আন্তর্জাতিক

দুই দশক পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সাঁজোয়া যান

প্রবাহ ডেস্ক: দীর্ঘ দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনায় আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি সেনাবাহিনীকে জোর পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসবাদ দমনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন, যারা পালিয়ে গেছেন, তাদের প্রত্যাবর্তন এবং ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান- কোনওটিই হতে দেওয়া হবে না। ফিলিস্তিনি অঞ্চলে অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে ইসরায়েল। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুদিন পর ২১ জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরে জোরালো অভিযান শুরু করে তারা। পশ্চিম তীরে নিজেদের আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করতে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা। সেখানে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সামরিক শাসনের অধীনে বাস করেন। এর আগে, পশ্চিম তীরের কিছু শরণার্থী শিবির এলাকায় সেনাবাহিনীকে দীর্ঘদিন অবস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন কাটজ। ওইসব এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাণভয়ে পালিয়ে গেছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের পরবর্তী প্রজন্ম এই শিবিরগুলোতে বাস করেন। ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থানের কারণে কতোদিন পর্যন্ত তাদের ফিরতে বাঁধা দেওয়া হবে, এখনও তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। কাটজ বলেছেন, সেনাবাহিনী চলতি বছর পুরোটাই অবস্থান করতে পারে। নেতানিয়াহু বলেছেন, তারা যতদিন প্রয়োজন অবস্থান করবে। ২০০২ সালে শেষবার পশ্চিম তীরে সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। সেবার শক্তহাতে ফিলিস্তিনি আন্দোলন দমন করেছিল তেল আবিব। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানকে অবৈধ আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ আহ্বান করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে পশ্চিম তীরের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। জেনিন থেকে পালিয়ে আসা এক ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ আল-সাদি বলেছেন, ইসরায়েল সেখানে অবস্থান করলেও, আমরা একসময় ঠিকই ফেরত যাব। ওই ভূমি আমাদের অধিকার। আমাদের যাওয়ার আর কোনও জায়গা নেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button