কুয়েট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ঃ হল ত্যাগের নির্দেশ

# শিক্ষকদের বাধার মুখে উপাচার্যের বাসভবনে
তালা না দিয়েই ফিরলেন শিক্ষার্থীরা #
# সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তের সময় ৭ দিন বৃদ্ধি #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের তালা ভাঙার ১৩ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ফের তালা দিতে যান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষকদের বাধার মুখে তালা দিতে না পেরে ফিরে যান তারা। কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফারুক হোসেন বলেন, ‘ মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সিনিয়র শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ তিনিও ভিসির বাসভবনে বৈঠকে ছিলেন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বজায় রাজাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এমন সময় ছাত্ররা ভিসির বাসভবনের প্রধান গেটে তালা লাগাতে সচেষ্ট হচ্ছিল। এ অবস্থায় সব শিক্ষক বেরিয়ে এসে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকদের কথা শুনে ছাত্ররা তালা না দিয়ে ফিরে যায়।’ শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার রাতে তালা ভাঙার পর তারা সেখানে যান। এরপর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে ভিসিকে বাসভবন ছাড়ার জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু সময় পার হলেও ভিসি বাসভবনেই থাকেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের প্রধান গেটে তালা লাগাতে সচেষ্ট হয়। এ সময় শিক্ষকরা তালা দিতে বারন করেন। এরপর তারা ফিরে আসেন। কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ জানান, তিনি চিকিৎসা নিয়ে সোমবার রাতে বাসভবনে এসেছেন। তিনি কোনও তালা দেখেননি। তাকে অফিস করতে হবে। অসুস্থতার কারণে তিনি বাসভবনেই বেশি সময় কাটান। অফিসের কাজও করছেন। উল্লেখ্য, কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঘিরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশত শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহতদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারী রাতে ছাত্ররা সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানান। দাবি না মানায় ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪টা থেকে কুয়েট উপাচার্যকে মেডিক্যাল সেন্টারে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থাতেই তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনলাইনে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি কুয়েটের সকল শিক্ষার্থী মিলে ভিসির বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত ১১টার দিকে ভিসি বাসভবনে প্রবেশ করেন। ভিসি আসার আগেই কে বা কারা তালা ভেঙে ফেলেছিল। এরপর শিক্ষার্থীরা ভিসিকে বাসভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। এদিকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে আরও ৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি এবং কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এম. এ. হাসেমের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম (জরুরী) সিন্ডিকেট সভায় এই কমিটি গঠন করে তাদের ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারী ছিল প্রতিবেদন দাখিলের শেষ দিন। ওই দিনই সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করে। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সিন্ডিকেটের ৯৯তম জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কুয়েটের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা ডিভিশনের পাবলিক রিলেশনস অফিসার শাহেদুজ্জামান শেখ। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।



