যশোরে পুলিশ, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিপ্তর থাকা সত্বেও খোদ শহরের মধ্যে অবাধে চলছে লাইসেন্স বিহীন মদ বেচাকেনা

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোরে পুলিশের সব কয়টি ইউনিট,র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর জেলা কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় অবাধে লাইসেন্স বিহীন বাংলা মদ বেচাকেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খোদ শহরের বাবু বাজার-ঝালাইপট্টি ও মাড়–য়াড়ী মন্দির সংলগ্ন পতিতালয় ঘিরে বাংলামদ বেচাকেনার শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মদের এ সব ডেরা থেকে বিষাক্ত মদ সেবন করে বিগত কয়েক বছরে ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের তরতাজা অন্তত ২০ জনের প্রাণ হানীর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়গুলোতে আক্রান্তর শিকার হয়েছে ৫০ জনের অধিক। বিষাক্ত মদক সেবনে মৃত্যু ও আক্রান্তর ঘটনায় কোতয়ালি থানায় অন্তত ৭টি মামলা হয়েছিল। উক্ত মামলায় আসামী করা হয়েছিল ২০/২৫ জন অবৈধ মদ বিক্রেতাকে। গ্রেফতার করা হয়েছিল তৎকালীন মদক সিন্ডিকেটের হোতা আবু হাসান। তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে আর এই ব্যবসা থেকে চিরতরে বিদায়ী জানিয়েছেন। বর্তমানে এই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের জনপ্রতিনিধি জাকির হোসেন। তিনি ৩নং ইছালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খোদ শহরের মধ্যে বাংলা মদ বেচাকেনার ফলে বিভিন্ন পেশার ব্যবসায়ীরা চরম অতিষ্ঠ হয়ে যশোরের নারী পুলিশ সুপারসহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বাবু বাজার- ঝালাইপট্টি ও মাড়–য়াড়ী মন্দির সংলগ্ন পতিতালয় ঘিরে সাবেক জনপ্রতিনিধি জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বাংলা মদ বেচাকেনা শুরু হয়। এর মধ্যে বাবু বাজার পতিতালয়ের সামনে ও আশপাশ এলাকায় জাকির হোসেনের নেতৃত্বে কথিত প্রতিবন্দী মন্টু, ছোট মহাসিন,আনারুল, রাসেল,মাড়–য়াড়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বাবু,সাজু,টাকুয়াসহ ১২ জনের একটি মাদক সিন্ডিকেট এই কারবার চালাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছেন,এদের সাথে যোগ দিয়েছে বাবু বাজার ও মাড়–য়াড়ী মন্দির সংলগ্ন পতিতালয়ের কয়েকজন পতিতারা। পতিতারা তাদের খরিদ্দারকে মনোরঞ্জন দিতে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মদ কিনে তাদের খরিদ্দারের কাছে বিক্রি করছে। এই সিন্ডিকেটের কাছে যশোর বড় বাজারের বিভিন্ন শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা জিম্মি। কারণ শহরের আশ পাশ এলাকার বিভিন্ন বয়সের মাস্তানসহ সন্ত্রাসীদের সাথে মাদক সিন্ডিকেটের মদ বেচাকেনার সূত্রধরে সখ্যতা গড়ে ওঠায় ব্যবসায়ীরা মুখ বুজে সহ্য করতে হয় মাদক সিন্ডিকেটের অত্যাচার। সিন্ডিকেটের প্রধান হিসাবে সাবেক জনপ্রতিনিধি জাকির হোসেন তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এখানে মদ বেচাকেনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ইছালী ইউনিয়নে ওয়ার্ডে মেম্বর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে মোটা অংকের অর্থ বিকিয়ে দিয়ে একবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের কৃতিত্ব অর্জন করেন। জাকির হোসেন মদের সিন্ডিকেটে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে র্যাব-৬,যশোরে পুলিশের সব ক’টি ইউনিট,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাদের নামে মাসে কয়েকলাখ টাকা চাঁদা তোলেন। জাকির হোসেনের কথায় যারা রাজী হন না তাদেরকে জাকির হোসেন বিভিন্নভাবে হুমকী ধামকী ও আটকের হুমকী দিয়ে থাকেন। সিন্ডিকেটের প্রধান জাকির হোসেনসহ যারা বাবু বাজার,ঝালাইপট্টি ও মাড়–য়াড়ী মন্দির সংলগ্ন পতিতালয়ের আশপাশে বাংলা মদ বেচাকেনা করছেন তাদের কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে মদ বেচাকেনা করলেও জাকির হোসেনের কারনে কেউ কোন টু-শব্দ করেনা। এই সিন্ডিকেটের প্রধান সাবেক আওয়ামীলীগের জনপ্রতিনিধি জাকির হোসেনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করলে খোদ শহরে মদ বেচাকেনা সম্ভব বলে সূত্রগুলো দাবি করেছেন। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন,কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ,সদর পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ,জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ইনচার্জ,পিবিআই,সিআইডি,র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নামে জাকির হোসেন অবৈধ মদের আস্তানা থেকে মোটা অংকের উৎকোচ সংগ্রহ করায় কোন অভিযান চালানো হয় না এখানে, এমন মন্তব্য করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা।



