচুর মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। তিনি হাই কোর্টে জামিনের জন্য যান। এ সময় হাই কোর্ট তাকে জামিন না দিয়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নি¤œ আদালতে আতœসমার্পন করার জন্য আদেশ দেন। সেই আদেশ মতে আবুল হোসেন বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। তার পক্ষে ছিলেন এড. বিএম ফারুখ। যার মিস কেস নং-১৮২/২৫। জামিনের বিরোধীতা করেন পিপি তুষার। শুনানীয়ান্তে আদালতের বিচারক আলিম আল রাজিব জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন পিপি চৌধুরি তুষার। কেসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, আবুল হোসেন মৃধা কেসিসির পূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হলেও তিনি ছিলেন মাস্টাররোল কর্মচারী। পতিত সরকারের শাসন আমলে তিনি বেপরোয়া চলাফেরা করতেন। অফিস না করেই নিয়মিত বেতন নিতেন। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের তিনি পাত্তা দিতেন না। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মশিউজ্জামানের সাথে একাধিকবার করেছেন ঔদ্যোত্তপূর্ণ আচরণ। যা চাকুরিরবিধিমালা অনুযায়ী তার চাকুরি থাকার কথা নয়। তারপরও কেসিসির সাবেক প্যানেল মেয়র ও আ’লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম মুন্নার জামাতা হওয়ার কারণে সব নিয়ম কানুন ছিল তার পকেটে। তার অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদ কেউই করতে সাহস পেত না। তার ক্ষমতার অপব্যবহার এতই বেশী ছিল তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেও দ্বিধা করতেন না। এই আবুল হোসেন একজন সামান্য মাস্টাররোল কর্মচারি হয়ে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তিনি দামি দু’টি প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করেন। যা নিয়ে কেসিসির কর্মচারিদের মধ্যে রয়েছে নানা কথা। তিনি কখনও ছোট খাটো কাজের লেওয়ার্ড দিতে কাজের সাইডে যাইতেন না। তিনি ১৪নং ওয়ার্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলীর (এসও) দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে যখন তার শ্বশুর প্যানেল মেয়র ছিলেন তখন আবুল হোসেন তিনটি ওয়ার্ডের এসও’র দায়িত্ব পালন করতেন। ক্ষমতা পেয়ে তিনি সবাইকে হুমকি ধামকি দিতেন। তিনি কেসিসি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাঃ সম্পাদক পদটি অনেকটাই জোর করেই নেন বলে প্রকৌশলীরা জানান। এই পদের অপব্যবহার করেছেন তিনি অনেকবার।



