কেএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৭ ঘন্টা যৌথ অভিযান

# অস্ত্র-গোলাবরুদ, বৈদেশিক মুদ্রা ও বিপুল পরিমান টাকাসহ আটক ৩
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কেএমপি ও সেনাবাহিনীর যৌথটিম খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুকে গ্রেফতারের জন্য নগরীর সামসুর রহমান রোডে তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেনেড বাবু’র পিতা জোনায়েদ চৌধুরী মিন্টু ও তার ভাই সন্ত্রাসী রাব্বি চৌধুরীকে (২২) এবং এছাড়া সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ম্যানেজার সৌরভ ও সোহাগ এর বাসায় অভিযান চালিয়ে সৌরভের মা সুষমা রানী সাহা (৬০) কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ, বৈদেশিক মুদ্র্যা ও বিপুল পরিমান টাকা উদ্ধার করা হয়। ৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এই অভিযানের বিষয়ে কেএমপির সদর দপ্তরে মিডিয়া প্রেসবিফ্রিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন কেএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ( উত্তর) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। প্রেসবিফ্রিংয়ে আর উল্লেখ করা হয়, অভিযানের এক পর্যায়ে নৌ বাহিনীর একটি টিম অভিযানে অংশ নেয়। গত ৩ এপ্রিলের অভিযান রাত ১ টায় শুরু হয় এবং সকাল ৭ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অভিযানে গ্রেনেড বাবু’র ভাই সন্ত্রাসী রাব্বি চৌধুরীকে (২২) গ্রেফতার করা হয়। রাব্বির হেফাজত থেকে ৪ রাউন্ড গুলি ভর্তি ম্যাগাজিনসহ ১ টি বিদেশী ৯ এমএম পিস্তল, ১ টি চাপাতি, ১ টি বাইনোকুলার, ১ টি মোটরসাইকেল এবং ১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর পিতা জোনায়েদ চৌধুরী মিন্টুকেও গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে নগদ ১২ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং আরো ১ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ম্যানেজার সৌরভ ও সোহাগ এর বাসায় অভিযান চালিয়ে সৌরভের মা সুষমা রানী সাহা (৬০) কে গ্রেফতার করে। তাদের নিকট থেকে মাদক বিক্রির নগদ ২৬ লাখ ৪ হাজার ৫৫৩ টাকা, ভারতীয় মুদ্রা ৪ হাজার ২৪০ রুপি এবং ৬ টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
থানার রেকর্ড পত্রে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী রাব্বি চৌধুরীর বিরুদ্ধ সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ৩ টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধ অস্ত্র আইন, মানি লন্ডারিং এবং অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রেসবিফ্রিংয়ে খুলনা সদর থানার ওসি, সেনাবাহিনীসহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ সন্ত্রাসী কে এই গ্রেনেড বাবু : পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০০১ সালে বোমা তৈরি করে চরমপন্থিদের কাছে সাপ্লাই দিয়ে এবং বোমা নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশ-র্যাব’র শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় উঠে আসে গ্রেনেড বাবু। এরপর মাদক বিক্রয়, চাঁদাবাজি, জুয়ার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ন্ত্রণ করতে গ্রেনেড বাবু নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলে। ২০১০ সালের ১০ই জুন সন্ধ্যায় ট্যাংক রোডের বাসিন্দা হাকিম মো: ইলিয়াস হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন কচিকে হত্যা করে গ্রেনেড বাবু ও তার সহযোগীরা। এ মামলায় বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ এ হত্যা মামলায় আসামি রনি চৌধুরী ওরফে বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবুকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়। গ্রেনেড বাবু বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তবে তার অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা খুলনাতে সক্রিয় রয়েছে। এদিকে অপর সন্ত্রাসীর বাহিনীর প্রধান আশিক নিজ নামে দলটি গঠন করেছে। তিনি খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন চানমারী এলাকার বাসিন্দা। ২০১৮ সালে ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম হত্যা মামলায় জড়িয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত হন। এ পর্যন্ত তার নামে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। তার দলে সদস্য রয়েছেন ২৩ জন। তাদের নামে মোট মামলা রয়েছে ১১০টি।



