স্থানীয় সংবাদ

আ’লীগের ঝটিকা মিছিল গিয়ে গ্রেফতার : কেসিসির সাবেক লাইসেন্স অফিসার রবি সাসপেন্ড

# আরো পাঁচ কর্মচারিকে খুঁজছে পুলিশ #

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক লাইসেন্স অফিসার (যান) রবিউল আলম রবিকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে নগর ভবনের সামনে থেকে নগর ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপির) এডিসি মোহাম্মদ আহসান হাবিব। তিনি জানান, ২০ এপ্রিল সকালে জিরো পয়েন্ট এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেন রবি। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। পরে নগর ভবনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিছিলে সিটি করপোরেশনের স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেলে করে অংশ নেন রবি। কেসিসির সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই রবি। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি চাকুরি করলেও পতিত সরকারের দোসর ও কেসিসির ছায়া মেয়র হিসেবে পরিচিত গোপাল চন্দ্র সাহার কাছের লোক ছিলেন। পালিয়ে যাওয়া মেয়রের সময় গোপালের ক্ষমতায় তিনি ছিলেন বেপরোয়া। গোপালের কারণে কেউ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। এদিকে রবিউল সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় তাকে কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেছেন। সোমবার বিকেলে কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সাসপেন্ড করা হয়। ওই সাসপেন্ড কপিতে উল্লেখ করা হয়, “খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কর আদায় শাখার রিপোর্টের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উক্ত শাখায় নি¤œমান সহকারী হিসেবে কর্মরত রবিউল আলম গত ২০ এপ্রিল রাজনৈতিক মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বলে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায়। পরবর্তীতে সোমবার দুপুর ১টার পরে অফিসের বাইরে গেলে কেসিসি’র কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আলম এর নিকট থেকে জানা যায়, তাকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া কেএমপি, হরিণটানা থানা হতে জানা যায়, উক্ত থানার মামলা নং-৪, তারিখ-২১/০৪/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-১৫(৩)/২৫ রবিউল আলমকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে প্রেরণ করেছেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৩৭(২) অনুসারে কেসিসি’র কোন কর্মচারী সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ বা রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি কোন কার্যকলাপে জড়িত থাকতে পারবে না। এমতাবস্থায়, বর্ণিত কর্মচারী ফৌজদারী মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৩৭(২) ও ৩৮ (ছ) বিধি লংঘন করায় ৪৪(৪) বিধি অনুসারে অভিযুক্ত রবিউল আলম, পিতা-খোরশেদ আলম, নি¤œমান সহকারী, কর আদায় শাখা, কেসিসি-কে তার চাকুরী অর্থাৎ নি¤œমান সহকারী পদ হতে গ্রেফতারের তারিখ হতে অর্থাৎ ২১ এপ্রিল হতে সাময়িক বরখাস্ত করত: তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলো এবং ৪৪(৩) বিধিমতে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি শুধুমাত্র খোরাকি ভাতা প্রাপ্ত হবেন।” অন্যদিকে আ’লীগের ঝটিকা মিছিলে কেসিসির পাচ কর্মচারি অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা সব সাবেক মেয়র তালুকদার আঃ খালেকের লোক হিসেবে পরিচিত। তারা বিগত ১৭ বছল আ’লীগের মিছিল মিটিন করেছেন। তারা আ’লীগের সকল রাজনৈতিক ধ্বংত্মক কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছেন। যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছে শামীমুর রহমান শামীম, সুজন, ইয়াহিয়া, বাবু, কামরুল উল্লেখযোগ্য। এরা বিগত দিনে আ’লীগের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এহেন কর্মকান্ড ছিল না যা তারা করেনি। এই সুজন ছিল নগরভবনের ছায়া মেয়র গোপালের দেহরক্ষি। একজন পিওন হলেও বিগত দিনে তার আচরণ ছিল বেপরোয়া। এরা সবাই কতিপয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিগত দিনের পদে বহাল আছে। আবার কেউ বদলী হলেও পছন্দের পদেই কর্মরত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button