দেশজুড়ে পুলিশের টহল টিম নামা সত্বেও ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া

# কেরাণীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নারী নিহত
# চট্টগ্রামে ছিনতাইকারীদের ডেরায় হানা দিতে গিয়ে দুই পুলিশ ছুরিকাহত #
# ওয়ারীতে ছিনতকারীরা ছুরিকাঘাত করে ব্যবসায়ীর ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে
প্রবাহ রিপোর্ট : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যপী জোরদার করা হয়েছে পুলিশি কার্যক্রম। ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০টি থানা এলাকায় ৫০০টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করেছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫৪টি পুলিশি চেকপোস্টসহ সিটিটিসি, এটিইউ, এপিবিএন ও র্যাবের টহল টিম দায়িত্ব পালন করেছে। এত টিম থাকা সত্বেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে সীমা বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। সীমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, সন্ধ্যার দিকে আমার মেয়েকে কোচিং থেকে নিয়ে ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা আমার স্ত্রীকে কুপিয়ে তার কাছে থাকা ২ হাজার টাকা ও তার কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে আমি খবর পেয়ে তাকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জানায় আমার স্ত্রী আর বেঁচে নেই।
পুলিশ বলছে নিয়মিত ছিনতাই হয় রাজধানী ঢাকার ২৫ স্পটে, এসব স্থানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ছিনতাইকারীরাও তো এই সংবাদ দেখছে, তারা কি ওই স্থানে যাবে ছিনতাই করতে প্রশ্ন করলেন নাম প্রকাশে একজন স্কুল শিক্ষিকা। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, কেরানীগঞ্জ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সীমা নামে এক নারীকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর গতকালই ওয়ারীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৭০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর ওয়ারীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আবু কায়সার ভুবন (৩২) নামে এক জুতা ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বনগ্রাম দিলিপ মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
আহত ব্যবসায়ী বংশালের আলু বাজার পুকুরপাড় এলাকার আবু সায়েমের ছেলে।
আহত ভুবনের বাবা আবু সায়েম জানান, আমার ছেলে জুতার ব্যবসা করে। আজ সন্ধ্যার পর রিকশায় করে বনগ্রামের দিলিপ মাঠ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা তার গতি রোধ করে। এসময় তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিতে চাইলে সে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে দুই হাতে পিঠে ও বাম পায়ে গুরুতর জখম করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ওয়ারী থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যবসায়ীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। আহত ওই ব্যক্তির বাবা জানায়, ছিনতাইকারীরা তার ছেলেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বর্তমানে জরুরি বিভাগের তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় হামলার শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর বারিকবিল্ডিং মোড়ে ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা একটি খালি জায়গায় একটি টিনশেড ঘরে ছিনতাইকারীদের ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানেই দুই পুলিশ সদস্যের ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে লুটকৃত টাকা, ছিনতাই-ডাকাতির সরঞ্জাম এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই জায়গায় ছিনতাইকারীদের আস্তানার কথা ছিল ‘ওপেন সিক্রেট’। সদরঘাট, বন্দর ও ডবলমুরিং থানা পুলিশেরও জানা ছিল বিষয়টি।
আহত দুজন পুলিশ সদস্য হলেন ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল এবং নজরুল। আটক দুই ছিনতাই চক্রের সদস্য হলেন তারেক এবং জুয়েল।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর আসে বারিকবিল্ডিংয়ে পেশাদার ছিনতাইকারীদের আস্তানা রয়েছে। সেই খবরে ঘটনাস্থলে যান ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক জামিল এবং নজরুল। সেখানে গিয়ে তারা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পান এবং ছিনতাই চক্রের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এরপর তারা ওই চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান চালালেই ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এরপর ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ গিয়ে দুইজনকে আটক করে এবং আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে নগর পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনির, মেহেদী, তারেক, জুয়েল, রাজু, ভান্ডারি এবং রবি এখানে বসে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যেসব সরঞ্জাম নিয়ে তারা ডাকাতি করে সেগুলো তারা প্রস্তুত করছিল। তারা মূলত ছিনতাই-চুরিই করে। অপরাধমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে অর্জিত টাকাগুলো তারা এখানে ভাগ-বাটোয়ারা করছিল। আমাদের ডবলমুরিং থানার টিম এখানে এসে দুইজনকে আটক করে। বাকি অন্যান্যরা আমাদের দুজন পুলিশ সদস্যকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। তাদেরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।’ দেশবাসীর মনে কি তাহলে প্রশ্ন থাকে না প্রশাসনের অপারেশন চলা সত্বেও কিভাবে ছিনতাইকারী, ধর্ষণকারীরা বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে?



