নগরীর দৌলতপুরে সজিব মৃত্যুর রহস্য এক বছরেও উদঘাটিত হয়নি

# সন্তানহারা মায়ের কান্না ধামছে না #
স্টাফ রিপোর্টারঃ নগরীর দৌলতপুর ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড জুড়ে গড়ে উঠেছে দাশ পাড়া। সমাজে পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীর মানুষেরা এক সাথে বসবাস করেন। ওই পাড়ায় সবার প্রিয় ছিলেন সজিব দাশ (২০)। পুরো পাড়ার বড়দের ¯েœহের পাত্র আর বন্ধুদের ভাল সাথী ছিলেন। বিপদে আপদে যেন সবার পাশে থাকাটাই তার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। সবাইকে কাদিয়ে অকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সজিব। কিছু দিন প্রতিবেশী আর বন্ধুরা খোঁজ খবর রাখলেও সময়ের ব্যবধানে এখন আর রাখছে না। নিরবে নিভৃতিতে কেটে গেল সজিব মৃত্যুর এক বছর। তবে সন্তান হারা মা বাসন্তি রাণী এখনও ছেলের স্মৃতি ধরে বেঁচে আছে। মায়ের অবুঝ মন সজিব দুনিয়াতে নেই তা মানতে নারাজ। এখনও তিনি ঘুমের ঘরে চিৎকার করে ওঠেন-“বাবা দারা দরজা খুলছি”। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে সজিবের দেখা মেলে না। কিছুক্ষণ কান্নাকাটির পর আবারও ঘুমিয়ে পড়ের চীর দুখি বাসন্ত রাণী। কে থামাবে দুখী বাসন্তি রাণীর কান্না। তরতাজা সন্তান হারা মায়ের দুঃখ কে বুঝবে। কারণ সজিব প্রতিদিন সেলুনে কাজ শেষ করে রাত করেই বাসায় ফিরতো। সজিবের পরিবার গত এক বছরেও জানতে পারলো না এই মৃত্যুর রহস্য। তারা ধারণা করছেন, তাদের আদরের সন্তান সজিবকে কেউ কৌশলে হত্যা করেছে অথবা আতœহত্যা করতে বাধ্য করেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে-আসল ঘটনা কি? কিন্তু ভিকটিম পরিবার গত এক বছরেও তার খোঁজ পায়নি। দৌলতপুর দেয়ানা দাশপাড়ার সরদার লেনের সাথে পিন্টু দাসের নিজ বাড়ি। পিন্টু দাশের দিনের বেশীরভাগ সময় কাটে খালিশপুর নয়াবাটি মোড়ে পশুপাখির দোকানে খাবার বিক্রি করে। দু’ সন্তান আর স্ত্রী বাসন্তিকে নিয়ে সুখেই দিন যাচ্ছিল। বড় সন্তান খুলনা নগরীতে একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরি করে। আর ছোট সন্তান সজিব মুচিপাড়া মোড়েই সেলুন দেন। ছোট সংসার চলছিল ভালই। সজিব এরই মধ্যে খুলনা বিজেপি ক্যাম্পের ভিতর সেলুন দেন। আর একুটি ভাল আয় করার উদ্দেশ্যে সজিব ঠিকাদারের মাধ্যমে পটুয়াখালি জেলার দুমকী থানা এলাকায় সেলুনে কাজ করতে যান। ঠিকাদার শাহিন তাকে ফুসলিয়ে ওই এলাকায় নিয়ে যান। গত বছর প্রথম দিকে সে পটুয়াখালিতে যান। কাজ করতে থাকেন। কিন্তু তার পিছনে লেগে যায় একটি সংঘবদ্ধচক্র। যারা নানা অজুহাতে ভয় ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। চক্রটির কারণে সজিব খুলনা ছাড়লেও চক্রটি তাকে ছাড়েনি। নিয়মিত মোবাইল করে ভয় ভীতি দেখিয়ে টাকা নিত। এ চক্রের কারণে সজিব আতœহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে বলে মা বাসন্তি রানী মনে করেন। অথবা কেউ তাকে কৌশলে হত্যা করেছে বলে তিনি মনে করেন। ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ সজিবের মরদেহ গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পটুয়াখালি দুমকী থানা পুলিশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরিবারের লোকজন লাশ খুলনায় এনে দাহ করে। তখন থেকেই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার জন্য তারা থানা পুলিশের সাথে ও ঠিকাদেরর সাথে যোগাযোগ করে চললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো একটি মহল কৌশলে সজিবের মা বাবার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নেন। বিষয়টি রহস্যজনক হলেও ঘটনার পরপরই মা-বাবা ছিল পাগল প্রায়। সেই সুযোগটি চক্রটি কাজে লাগিয়েছে বলে বাসন্তি রানী মনে করেন। এদিকে দুমকী থানার ওসি মোঃ আঃ ছালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন জানান। অন্যদিকে সজিবের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার তাদের বাড়িতে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।



