বিএনপির অফিস ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার হয়ে কেসিসির কর্মচারি আ’লীগ নেতা শামীম সাসপেন্ড

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্মচারি শামীমুর রহমান শামীমকে(৪৮) পুলিশ সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে। তাকে বিএনপি অফিস ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয় বলে সদর থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান। তিনি জানান, শামীমকে নিরালা এলাকা থেকে জনতা ধরে পুলিশকে দেয়। তাকে চানমারী এলাকায় বিএনপি অফিস ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সাবেক সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এড. জেসমিন পারভীন জলি জানান, গ্রেফতারকৃত শামীম কেসিসির করজারভেন্সী বিভাগের সুপার ভাইজার। তিনি ৩১নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাবেক সাঃ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সাঃ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, শামীম ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ৩১নং ওয়ার্ডে এমন কোন অনিয়ম নেই যা তিনি করেননি। দলের ভাবমূর্তি নস্ট করার জন্য যা যা করার দরকার তা তিনি করেছেন। তিনি কেসিসির কর ধার্যশাখায় কর্মরত থাকাবস্থায় যেসব বাড়িতে কর ধরেছেন তা ৩০%-এর বেশী টাকা কোষাগারে জমা দেননি। বাকী টাকা তিনিসহ অন্যরা ভাগ করে খেয়েছে। অনুষ্ঠানে কথা বলে এলাকায় মিল কলকারখানা থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ছিল তার যেন পেশা। এলাকার কল কারখানার মালিকরা তার চাঁদাবাজিতে ছিল অতিষ্ঠ। একটি স্কুলে তিন জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন শামীম। তার প্রতিবাদ করায় তাকে নানাভাবে নাজেহাল করে এই শামীম। ওই স্কুলের কাজ অনিয়ম করায় তার প্রতিবাদ করেন তিনি। তখন থেকে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে বলে এই সাবেক জনপ্রতিনিধি জানান। এদিকে বিএনপি অফিস ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় শামীমকে কেসিসি কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেছেন। মঙ্গলবার কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃত শামীম ১৭/২১ দক্ষিণ লবণচরা মোক্তার হোসেন সড়কের বাসিন্দা মৃতঃ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কর আদায় শাখার ওয়ারেন্ট ইন্সপেক্টও, বর্তমানে কনজারভেন্সী শাখায় কনজারভেন্সী সুপার ভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন। তাকে সদর থানার মামলায় ২১ এপ্রিল পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্ণিত কর্মচারি ফৌজদারী মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারি) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৪৪(৪) বিধি অনুসারে অভিযুক্ত শামীমকে তার চাকুরী থেকে গ্রেফতারের তারিখ হতে সাময়ীক বরখাস্ত করতঃ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলো এবং ৪৪(৩) বিধিমতে সাময়ীক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি শুধুমাত্র খোরাকি ভাতাপ্রাপ্ত হবেন। এদিকে কেসিসির একটি সূত্র জানায়, বিগত দিনে তিনি চাকুরি করেও আ’লীগের গুরুত্বপূর্ন পদে ছিলেন। এ সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্ম দিয়েছেন। তিনি কর ধার্য শাখায় থেকে বড় বড় ভবনে নামমাত্র কর ধার্য করে বাকী টাকা ভাগভাটোয়ারা করে খেতেন। বিশেষ করে ময়লাপোতা মোড়ে গ্রান্ড প্লাসিড নামক হোটেলে কর ধার্য করা নিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তখন ওঠে। যদিও আ’লীগ নেতা হওয়ার কারণে সে অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি। শুধু গ্রান্ড প্লাসিড নয়, নগরীর বড় বড় ভবন হোল্ডিং ট্যাক্স ধরতে তিনি যেতেন। ভবন মালিকের সাথে দর কসাকসি করে নামমাত্র ট্যাক্স ধার্য করে ফিরে আসতেন। যা ওই সময় ছিল অনেকটা অপেন সিক্রেট। তিনি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে পুটিমারি এলাকায় কেসিসির অধিগ্রহনকৃত জমি ভোগ দখল করে খান। যদিও এবার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কেসিসির কোষাগারে দু’লাখ টাকা জমা দেন। যা বিগত দিনে না দিয়েই ওই জমি তিনি ভোগ দখল করেন। এসব অপকর্মের সব ধামাচাপা দিত সাবেক মেয়রের কথিত এপিএস গোপাল সাহা। এই গোপাল নগরভবনের সকল অনিয়মের ছিল মা বাপ। এপিএস না হয়েও তিনি সব জায়গা এপিএস পরিচয় দিয়ে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতেন। তিনি অনেকটাই ছায়া মেয়র ছিলেন। তার ক্ষমতার কারণে শামীম নানা ধরণের অনিয়ম করেও পার পেয়ে যেত বলে সূত্রটি জানায়। তার গ্রেফতারের খবরে দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যায় কর আদায় শাখার সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তার। তিনি নানাভাবে শীর্ষ মহলে তদ্বির করেও শামীমকে ছাড়াতে পারেননি। তবে তার গ্রেফতারের খবরে সাধারণ কর্মচারিরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন।



