স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ঈদকে সামনে রেখে দর্জি বাড়ির ব্যস্ততা তুঙ্গে

কামাল মোস্তফা ঃ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের আর বাকি মাত্র ক’দিন । এ উৎসবকে ঘীরে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিদের। ফ্যাশন-সচেতন আর রুচিশীল ব্যক্তিরা ছুটছেন দর্জি বাড়িতে। ফলে কাজের চাপে রীতিমত ঈদের দশ দিন আগেই ক্রেতাদের অর্ডার নেয়া বন্ধ করেছেন তারা। দিন রাত এক করে আয় বাড়াতেই কাজ করছেন খুলনা মহানগর জেলার বিভিন্ন উপজেলার সেলাই কারিগররা।। চাঁদ রাতের আগেই ক্রেতারাদের হাতে পোশাক তুলে দিতে চেষ্টার অন্য নেই তাদের।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি পিস প্যান্ট সেলাই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সালোয়ার কামিজ ২৫০-৪০০ টাকা, ব্লাউজ ১৫০, ব্লাউজ (ডবল) ৩০০, পেটিকোট ১০০, ম্যাক্সি ১২০ থেকে ১৩০, গাউন ৩০০ থেকে ৪০০, বোরকা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙ্জাবী ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের ভিআইপি টেইলার্সের মালিক ইব্রাহিম জানান, গরমের সময় হওয়ায় এবার ঈদে সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি। বড়দের শার্ট এবং পাঞ্জাবীর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি মহিলাদের সেলোয়ার কামিজের অর্ডার রয়েছে বেশি। তবে অর্ডার নেয়া বন্ধ করেছি ১৫ রোজা থেকে। ঈদের আগে কাস্টমারদের হাতে পোষাক তুলে দিতে কারিগররা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এতে তাদেরও কিছু বাড়তি ইনকাম হচ্ছে। ভিআইপি টেইলার্সে নতুন জামা বানাতে এসেছেন রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, দশম রোজায় দুটি নতুন জামা বানাতে দিয়েছিলাম। আজ ডেলিভারি নিতে এসেছি। নতুন কাপড় পেয়ে ভালো লাগছে। বটিয়াঘাটা বাজারের স্বপন ফ্যাশন হাউজের স্বাত্বাধিকারি বিনয় কৃষ্ণ বলেন, সারা বছরের তুলনায় এই সময় সেলাই করা কাপড়ের চাহিদা বেশি থাকে। বাচ্চাদের তুলনায় বড়দের কাপড়ের অর্ডার বেশি। আমার দোকানে দশজন কারিগর কাজ করে। ঈদকে ঘিরে কারোরই দম ফেলার ফুসরত নেই। তরে রয়েছে ব্যতিক্রমী চিত্রও। স্বপন ফ্যাশন হাউজ থেকে ত্রিশ গজ দূরে সালেহা টেইলার্স। মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য দোকান থেকে তার দোকানে ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা কম। কারণ হিসেবে তিনি জানান, পুঁজি কম থাকায় দোকানে নতুন ডিজাইনের বেশি কাপড় উঠাতে পারিনি। ফলে কাস্টমার যে দোকান থেকে পছন্দমত কাপড় কিনে বেশিরভাগ সময় সেখানেই সেলাই করতে দেয়।
ডুমুরিয়া বাজারের একটি স্বনামধন্য কাপড় সেলাইয়ের দোকানে কাজ করেন মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, কাজের চাপ অনেক বেশি। ঈদেও দিন ভোর রাত পর্যন্ত কাজ করা লাগবে। দুই ঈদের ভিতর রোজার ঈদেই চাপ বেশি থাকে। এসময় প্রতিদিন ১০০০-১৫০০ টাকা পাই। অন্য সময়ের তুলনায় ইনকাম বেশি হয়।
এদিকে খুলনা মহানগরীর কয়েকটি টেইলার্স ঘুরে দেখা যায়, একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজ পাশেই চলছে মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটা। ফরমায়েশ নেয়া হচ্ছে নতুন পোশাকের। রমজানের শেষ সময়ে এসে মহাব্যস্ত হয়ে উঠেছে দর্জিবাড়ি। বিরতিহীন সেলাই মেশিনের যান্ত্রিক শব্দ বলছে, দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। আর এ ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। নগরীতে প্রতি পিস প্যান্ট সেলাই ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শার্ট ৫০০-৫৫০ সালোয়ার কামিজ ৩০০ টাকা, ব্লাউজ ১৭০, ব্লাউজ (ডবল) ৩০০, পেটিকোট ১০০, ম্যাক্সি ১২০ থেকে ১৩০, গাউন ৩০০ থেকে ৪০০, বোরকা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
খুলনার গণমাধ্যমকর্মী নুরুজ্জামান জানান, ঈদকে সামনে রেখে নিজের জন্য একটি পাঞ্জাবী সেলাই করাতে গিয়েছিলাম টেইলার্সে। কিন্ত ব্যস্ততার কারণে ঈদের আগে আর অর্ডার নেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তারা। নগরীর আখতার চেম্বারের ফেমাস টেইলার্সের মালিক বলেন, গতবারের মতো এবারও অর্ডার বেশি। ঈদের এই সময়টা অর্ডার বেশি আসে। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কারিগর বাড়িয়েও কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক টেইলার্সের মালিক বলেন, ক্রেতা খরায় ভুগছে। তাদের কাজের ব্যস্ততা বছরের অন্য দিনের মতোই। তাদের অভিযোগ, আগের মত এই পেশায় মানুষ থাকতে চায় না। কারণ সব কিছুর দাম বাড়লে ও আমাদের মজুরি বাড়েনি। আর মানুষ রেডিমেড জামা কাপড় এখন বেশি কেনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button