স্থানীয় সংবাদ

যশোর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৫কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কাছে রেকর্ডপত্র তলব করেছে দূদক

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলসহ ৫ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে সড়ক ও মহাসড়কের সরকারি হাজার হাজার গাছ বিক্রি ও বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লোপাট, নিয়োগ বাণিজ্য,জমি ইজারা ও দোকান বরাদ্দের টাকা আত্মসাত পূর্বক নিজের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভ’ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দূর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়। তাদেরকে রেকর্ডপত্র সরবরাহ করনের জন্য দূর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ ও দূর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা,২০০৭ বিধি মোতাবেক চাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দূর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। যিনি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান সরদার ও সাবেক অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিনের সম্পদ বিবারনী চেয়ে ইতিমধ্যে দূর্নীতি কমিশন জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে তলব করে তাদের বক্তব্য গ্রহন করেছেন। বক্তব্য গ্রহনের সময় তাদের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব,জাতীয় পরিচয় পত্র ও স্থাবর অস্থাবর সম্পদের অবস্থানসহ তদন্তর স্বার্থে যা প্রয়োজন তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
দূর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তা গত ১২ ফেব্রুয়ারীর পর উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে যশোর-খুলনা,রাজারহাট-চুকনগর,যশোর-ঝিনেদা,যশোর-নড়াইল, গোড়পাড়া-শার্শা ও কায়েম কোলা-ছুটিপুর হয়ে বাঁকড়া পর্যন্ত সড়ক ও মহাসড়কের গাছ কাটা সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তর হতে প্রেরিত পত্র,গাছকাটা সংক্রান্ত জেলা পরিষদের মাসিক আলোচনা সভার আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্ত, গাছ কাটা সংক্রান্তে জেলা প্রশাসকের মাসিক সমন্বয় সভার-আলোচ্য বিষয়, সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশনের সত্যায়িত ছায়ালিপি,উক্ত সড়ক ও মহাসড়ক সমূহের গাছ কাটা সংক্রান্তে গঠিত পরিবেশ ও বণ বিভাগের প্রাক্কলন কমিটি এবং প্রাক্কলন ও মুল্য নির্ধারনী প্রতিবেদনের সত্যায়িত ছায়া লিপি, সড়ক ও মহাসড়ক সমূহের গাছ কাটা বিষয়ে পরিচালক (স্থানীয় সরকার) এর পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং গাছ কাটার অনুমোদনের সত্যায়িত ছায়ালিপি ও গাছ কাটা বিষয়ের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডারের সিডিউল,টেন্ডার ওপেনিং কমিটির নামের তালিকা ও কার্যবিবরনী,টেন্ডার প্রতিবেদন,কার্যাদেশ এর সত্যায়িত ছায়ালিপি চেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল,সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান সরদার ও অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিন জেলা পরিষদ যশোর কার্যালয়ে অবস্থান না করায় তাদের বর্তমান কর্মস্থলে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানাগেছে, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল,ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা লুৎফর রহমান সরদার ও অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিন জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ সুচতুর ভাবে আত্মসাত করেছেন। যে অর্থ দিয়ে তারা আলিশান বাড়ি নির্মাণ,কোটি টাকার মূল্যের জমি কেনাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে অর্থ রেখেছেন। সূত্রগুলো দাবি করেছেন, সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনের সুযোগে কোটি কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ সরকারী দপ্তর গুলোর অজানা নয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button