স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুর-দৌলতপুর জুটমিল কারখানা কমিটর মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিল

# বকেয়া পরিশোধ, পাট সচিবের অপসারণসহ চার দফা দাবি #

স্টাফ রিপোর্টারঃ খালিশপুর-দৌলতপুর জুটমিলসহ ২৬টি জুটমিলস জাতীয় মজুরী স্কেল ২০১৫ পাওনা অনুযায়ী সকল বকেয়া পরিশোধ, খালিশপুর-দৌলতপুর জুটমিলসহ ৫টি জুটমিলের শ্রমিকদের বকেয়া প্রদান, নোটিশ পে বাবদ ২ মাস, ৮ সপ্তাহের ব্যাসিকের সমান প্রাপ্য মজুরী প্রদান, বোনাসের পরিবর্তে প্রদেয় এগ্রোশিয়া, করোনাকালীন সময়ে সরকার কর্তৃক সুবিধাদি নিশ্চিত, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী বক্তব্য প্রদানকারী পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীনের পদত্যাগ, বিজেএমসির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পাট সচিবের অপসারণ, খুলনার সাবেক বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মিজানুর রহমানের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার, ২০২০ সালের নতুন দুটি উৎসব বোনাসের টাকা পরিশোধ ও বন্ধ সকল রাষ্ট্রীয় পাটকল রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎপাদন চালু করার দাবিতে খালিশপুর দৌলতপুর জুটমিল যৌথ কারখানা কমিটির উদ্যোগে ২৬ মার্চ বিকেল ৫টায় খালিশপুর জুটমিল এ্যামপ্লয়ীজ ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও খালিশপুর এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন মনি এবং সঞ্চালনা করেন যশোর খুলনা আঞ্চলিক কমিটির উপদেষ্টা শ্রমিকনেতা মোঃ নূরুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, খালিশপুর-দৌলতপুর জুট মিল কারখানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব এস এ রশীদ, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা আহবায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, খুলনা যশোর পাটকল রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সাবেক আহবায়ক ইলিয়াসুর রহমান, প্লাটিনাম জুটমিল এ্যামপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর, রাষ্ট্রীয় পাটকল রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব আবদুর রাজ্জাক তালুকদার, দৌলতপুর জুটমিল কারখানা কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন, খালিশপুর থানা কাঠ মিস্ত্রী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাকিল আহমেদ লাল, ক্রিসেন্ট জুটমিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদ, খালিশপুর থানা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল মল্লিক, ক্রিসেন্ট জুটমিল কারখানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ, সহ সম্পাদক আকতার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোঃ সেলিম, খালিশপুর-দৌলতপুর কারখানা কমিটির সহ-সম্পাদক মোঃ সোহেল, সহ-সভাপতি উজ্জ্বল, সাংগঠনিক সম্পাদক চান মিয়া, প্লাটিনাম জুটমিল শ্রমিকনেতা নূর আলম। বক্তারা বলেন, গত ২ জুলাই ২০২০ তারিখে করোনার সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলসহ সারাদেশের ২৬টি পাটকল লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে একদিনে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। কারা পরিবার নিয়ে রাস্তায় নামে। তাদের পেটে লাথি মারা হয়। পাটকল বন্ধের ফলে পাটকলশ্রমিকদের জীবন-জীবিকা থমকে যায়। পরিকল্পিতভাবে হাসিনা সরকার শ্রমিকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। শ্রমিকদের বাস্তবতা এমন হয়েছে যে, তাদের পিতা-মাতা-স্ত্রী-সন্তানদের মুখে ভাত দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকরা তখন তাদের কর্মস্থল থেকে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়। দু’মুঠো খাবারের জন্য, চাকরী ফিরে পাবার আশায় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে বাধ্য হয়। বক্তারা বলেন, পাটকল শ্রমিকরা আংশিক বেতন পেলেও সঠিক হিসাব অনুযায়ী সকল পাওনাদি এখনো পর্যন্ত পায়নি। এমনকি খুলনার খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, জাতীয় জুট মিল, কেএফডি ও আর আর জুট মিলের শ্রমিকেরা এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পায়নি। এসমস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবন কি দুর্বিষহ অবস্থায় চলছে তা একমাত্র তারাই জানেন। নিষ্ঠুরভাবে পাটকল বন্ধ, বকেয়া প্রদানে গড়িমসি ও ষড়যন্ত্রের শিকার শ্রমিকরা। সরকারের কাছে শ্রমিকদের এই দাবি একটি গণতান্ত্রিক দাবি, ন্যায্যত এটি শ্রমিকদের অধিকারও বটে। আমাদের যে বকেয়া পাওনা তা কোন করুণা নয়, এটা আামাদের ন্যায্য পাওনা। এই পাওনা মিটিয়ে দিতে গড়িমসি বা ব্যথৃ হলে ঈদের পর শ্রমিকনেতাসহ সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button