নেশাগ্রস্থ ও উচ্ছৃঙ্খল ছেলের হাত থেকে রেহাই পেতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নেশাগ্রস্থ, উচ্ছৃঙ্খল, অসৎ সঙ্গে অভ্যস্থ, আইন অমান্যকারী, লোভী, সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছেলের হাত থেকে নিজেকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে রক্ষা করতে ভুক্তভোগী এক মায়ের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মা জামিলা বেগমের পক্ষে তার কন্যা রাবেয়া খাতুন লাকী।
লিখিত বক্তব্যে পাঠকালে বলা হয়, আমি ৩ পুত্র এবং ১ কন্যা সন্তান মোট ৪ সন্তানের জননী। আমার স্বামী তৈয়ব আলী গত বছরের ২১ মার্চ মৃত্যু অন্তে আমাকে এবং আমার উক্ত ৪ সন্তানকে ওয়ারেশ রেখে যান। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করছিলাম। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আমার মেঝ ছেলে মোঃ রাহাত আলী (জসীম) (৩৯) অসৎ সঙ্গে মিশে, নেশাগ্রস্থ হলে প্রথমে উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন শুরু করে। এক পর্যায়ে এসে আমার স্বামীর সম্পত্তির ওয়ারেশ হিসেবে তার অংশ দাবী করে আমাকে এবং আমার অন্যান্য সন্তানদের উপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে এবং অমানসিক নির্যাতন শুরু করে। আমি উপায়ন্ত না পেয়ে আমার অন্যান্য সন্তানদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হয়। আমার উক্ত পুত্র মোঃ রাহাত আলী (জসীমের) চাহিত মতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে ও মধ্যস্থতায় আমার স্বামীর ত্যাক্ত সম্পত্তি ও ব্যবসার মূল্য নির্ধারণ করে আমার উক্ত পুত্র জসীমের হারাহারি মতে অংশ নির্ধারণ করে তার অংশের মূল্য ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে দিই। যা আমার স্বামীর ত্যাক্ত জেলা খুলনার খালিশপুর থানাধীন রেজিষ্ট্রি অফিস ও সিটি কর্পোরেশন খুলনাধীন ১৪ নং গোয়ালপাড়া মৌজার মধ্যে খালিশপুর হাউজিং এস্টেট এন/ই-৪৮ নং প্লটের ৬৯.৫০ বর্গগজ জমির মধ্যে আমার উক্ত পুত্রের অংশ ১৭.৩৭৫ বর্গগজের মূল্য ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসার অংশের মূল্য ৫০ হাজার টাকা সর্বমোট ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা যার মধ্যে ৫ হাজার) টাকা নগদ এবং ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আমার নিজনামীয় হিসাবধারী জনতা ব্যাংক খালিশপুর শাখা থেকে ২৬৫০৭৭৪ নম্বর পে-অর্ডারের মাধ্যমে আমার উক্ত পুত্রের জনতা ব্যাংক পোর্ট শাখায় তার একাউন্টে প্রেরণ করা হয়। আমার উক্ত পুত্র জসীম তার প্রাপ্য বুঝে পেয়ে ২৫/২/২০১০ উপস্থিত স্বাক্ষীগণের সম্মুখে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ঘোষণা সম্পাদন করে। আমার উক্ত পুত্র মোঃ রাহাত আলী (জসীম) তৎপর হতে পৃথক বসবাস করে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, আমার উক্ত পুত্র বিভিন্ন সময়ে আমার বাসায় এসে আমাকে, আমার অন্যান্য সন্তান, অন্যান্য পুত্র বধুর নিকট টাকা পয়সা দাবী করে মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতন করে। সে প্রায়শই আমার বাসায় এসে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ব্যবসায়িক বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি করে। মাঝে মধ্যেই আমার বাসায় এবং বাসার সামনে এসে বিভিন্ন প্রকার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে আমার জীবন যাপন অতিষ্ট করে তুলেছে। আমার পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খীরা তার উক্তরূপ অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি, হুমকী এমনকি অসত্য উক্তিতে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে অযথা হয়রানী করে আসছে। এমনকি তাদেরকে রাস্তাঘাটে চলার পথে অপমান-অপদস্ত করে আসছে। তারা মান-সম্মান হানী এবং জীবনভয়ে দিনাতিপাত করছে। ইতিপূর্বে আমি উপায়ন্ত না পেয়ে এফিডেভিট করে ঘোষণা প্রদানে তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন করি। আমি তার গ্রহণকৃত টাকা সংক্রান্তে লীগ্যাল নোটিশ প্রদান করতঃ আইনত দায়মুক্ত হই। যা ইং ০২/০৩/২০১০ তারিখ “দৈনিক পূর্বাঞ্চল” পত্রিকায় প্রকাশ করি। আমার সম্পূর্ণ অবাধ্য ভবঘুরে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত উক্ত পুত্র যত দিন যাচ্ছে ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তার অত্যাচার নির্যাতনে আমি মানসিক ট্রমায় ভূগছি। আমি তার ভয়ে দিন রাত কখনোই ঘুমাতে পারিনা। এমনকি ঘুমের মধ্যেও আঁতকে উঠি এবং ঘুম ভেঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ি।



