খুলনায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক ধুমপায়ীদের রাজত্ব বাড়ছে

# আইন থাকলেও নেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ,বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি #
# তামাকজাত কোম্পানীর নিষিদ্ধ প্রচার-প্রচারণা অপ্রাপ্তদের ধুমপানে আগ্রহী করছে #
মো. আশিকুর রহমান ঃ ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। ধূমপান মানুষের আয়ূকাল কমিয়ে দেয়, পরিবেশ দূষণ করে এবং ধীরে-ধীরে ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে। অপরদিকে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা অর্থ্যাৎ ধুমপান শ্বাসতন্ত্রের নিক্রিয়তার বাহন হিসাবে দায়ি। আইনে অপ্রাপ্ত বয়সীদের নিকট ধুমপান বিক্রয় করা অপরাধ। আইন থাকলেও নেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ বা আইন সংস্থার অভিযান। যে কারনে প্রকাশ্যে ধুমপান করা, অপ্রাপ্তদের নিকট ধুমপান বিক্রয়ের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় শহরজুড়ে ক্রমশঃই রাজত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে অপ্রাপ্ত ধুমপায়ীদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে। ধূমপান মানুষের আয়ু কমিয়ে দেয়, পরিবেশ দূষণ করে এবং ধীরে-ধীরে মৃত্যু ঘটায়। তাছাড়া ধূমপায়ীর কারণে আশপাশের অধূমপায়ীরাও ধূমপানজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। পাশাপাশি ধূমপান করতে-করতে উঠতি বয়সী তরুনেরা অন্য কোনো নেশার সাথে জড়িয়ে পড়ছে, ফলে সমাজে দিন দিন মাদকের আসক্তির সংখ্যাও বাড়ছে।
সূত্রে জানা যায়, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা অর্থ্যাৎ শ্বাসকষ্ট, যা নিয়ন্ত্রনে অক্সিজেনের বিকল্প কিছুই নেই, ধুমপান শ্বাসতন্ত্রের নিক্রিয়তার অন্যতম বাহন সম্প্রতি সময়ে অপ্রাপ্তদের দিনদিন ধুমপানের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। ঘুরে দেখা গেছে, খুলনার ডাকবাংলা, শিববাড়ী, নিউমার্কেট চত্ত্বর, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, গল্লামারি, রুপসা, বয়রা, রায়েরমহল, বাস্তহারা, জোড়াগেট কলনী, আলমনগর, খালিশপুর, নতুনরাস্তা, কবিরবটতলা, দৌলতপুর, কাঁচা বাজার সংলগ্ন, কেসিসি মার্কেট, ঋষিপাড়া মোড়, কেডিএ মার্কেট সংলগ্ন, রেলিগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, শিরোমনি, আটরা, ফুলতলাসহ শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অপ্রাপ্তদের আড্ডায় নতুন-নতুন ধূমপায়ীদের আসক্তি বাড়ছে ধুমপানের প্রতি। বিক্রেতারা অপ্রাপ্তদের নিকট ধূমপান বিক্রয় নিষিদ্ধ জানা স্বত্ত্বেও সন্তোষজনক ব্যবসার আশায় ওই অপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ধূমপান নামে পরোক্ষ বিষ, যা এই নতুন প্রজন্মকে ধীরে-ধীরে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। একই সাথে নগরীর বিভিন্ন চায়ের দোকানে তামাকজাত কোম্পানীগুলো তাদের নিয়োগ করা কর্মীদের প্রচার প্রচারণা ওই সকল অপ্রাপ্তদের আরো বেশি ধুমপানের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে, সামাজিক সচেনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি অভিভাবকদের আরো বেশি সচেতন থাকার পরার্মশ দিয়েছেন। বিশেষ করে তার সন্তান কার সাথে মেলামেশা করে, কোথায় যায় এসকল বিষয়ে খোজ খবর নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন জানান, বর্তমানে চায়ের দোকানে ঢোকা যায় না, লজ্জা লাগে। কারণ ছোট-ছোট অপ্রাপ্ত ছেলেরা প্রকাশ্যে ধুমপান করছে। তারা বড়দের নূন্যতম সন্মান করে না। চোখের সামনে তরুনদের সামাজিক এই অবক্ষয় মেনে নেয়া যায় না। এ যেন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রন করতে গেলে সামাজিক সচেনতা সৃষ্টি করতে হবে বলে আমি মনে করি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা শাখার সাধারন সম্পাদক এড. কুদরত-ই খুদা জানান, ধূমপান ত্যাগের জন্য দরকার যুব সমাজের প্রবল ইচ্ছাশক্তি। ধূমপান প্রতিরোধে ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে তরুণ সমাজকে সচেতন করা, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে পর্যালোচনা, পরিবারের অভিভাবক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সচেতন করে তোলা, যাতে করে তাদের সন্তান ধুমপানের প্রতি আসক্ত না হতে পারে। একই সাথে তামাকজাত কোম্পানীর প্রচার ও প্রসার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকার দোকানপাটে ধুমপান ক্রয়-বিক্রয় ও ধূমপান নিষিদ্ধ করা এবং সর্বপরি তার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
নীতি নির্ধারকরা বলছেন, প্রকাশ্যে জনসম্মুখে তথা পাবলিক প্যালেসে ধূমপান করা আইনত অপরাধ, যার জন্য রয়েছে অর্থদ-ের বিধান। তাছাড়া অপ্রাপ্ত বয়সীদের নিকট ধুমপান বিক্রয় নিষিদ্ধ। অপ্রাপ্তদের নিকট ধুমপান বিক্রয় করলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারার আইন রয়েছে। ক্রমশঃই বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন নতুন অপ্রাপ্ত বয়সী ধুমপায়ীর সংখ্যা, তাই যুব সমাজকে তামাকমুক্ত রাখতে প্রশাসনের প্রতি সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ।



