খুলনায় নাবিক ভর্তির প্রতারক চক্রের ৯ সদস্য আটক

# প্রতারণার ফাঁদ থেকে ৩৮ তরুণকে উদ্ধার করল নৌ-বাহিনী
# চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৮-১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে হোটেলে জিম্মি # অভিনব কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাংক চেক-স্ট্যাম্প ও মোবাইল # ভুয়া প্রশ্নপত্র, কালার ব্লাইন্ড টেস্ট বুক এবং ভুয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার সরঞ্জাম উদ্ধার
মুশফিকুর রহমান মেহেদী ঃ সোনার হরিণ খ্যাত নৌ-বাহিনীর চাকরীর আশায় খুলনা সোনাডাঙ্গার হোটেল সুইট প্যালেসে ওঠেন ৩৮ জন তরুন।২০ মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নৌ বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন বি-২০২৫ ব্যাচে নাবিক ও এমওডিসি(নৌ) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসেন এই তরুনেরা। শুধ্মুাত্র খুলনা নয়, এসকল প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই এসেছেন বগুড়া , রাজশাহী, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। তবে কেও ই জানতেন না তারা দালাল ও প্রতারকের খপ্পরে পড়তে যাচ্ছেন। সরকারী চাকরী পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে খুইয়ে বসছিলেন সর্বস্বকেও মোবাইলে অপরিচিত ফোনোকলে, আবার কেওবা প্রতিবেশী দালালের খপ্পরে পড়ে খুলনায় এসেছেন। গত ১৯ মে সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাডাঙ্গার হোটেল সুইট প্যালেসে অভিযান চালায় নৌবাহিনীর একটি অভিযানিক দল। এসময় ৯ জন প্রতারকচক্রের সদস্যকে আটক করা হয়। এ চক্রের নিকট থেকে ভুয়া কাগজপত্র, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কপি, মোবাইল ফোন, ব্যাংক চেক, স্ট্যাম্প পেপার, সার্টিফিকেটসহ ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত আরও বেশ কিছু জাল দলিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীরা জানান প্রতারক চক্রের সদস্যরা ৮ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্বাক্ষরিত ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে নেয়। হোটেল আসার পর তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে নেয় চক্রটি। প্রার্থীরা জানান, এই চক্র মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোনোকলের মাধ্যমে চাকরী প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে। পরবর্তীতে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য নৌ বাহিনীর পোশাক পরিহিত বেশ কয়েকজনের ছবি দেখায়। রাফি নামক একজন প্রার্থী জানান, আমি হোটেলে উঠেছি । তার পরে আমাকে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করে । তারা আমার নিকট চেক স্ট্যাম্প চায় । এগুলো না থাকায় আমার মোবাইল ফোন আটকে রাখে তারা । পরবর্তীতে নৌবাহিনীর সদস্য এসে তাদেরকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করে। এছাড়া প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য হোটেলেই প্রার্থীদের চোখ পরীক্ষার জন্য কালার ব্লাইন্ড টেস্ট বুক এবং ভুয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে। এছাড়া প্রতারক চক্রের নিকট হতে ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুয়া এবং বানোয়াট প্রশ্ন ও উত্তর পত্র জব্দ করা হয়। ভুক্তভোগীরা আরো জানান, তাদের অনেকেই বসত বাড়ী ,জমি ও অলঙ্কারসহ শেষ সম্বল বিক্রি করে প্রতারকচক্রকে টাকা প্রদান করে। কেও কেও সুদে টাকা এনে এই চক্রকে দেওয়ার মনস্থির করেন।
এবিষয়ে ২০ মে মঙ্গলবার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মিডিয়া ব্রিফিং করেন খুলনা নৌ অঞ্চলের স্টাফ অফিসার (অপারেশনস),লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সামিউর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবছর নৌবাহিনীতে নাবিক ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে এ ধরনের প্রতারক চক্র অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে নৌবাহিনীতে চাকরি প্রার্থীদের সাথে প্রতারণার প্রচেষ্টা করে থাকে। নৌবাহিনী সদস্যদের তীক্ষè নজরদারী, ভর্তি কার্যক্রমের সুব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এ ধরনের অবৈধ অপচেষ্টা কার্যক্রম অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। উল্লেখ্য, নৌবাহিনীতে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগের কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সকলকে প্রতারকচক্র থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন তিনি। আটককৃত প্রতারক সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।



