স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ধর্মীয়গাম্ভীর্যে লাইলাতুল কদর পালিত

# গুনাহ্ মার্জনা, দেশ ও জাতিসহ কবরবাসীর জন্য বিশেষ দোয়া মোনাজাত #

স্টাফ রিপোর্টার : গুনাহ্ মার্জনার মাস, কোরআনা নাজিলের মাস মাহে রমজান। যা মুমিনের ইবাদত কবুলের বসন্তকাল। মহান আল্লাহ তায়ালা একদিকে যেমন রমজানকে মুসলিমের জন্য অফুরান্ত নেয়ামত হিসাবে রেখেছেন, অন্যদিকে শেষ দশক অর্থ্যাৎ নাজাতের দিনগুলোর প্রতিটি বিজোড় রাতের যে কোনো একটি রাত বান্দার জন্য হাজার বছরের উত্তম রাত হিসাবে রেখেছেন, যা পবিত্র লাইলাতুল কদর।পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারকের শেষ দশকে বিজোড় রাতগুলোতে পবিত্র লায়লাতুল কদর প্রাপ্তির আশায় নগরসহ নগরীর স্থানীয় এলাকার মসজিদ সমূহে এশা ও তারাবীহ্ নামাজ শেষে মসজিদের খতিব ও ইমামগন রমজানের শেষ দশকের বিশেষ প্রাপ্তি আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার জন্য সু-সংবাদ লায়লাতুল কদরের রাতের মহাগুনান্বিত মহিমার গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা শেষে দেশ ও জাতিসহ কবরবাসিদের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত এবং ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য আল্লাহ তালার দরবারে কান্নারত কন্ঠে বিশেষ দোয়া বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দিনগত রাতে নগরীর ডাকবাংলা, শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, জিরোপয়েন্ট, রুপসা, বানিয়াখামার, সাচিবুনিয়া, জোড়াগেট, বয়রা, বৈকালি, বাস্তহারা, আলমনগর, খালিশপুর, নতুনরাস্তা, পাবলা, দৌলতপুর, দেয়ানা, আড়ংঘাটা, গাইকুড়, ইস্পাহী কোলনী, মধ্যডাঙ্গা, পালপাড়া, রেলিগেট, মানিকতলা, কালিবাড়ী, রানার মাঠ, তেলিগাতি, ফুলবাড়ীগেট, কুয়েট, শিরোমনি, আটরা, গিলাতলা, ডাক্তারবাড়ী, আলিম গেট, দামোদর, ফুলতলাসহ স্থানীয় এলাকার মসজিদ সমূহে খতবে কোরআন শেষে জীবনের গুনাহ্ মার্জনা, দেশ ও জাতিসহ কবরবাসীর জন্য বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সারা রাত নফল ইবাদত, কোরআন তেলোয়াত, তাহাজ্জুতের নামাজ, জিকিরসহ নানামুখি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত হাজার বছরের শ্রেষ্ট রাত লাইলাতুল কদরের প্রাপ্ত হওয়ার জন্য কান্নারত কন্ঠে জীবনের গুনাহ হতে মুক্ত হয়ে নিষ্পাপ প্রাপ্ত, ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইবাদতে মগ্ন থাকেন শিশু থেকে নারী, পুরুষ, তরুন-তরুনী আবাল-বৃদ্ধা সহ সকল বয়সের মানুষ। সাহারী শেষে ফজরের নামাজের মধ্যে দিয়ে মুসল্লিগন তাদের লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির ইবাদত বন্দেগীর ইতি টানেন।
৭ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্র আরিক (১৩) জানান, আমার দাদা নেই, আল্লাহ ডাকে সারা দিয়ে চলে গেছেন। দাদা বেচে থাকাকালীন আমাকে খুব আদর করতো, চকলেট কিনে দিত। মাঝে মাঝে একাই কৃষি কলেজ করবস্থানে যাই দাদার কবর জিয়ারত করতে। গতকাল কদরের রাত ছিল। সারারাত নামাজ পড়েছি, কোরআন তেলোয়াত করেছি। দাদার রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেছি। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স মসজিদে আসা মুসল্লি বৃদ্ধা জাহিদুল ইসলাম জানান, জীবনের সময় পুরাটাই শেষ করে ফেলেছি, এখন কবর পথের যাত্রী। যে কোনো সময় আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হবে। এই রমজানে রোজা পেলাম, আগামী রমজান ভাগ্যে আছে কিনা জানিনা। আল্লাহ যেন এ রহমাতের মাসে আমাকে মাফ করে দেন, গুন্নাহ্ ক্ষমা করে দেন, নিষ্পাপ করে দেন। গতকাল লায়লাতুল কদরের প্রাপ্তির জন্য রাত্রী যাপন করছি। আল্লাহ আপনি আমাদের ক্ষমা করে দেন।
কৃষি কলেজ কবর খানায় বাবার কবর জিয়ারত করতে আসা মুসল্লি মো. শাহাদত হোসেন বাচ্চু জানান, বাবার কয়েক বছর হলো মারা গেছেন। আজ বাবা নেই, এখন বুঝি বাবা কি ছিলো আমাদের জীবনে। পবিত্র মাহে রমজান মাস তো শেষ। জানিনা আল্লাহ জীবনের গুনাহ্ মাফ করবেন কিনা। গতকাল ছিল কদরের রাত। তারাবিহ্ নামাজ আদায় করে কবরস্থানে আসলাম বাবার কবর জিয়ারত করতে। এই পবিত্র মাসের উছিলায় আল্লাহ যেন আমার পিতাকে মাফ করে দেন, এটাই আমার চাওয়া। এ ব্যাপারে দৌলতপুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মহান আল্লাহ তায়ালা রমজানকে যেমন মুমিনদের অফুরান্ত নেয়ামত হিসাবে রেখেছেন, অন্যদিকে রমজানের শেষ দশকের দিনগুলোর বিজোড় রাতের যে কোনো একটি রাত বান্দার জন্য হাজার বছরের উত্তম রাত হিসাবে রেখেছেন, যা পবিত্র লাইলাতুল কদর। রাসুল করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা গুনাহ্ মাফ করে দিবেন। মুমিনের জন্য লাইলাতুল কদর একটি মহামান্বিত রাত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button