খালিশপুর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন দিচ্ছে না ঃ দিচ্ছে না হিসাব

স্টাফ রিপোর্টারঃ নগরীর খালিশপুর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন দেয়া নিয়ে টালবাহানা করছে বর্তমান কমিটি। এমন কি গত তিন বছরে তারা কমিটির কোন আয় ব্যয় হিসাব দেয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। খালিশপুর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মিনহাজুর রহমান উজ্জল জানান, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ত্রি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এ সময়ের পরও তারা বাজারের নির্বাচন দেয়ার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহন করছে না। এতে করে বাজারের ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছেন। আরেক ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, এ কমিটি ক্ষমতা গ্রহণের সময় বলেছিল প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর তারা বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে বসে হিসাব দিবে। কিন্তু গত প্রায় সাড়ে তিন বছরেও তারা কোন হিসাব দেয়নি। বিগত ৫ আগস্টের আগে হিসাব চাইলে দলীয় ভয় দেখাতো। আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সমিতির শ্রম অধিদপ্তরের অডিট বাকী ৬ বছরের। কমিটি কোন অডিট না করিয়ে দিব্বি নিয়মিত চাঁদা তুলছে। দিচ্ছে না আয় ব্যয়ের কোন হিসাব। বিগত দিনে হিসাব চাইলে দলীয়ভাবে হুমকি দিত। কারণ বর্তমান কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন আ’লীগ নেতা। সভাপতি চাঁদা তুলে বাজার করে খায়। প্রতি মাসে বাজার থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। কিন্তু এ টাকার কোন হিসাব দিতে নারাজ কমিটির লোকজন। এ সমিতির কোন কর্মকান্ড নেই। পারিবারিক সমিতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান কমিটির নির্বাহী সদস্য মোঃ সেন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত তিন বছরে কমিটির মিটিং করেছে ৭/৮টি। বাজারের ব্যবসাযীদের নিয়ে কোন মিটিং করেনি। ৩১৬ জন ভোটার রয়েছে এ মার্কেটে। সমিতির মাসে আয় হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু এ টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় করছে তা সমিতির কর্তা ব্যক্তিরা বলতে নারাজ। জিজ্ঞাসা করলে উল্টো কথা বলে। কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও তাদের নির্বাচন দেয়ার ব্যাপারে কোন চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। বাজারের ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বাতিল, নির্বাচন করা ও হিসাব নিকাশের দাবি জানিয়েছেন। সমিতির সাঃ সম্পাদক আল আমিন বলেন, সভাপতি আনোয়ার হোসনের নিকট একাধিকবার নির্বাচন ও হিসাব দেয়ার ব্যাপারে কথা বললেও তিনি আমলে নেননি। সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, শিগগিরই নির্বাচনের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সাথে বসা হবে। বিগত তিন বছরে ব্যবসায়ীদের সাথে একাধিকবার বসা হয়েছে। মাসে বাজার থেকে ১৬/১৭ হাজার টাকার মত আয় হয়। তার চেয়ে মাসে বেশী ব্যয় হয়। সব ব্যবসায়ীরা নিয়মিত চাঁদা দেন না। অনেকের চাঁদা বকেয়া রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেসব অভিযোগ করেছে তা সব কিছুই সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।



