বিদেশে চাকরির নামে ফেইথের প্রতারণার ফাঁদ

# চাকরি ও শিক্ষার্থী পাঠানোর সাইনবোর্ডে বাণিজ্য
# ফতুর প্রবাসীরা চান পরিত্রাণ
মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : কাজী তরিকুল ইসলাম। দেশের নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে কর্মজীবন চালানো এই যুবক বছর তিন আগে স্বপ্ন দেখেন পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর। মনোগ্রাহী বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন, ‘ফেইথ ওভারসিজ লিমিটেড’ নামে এজেন্সির সঙ্গে। বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রোসেসিং ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করে থাকে এজেন্সিটি।
জব ভিসায় যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে পৌঁছে দেওয়ার নিরাপদ এজেন্সি দাবি করা ফেইথ ওভারসিজকে কয়েক দফায় মোট ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেন তরিকুল ইসলাম। ফেইথ ওভারসিজ এই অর্থ গ্রহণ করে তিনটি ভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। চুক্তি অনুযায়ী টাকার লেনদেন শেষ হওয়ার পর প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবার নিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান তরিকুল ইসলাম।
ইংল্যান্ডে পৌঁছে স্বপ্নের সিঁড়ি শুরু হওয়ার কথা ছিল তারিকুলের। তা হয়নি। স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। তরিকুলের অভিযোগ, চুক্তিপত্র অনুযায়ী ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর পর চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা তার; কারণ জব গ্যারান্টির শর্ত ছিল। কিন্তু ফেইথ ওভারসিজ তাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে ব্যর্থ হয়।
২০২৩ সালে সেদেশে পৌঁছানোর পর চাকরির ব্যবস্থা না করে দুই বছর ধরে ফেইথ ওভারসিজ কথার ফাঁদে ফেলে ঘুরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তরিকুল। এই মাসে, না- সেই মাসে; এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে; ধৈর্য ধরতে হবে; এমন সব কথার জাল বুনে যাচ্ছে তারা।
তরিকুল বলছেন, এই অবস্থায় ইংল্যান্ডে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম হতাশা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। এখন স্পন্সরশিপ এবং চাকরি না হলে যেকোনো সময় অবৈধ অভিবাসী হয়ে গ্রেপ্তার অথবা দেশে ফিরে আসতে হতে পারে তাকে।
তরিকুল ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি এবং স্টুডেন্ট ভিসায় লোক পাঠানোর নামে ফেইথ ওভারসিজের বিরুদ্ধে প্রতারণার আরো কিছু অভিযোগ এসেছে এই প্রতিবেদকের কাছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নকে পুঁজি করে রঙচঙা বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ফেইথ ওভারসিজ।
অবশ্য ফেইথ ওভারসিজ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা প্রতারণা করছে না। তবে নানা কারণে অনেককেই বিদেশে পাঠানো যাচ্ছে না বা বিদেশে পাঠানোর পর সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব সমস্যা সমাধানে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে স্বপ্নভঙ্গ তরিকুল ইসলামের : কাজী তরিকুল ইসলাম খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। জব ভিসা নিয়ে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য তিনি যোগাযোগ করেন ফেইথ ওভারসিজের সঙ্গে। তাদের প্রধান কার্যালয় ঢাকার উত্তরায়। সেখান থেকে জানতে পারেন খুলনায় তাদের বাসার পাশে সোনাডাঙ্গার মসজিদ স্মরণীর জাহাঙ্গীর টাওয়ারে ফেইথ ওভারসিজের শাখা অফিস রয়েছে। এই অফিসের ইনচার্জ ও মালিক পরিচালক জর্জ মিথুন রায়।
জর্জ মিথুন রায়ের সঙ্গে তারিকুলের যোগাযোগ হলে তিনি ফেইথের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেন। তরিকুল ইসলামকে তিনি বোঝান, তার নিজ এলাকায় এজেন্সির অফিস, তিনিও (জর্জ মিথুন রায়) খুলনার বাসিন্দা। ফলে অবিশ্বাসের কিছু নেই। ফেইথ ওভারসিজ বিশ্বস্ততার সঙ্গে জব ভিসার গ্যারান্টি দিয়ে যুক্তরাজ্যে লোক পাঠায়।জর্জ মিথুন রায়ের ওপর আস্থা রেখে ফেইথ ওভারসিজকে তিন দফায় ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেন তরিকুল ইসলাম।
২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তরিকুল পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে। এক মাস পর ১৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ও কন্যাকেও নিজ খরচে সেখানে নিয়ে যান তিনি। তরিকুল বলছেন, তারপর শুরু হয় তাদের বিড়ম্বনা, অনিশ্চয়তা ও হতাশার জীবন।
ফেইথ ওভারসিজ কথা রাখেনি বলে মন্তব্য করে তরিকুল বলেন, সব সঞ্চয় শেষ; ধারদেনায় ডুবে যাচ্ছেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ফিরেও আসতে পারছেন না। এখন কীভাবে সেদেশে থাকবেন। দিশেহারা তরিকুল ফেইথের ‘প্রতারণার ফাঁদ’ থেকে পরিত্রাণ চান; যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা চান।
তরিকুলের জন্য বড় ধাক্কা, চাকরির নামে প্রতারণা :তরিকুল ইসলামকে যুক্তরাজ্যের ওয়েসিস (ওয়াসিস) প্রাইভেট কেয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ‘কেয়ার গিভার’ পদে চাকরি দেওয়ার শর্তে সেদেশে পাঠায় ফেইথ ওভারসিজ। ওয়েসিসের ঠিকানা ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারে।
২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর পরই সরাসরি তরিকুল তার কর্মস্থল ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরের ওয়েসিস প্রাইভেট কেয়ার লিমিটেডে যান। প্রথম দর্শনেই হতাশ হন তিনি। অল্পসংখ্যক লোকজন নিয়ে পরিচালিত কোম্পানিতে গেলে চাকরিতে যোগদানের বিপরীতে তাকে প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অনলাইনে।
তরিকুল ইসলাম আশাবাদী হয়ে শুরু করেন প্রশিক্ষণ। প্রথম দফায় এক মাস দশ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ করেন তিনি। আবার প্রশিক্ষণের মডিউল ধরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। এভাবে একটির পর একটি প্রশিক্ষণের পর কেটে যায় ছয় মাস। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে মেলে না কোনো আশার বার্তা।
আশার প্রহর গুনতে গুনতেই হঠাৎ একটি খবরে চমকে ওঠেন তরিকুল। জানতে পারেন, প্রতারণার দায়ে ওয়েসিস প্রাইভেট কেয়ার লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। অথচ এই প্রতিষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, এখানেই তার চাকরি হওয়ার কথা।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) থেকে ই-মেইলে তরিকুলকে নোটিশ পাঠিয়ে জানানো হয়, অন্য কোম্পানিতে স্পন্সরশিপ নিয়ে চাকরি করার জন্য। তরিকুলের ভাষ্য- তার তো চাকরিই নাই। এই অবস্থায় দুর্বিপাকে পড়ে যান তিনি।একদিকে স্ত্রী-সন্তানের ভরণ-পোষণ, নিজের খরচ ও বাসা ভাড়াসহ সেখানে থাকার ব্যয়ভার, অন্যদিকে স্পন্সরশিপ ও চাকরি জোগাড় করা; এসব ভেবে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েন তিনি। ফেইথের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করেন তরিকুল ও তার পরিবার।বর্তমানে কোনো রকমে লুকিয়ে চুরিয়ে ‘ক্যাশ ইন হ্যান্ডে’ কাজ করছেন তরিকুল। স্ত্রীকেও একটি কাজ জোগাড় করে দিয়েছেন। এভাবে কেটে গেছে দুই বছর। প্রতি মাসে ২ হাজার পাউন্ড (তিন লাখ টাকা) খরচ যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দেশে স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ করে চলতে হচ্ছে তাদের।
বিকল্প কোনো পথ নেই তরিকুলের : কাজী তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ফেইথ ওভারসিজ স্পন্সরশিপ এবং শতভাগ জব গ্যারান্টিসহ তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর পর তিনি ট্রেনিংসহ তাদের সব নিয়ম মেনে সেখানে অবস্থান করছেন। তবে সেদেশে দুই বছরের মধ্যে তাকে এক ঘণ্টার জন্যও চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়নি ফেইথ ওভারসিজ। উপরন্তু, ওয়েসিস প্রাইভেট কেয়ার নামে যে প্রতিষ্ঠানে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা, প্রতারণার দায়ে সেটির লাইসেন্স বাতিল হয়েছে।
তরিকুল ইসলাম বলেন, ওয়েসিস প্রাইভেট কেয়ারে যাতায়াত করার সুবাদে তিনি জানতে পেরেছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আট শতাধিক লোক এই প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে এসেছেন। অথচ কাজ করছেন মাত্র ৫০-৬০ জন। তাদের লাইসেন্সও বাতিল হয়েছে। ফলে চাকরি তো দূরে থাক, এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করাই তরিকুল ও তার পরিবারের জন্য সমূহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তরিকুল ইসলামের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী ফেইথ ওভারসিজ তার চাকরির ব্যবস্থা করেনি। তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব আবাসনে থাকার ব্যবস্থার জন্য ফেইথ ওভারসিজ তার কাছ থেকে বাসা ভাড়া বাবদ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছে; যার পুরো লেনদেনই প্রতিষ্ঠানের খুলনা শাখার ইনচার্জ জর্জ মিথুন রায়ের মাধ্যমে হয়েছে।
তরিকুল ইসলাম বলছেন, “ফেইথ ওভারসিজের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমি চাই, তারা দ্রুত আমার চাকরির ব্যবস্থা করে দিক। না হলে এই এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপসহ আমার পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব, সবই করব।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে তরিকুল বলেন, “ফেইথ ওভারসিজ আমার জীবন থেকে শুধু দুটি বছর নষ্টই করেনি, তারা আমার জীবন-সংসার পাঁচ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, ঋণের জালে ডুবিয়ে দিয়েছে। দুই বছরে আর্থিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাকে অন্য একটি স্পন্সরশিপে ট্রান্সফার করে দিক অথবা ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমার অর্থ ফেরত দিক। আর বিকল্প কোনো পথ নেই।”
ফেইথ ওভারসিজ যা বলছে :ফেইথ ওভারসিজ লিমিটেডের খুলনা শাখার অফিসে যোগাযোগ করলে সানজিদা নামের একজন নারী ওই অফিসের কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, তারা বিভিন্ন দেশে চাকরি এবং স্টুডেন্ট ভিসায় লোক পাঠিয়ে থাকেন। যুক্তরাজ্যে যেতে কেমন খরচ হয়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮ থেকে ২০-২২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হয়। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
খুলনা শাখা অফিস ইনচার্জ এবং ফেইথ ওভারসিজ লিমিটেডের পরিচালক (এডমিন) জর্জ মিথুন রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা তরিকুল ইসলামকে ইউকেতে (যুক্তরাজ্যে) পাঠিয়েছি। সেখানে স্পন্সরশিপ এবং জব গ্যারান্টির চুক্তি ছিল। সে অনুযায়ী তিনি ইউকেতেও যান। কিন্তু সেখানকার কোম্পানির নিয়ম-নীতি অনুযায়ী তিনি সব শর্ত পূরণ করতে না পারায় চাকরি হয়নি।”
তরিকুল ইসলাম কী কী নিয়ম-নীতি মানেননি, জানতে চাইলে উদাহরণ হিসেবে জর্জ মিথুন রায় বলেন, তাকে (তরিকুল) কোম্পানি থেকে দূরে অন্য শহরে যোগদানের কথা বলা হয় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তা করেননি।
তরিকুল ইসলাম বলছেন, “আমাকে ইংল্যান্ডের ভেতরে চাকরি দেওয়ার কথা, ওয়েসিস কেয়ার নামে কোম্পানির অবস্থান অক্সফোর্ডে। সেই কোম্পানির লাইসেন্সও বাতিল হয়েছে। তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।”
ওয়েসিসের বিষয়ে জর্জ মিথুন রায় বলছেন, যুক্তরাজ্যের ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার বিষয়ে তার জানা নেই।
তবে ইউকেতে যাওয়ার পর তরিকুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে যোগদান করতে না পারার বিষয়টি একাধিকবার তাকে জানিয়েছেন বলে স্বীকার করেন জর্জ মিথুন রায়।
জর্জ মিথুন রায় বলছেন, তরিকুল ইসলামের চাকরির জন্য তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কোম্পানিতে আবেদন করা হচ্ছে, চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানির নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের বাইরে ভিন্ন ভিন্ন একাউন্টে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে জর্জ মিথুন রায় বলেন, ভিশন এবং রং তুলি- এই দুটি ব্যাংক হিসাবও তাদের গ্রুপের।
ফেইথ ওভারসিজের পরিচালক (মার্কেটিং) পরিচয় দিয়ে কামরুল হাসান নামের আরেকজন বলেন, “তরিকুল ইসলামকে আমরা ইউকেতে পাঠিয়েছেন, এটাই তো বাস্তবতা। তো বাংলাদেশে বসে সেখানে চাকরির নিশ্চয়তা কীভাবে দেওয়া সম্ভব? সব দায়িত্ব আমাদের না, তারও কিছু দায়িত্ব আছে।”
এই কামরুল ইসলামের পাল্টা অভিযোগ, তরিকুল ইসলাম ইউকেতে দুই বছর ধরে অবস্থান করছেন। কিন্তু ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। তিনি নানাভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং হয়রানি করছেন। তবে তার চাকরির জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
কামরুল ইসলামের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে তরিকুল ইসলাম বলেছেন, “আমিই যেখানে বিপদগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী, আমি কীভাবে হুমকি দেব? ফেইথ ওভারসিজ আমার সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করায় আমি মূলত আমার প্রাপ্য বুঝে পাওয়ার চেষ্টা করছি। ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের সঙ্গে মিশিয়ে তারাই আমার সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
পুলিশের ভাষ্য : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফেইথ ওভারসিজের বিরুদ্ধে প্রতারণার প্রমাণ থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।



