মুমিনের দুয়ারে কড়া নাড়ছে ‘মাহে রমজান’

# রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সু-সংবাদ নিয়ে আসছে মাহে রমজান #
# পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে মুসলিম উম্মেহার মাঝে চলছে সাজ সাজ রব #
মো. আশিকুর রহমান : মহিমান্বিত, বরকতময়, সংযম ও ধৈর্যের বার্তাবাহী মাস রমজাজানুল মুবারক, আত্মশুদ্ধি, নৈতিক প্রশিক্ষনের মাসও মাহে রমজান। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ফরজ হুকুম পালনে প্রতিবছরই এই পবিত্র ও অত্যন্ত বরকতময় মাসটি আসে মুসলমানদের জীবনকে আত্মশুদ্ধি এবং পাপমুক্ত করার জন্য। মুমিনের দুয়ারে কড়া নাড়ছে ‘মাহে রমজান’, আগামী ১ মার্চ (শনিবার) হতে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজানুল মুবারক (চাঁদ দেখার উপর নির্ভর)। মহান ¯্রষ্টার ফরজ হুকুম পালনে মাহে রমজানকে ঘিরে মুসলিম উম্মেহার মাঝে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। ইসলামী নীতি নির্ধারকরা বলছেন, রমজান ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসে ইবাদত-বন্দেগীর সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বারতা নিয়ে আসে রমজান। পবিত্র কোরআন নাজিলের কারণে রমজান হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। মানব জাতির কল্যাণ লাভসহ এ মাসে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও শান্তির বারিধারা বর্ষিত হয়। মহিমান্বিত এ মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অনেক উর্ধ্বে। দীর্ঘ এগারো মাস পর মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি ও পাপ মার্জনার জন্যই রমজানের আগমন ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) নগরীর নগরীর ডাকবাংলা, শিববাড়ী, শিববাড়ী, ফেরীঘাট, নিউমার্কেট, ময়লাপোতা, সাতরাস্তার মোড়, গল্লামারী, নিরালা, জিরোপয়েন্ট, রূপসা, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর দৌলতপুর, রেলিগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনি এলাকাসহ স্থানীয় এলাকা ঘুরে বিভিন্ন বয়সী, পেশাজীবি মানুষের সাথে মাহে রমজানের বিষয়ে জানা গেছে নানা প্রতিক্রিয়া। একই সাথে মাহে রমজানের গোটা মাস আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে কিভাবে চলাফেরা করতে হবে তার বিষয়ে একাধিক আলেম ওলামা মতামত জানিয়েছেন। স্কুল ছাত্র তাসনিমুর রহমান আরিক জানান, যতই কষ্ট হোক প্রতিটি রোজা রাখবো। কারন ছোট বেলা হতে দেখছি পরিবারের সকলেই রোজা রাখেন। আমিও রোজা রাখতে চাই। রোজার মাসে আলাদা মজা, বিশেষ করে ইফতার ও সেহরীর সময়ে। রিক্সা চালক আবুল হাসান বলেন, রিক্সা চালিয়ে রোজা রাখা খুবই কঠিন ব্যপার। তারপরও একটি বছর রোজা আসে। রোজা আল্লাহর মহান হুকুম। যতই কষ্ট হোক না কেন, সবকটা রোজা রাখবো, ইনশাল্লাহ। আল্লাহ যেন সুস্থ শরীরে রোজা রাখার তৌফিক দেন। গৃহিনী আছিয়া বেগম জানান, দিনের বেলায় রান্না-বান্না কাজ নেই। আল্লাহ যেন সুস্থ শরীরে গোটা মাসের রোজাসহ ফরজ ও নফল ইবাদত করতে পারি। আল্লাহ যেন রোজায় বেশি বেশি আমল করতে পারি। দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান শুভ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমাজান। রমজানের স্বাদই আলাদা। বিশেষ করে তারাবিহ, ইফতারী, সেহরীর সময়। এছাড়া রোজার মাসে খারাপ কাজ হতে দূরে থাকা যায়। একদিন পরেই রোজা, সুতারং-সেহরী, ইফতারী, তারাবী প্রতিটি জিনিসের জন্য নেয় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
হাফেজ মাওঃ আব্দুর সবুর খান জানান, রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বারতা নিয়ে আসে রমজান। পবিত্র কোরআন নাজিলের কারণে রমজান হয়েছে সর্বশ্রেষ্ট। এ মাসের প্রতিটি মুহুর্ত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ন ও রহমতময় পাপাচারে যাদের জীবন অতিষ্ট, রোজা তাদের ক্ষমা ক্ষান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, আর মুমিনের জন্য কাংক্ষিত হাফেজ মাওলানা আঃ সবুর খান জানান, রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বারতা নিয়ে আসে রমজান। পবিত্র কোরআন নাজিলের কারণে রমজান হয়েছে সর্বশ্রেষ্ট। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ন ও বরকতময় পাপাচারে যাদের জীবন অতিষ্ঠ, রোজা তাদের ক্ষান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আর মুমিনের জন্য কাঙ্খিত সফলতা হাতছানি দিতে থাকে। এ মাসের বরকতে ক্ষমার অঙ্গীকার করেছেন আল্লাহ। রমজানের প্রাপ্তি ও সুফল নিশ্চিত হওয়ার পূর্বশর্ত হলো, এ মাসের মর্যাদা যথাযথভাবে আদায় করা উচিৎ। একজন মুসলমান হিসাবে মহামান্বিত এই মাসে সকল গুনাহ্রে কাজ হতে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। দৌলতপুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেন- রোজা আমার জন্যই, আমি নিজে তার প্রতিদান দেব। মাহে রমজান কোরআন নাজিলের মাস। এই মাসে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বান্দার জন্য অফুরন্ত নিয়ামত রেখেছেন। রমজানে ইবাদতের পরিবেশ তৈরি এবং পবিত্রতা রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। রমজান মাস ইবাদত, আল্লাহর নৈকট্য লাভ, ঈমান নবায়ন এবং গোনাহ মাফের মাস। যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারল না, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। তাই এই মহিমান্বিত মাসটি কীভাবে কাটাবেন, আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন।



