বৈকালী স্টাফ কোয়ার্টারে অবৈধ বসবাসকারী কর্তৃক নির্যাতনে শিকার কেসিসি’র কর্মচারিসহ তিনজন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বৈকালীস্থ স্টাফ কোয়ার্টারের জায়গায় অবৈধ বসবাসকারী কর্তৃক নির্যাতনে শিকার হয়েছে কেসিসির এক কর্মচারিসহ তার পরিবারের তিন সদস্য। এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে ভিকটিমের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ রবিবার পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গত ২৯ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টায় পুরাতন জংশন রোড (সিটি কর্পোরেশনের স্টাফ কোয়ার্টার), বড় বয়রা সিএসডি গোডাউনের সামনে পুরাতন কাউন্সিলর অফিস সংলগ্ন ভিকটিমের বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, “জংশন রোড সিএসডি গোডাউনের সামনে পুরাতন কাউন্সিলর অফিস সংলগ্ন বাসার হোল্ডিং বাতিল হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন যাবৎ বেআইনিভাবে সিটি কর্পোরেশনের (সরকারি জায়গায়) বসবাস করে আসছে সাঈদুল ইসলাম। বাদীর বাবা গাজী হাবিবুর রহমান কেসিসির রাজস্ব শাখায় কর্মরত থাকায় বাধ্য হয়ে আমার বাবার অফিসে উক্ত বিষয়টি অবগত করার পর থেকেই বিবাদীগন আমার পিতামাতাকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করে আসছিল। বিবাদীগন আমাদের প্রতিবেশী বিধায় উক্ত বিষয় আমার পিতামাতা সাধারন ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতেন। গত ২৯ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টায় ১ নং বিবাদী সাঈদুল অসাবধানতা বশত মটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারনে পড়ে গিয়ে আহত হয়। এ সময় তিনি রাগান্বিত হয়ে আমার পিতার বাসার সামনে এসে ১নং ও ২ নং বিবাদীসহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা পূর্বের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি তখন পিতার বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। বিবাদীর চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আমার পিতা মাতা ঘরের দরজার সামনে এসে অন্যায় আচারনের প্রতিবাদ করলে ১নং বিবাদী আমার পিতার দাড়ি ধরে টেনে রুম থেকে নামিয়ে এলোপাথারী মারধর করতে থাকে। ২নং বিবাদী হোসনেয়ারার হাতে থাকা কাঠের বাঁতা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার পিতার মাথায় আঘাত করলে বাম কপালে লেগে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। আমার পিতাকে হত্যা করার জন্য হোসনেয়ারা পুনরায় আঘাত করতে গেলে মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যায় এবং উক্ত আঘাতটি ১নং বিবাদীর মাথায় লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। আমার বাবা মাটিতে পড়ে গেলে অজ্ঞাত বিবাদীরা তাকে এলোপাথারী কিল, লাথি, ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক নীলা ফোলা-রক্তাক্ত জখম করে। আমার মা শাহানা পারভীন (৫০) ও আমি আমার বাবা হাবিবুরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে বিবাদীরা আমাদেরকে এলোপাথারী কিল, লাথি ঘুষি মেরে মারাত্মক ভাবে আহত করে এবং আমার মাকে তুলে রাস্তায় আছাড় মারে। মারধরের এক পর্যায়ে বিবাদীরা আমাদের পোষা ১৬ টি চিনা হাঁস ও বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। আমাদের আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীরা বিভিন্ন রকম হুমকী ধামকী প্রদান করে চলে যায়। বিবাদীদের উপর্যুপরী মারধরে পিতা মাতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিবাদীরা পরবর্তীতে আমাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আশেপাশের লোকজনের সহায়তায় আমার পিতামাতাকে উদ্ধার পূর্বক মুমূর্ষু অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। বাদী জানান, রবিবার সন্ধ্যায় মামলার আসামী বাদীর বাড়ির সামনে ঘুরাঘুরি করছে। এমন কি নানা ধরনের কথাবার্তা বলছে। বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে। ওসি বলেন, দু’পক্ষেরই ক্ষতি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।



