সন্ত্রাসী পলাশ-রোহান গ্রুপের গোপন বৈঠকে অভিযান : পুলিশ-নৌ-বাহিনীর সাথে ৩ ঘন্টা গোলাগুলি

# পুলিশের ওসি-নৌবাহিনী সদস্যসহ আহত ৮ #
# রোহান-পলাশ গ্রুপের প্রধান পলাশসহ ১০ জন গ্রেফতার, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
# ইফতারের আড়ালে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রস্তুতি #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় কেএমপির তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহান গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করতে গিয়ে অভিযানে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সঙ্গে ৩ ঘন্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহান গ্রুপের প্রধান পলাশ শেখ (৩৮)সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার দিনগত রাত সোয়া ১টার দিকে খুলনা মহানগরী বানরগাতি আরামবাগ এলাকায় একটি নির্মানাধীন একতলা ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যারা হচ্ছে নূরে আলম সিদ্দিকী ওরফে লিয়ন শরীফ (২৯), রুবেল ইসলাম লাভলু ওরফে কালা লাভলু (৩৫), ইমরান হোসেন ওরফে ট্যাটু ইমরান (৩৫), সৈকত রহমান (২৭), ফজলে রাব্বি রাজন (৩৬), রিপন (৩০), গোলাম রব্বানী (২৬), ইমরানুজ্জামান (৩৩) এবং শহিদুল (৩৫)। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে পুলিশ ও নৌবাহিনী মিলে ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, পিস্তলের ৪ রাউন্ডগুলি, ১টি শর্টগান, শর্টগানের ২৩ রাউন্ডগুলি, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি চাপাতি, ১টি হাসুয়া, ২টি চাকু, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৭টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার দুপুর ২টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র সদর দপ্তরে এক প্রেসবিফ্রিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন কেএমপির কমিশনার মো: জুলফিকার আলী হায়দার।
প্রেসবিফ্রিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আনুমানিক ৩ ঘন্টা যাবত বন্দুকযুদ্ধের সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের লক্ষ্য করে ৮০-৯০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের সাথে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলাম ৭ জন পুলিশ সদস্য এবং একজন নৌ বাহিনীর সদস্য গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ নিজেদের রক্ষার্থে এবং সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে শর্টগানের ৪৭ রাউন্ড গুলি ফায়ার করে। কেএমপির কমিশনার মো: জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ৭টি মটরসাইকেলের মধ্যে ৫টি নাম্বার প্লেট আছে এবং দুটি নাম্বার প্লেট নাই। মোটরসাইকেলগুলোর মালিকানাসহ কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সময় ব্লিডিংয়ের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালাতা গিয়ে এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় আসামীরা শারীরিকভাবে কিছুটা আহত হওয়ায় তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ২টি, ৩টি ডাকাতি, ১টি অস্ত্র, ২টি চাদাবাজি মামলা রয়েছে। এছাড়া আসামি রুবেল ইসলাম লাভলু ওরফে কালা লাভলু এর বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, চাদাবাজি, পুলিশের ওপর হামলা মামলাসহ ৬টি মামলা, নূরে আলম সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২টি, মো: ইমরান হোসেন ওরফে ট্যাটু ইমরান এর বিরুদ্ধে ১টি, ফজলে রাব্বি রাজন এর বিরুদ্ধে ১টি, মো: রিপন এর বিরুদ্ধে একটি, মো: ইমরানুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। প্রেসবিফ্রিংয়ে নৌ-বাহিনীর স্টাফ অফিসার (অপারেশন) মো: সামিউর রহমানসহ কেএমপির উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার সকালে ঘটনাস্থল বানরগাতি আরামবাগ এলাকায় গিয়ে জানা যায়, শনিবার তারা ইফতারের জন্য একতলা নির্মানাধীন ভবনে ইফতার করবে এই বলে তারা ছাদে ওঠে। প্রায় ১৫-২৫ জনকে নিয়ে বাড়ির মালিক আব্দুর রহমান এর ছেলে সৈকত নিয়ে ছাদে ওঠেন। এর ১০-১২ দিন আগেও বাইরে থেকে ছেলেরা এসে সৈকত নিয়ে ছাদে ওঠেন। প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত ছাদে বসে থাকতে দেখা যায় বলে স্থাণীয় বাসিন্দারা জানান। সৈকতের বাবা আব্দুর রহমান এক বিচারকের গাড়ি চালাতেন। এখন তিনি অবসরে আছেন। তবে সকালে ওই বাড়ির মালিক বা কোন লোকজনকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলাম, এসআই সুমন ম-ল, এসআই আশরাফুল আলম, এএসআই বিপর চাদ অধিকারী, কনস্টেবল সোমনাথ কনস্টেবল মো: ফয়েজ শাহী ও কনস্টেবল মো: শহিদুল। এছাড়া ১ জন নৌবাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। জানা যায়, কেএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহান গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা সৈকত রোহান ২০১৬ সালে ৩১ আগস্ট প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ মামলার অন্যতম আসামি হলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ওরফে ডন।



