স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুর থানা ছাত্রদলের নব গঠিত কমিটি নিয়ে নেট জগতে সমালোচনার ঝড়

# সদস্য সচিবসহ ৭/৮জন ছাত্রলীগের সাথে জড়িত! #

স্টাফ রিপোর্টারঃ সম্প্রতি নগরীর খালিশপুর থানা নব গঠিত ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৬ সদস্যের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মিরাজ হোসেন মানিক ও সদস্য সচিব ফয়সাল আহমেদ বাপ্পী। এ কমিটির সদস্য সচিবসহ ৭/৮ জন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে। ৫/৬ জন বিবাহিত এবং ৬/৭ জনের ছাত্রত্ব নেই। ১০/১২ জন একেবারেই রাজনীতিতে নতুন করে আর্বিভূত হয়েছে। এমনই অভিযোগ সংক্রান্ত লেখালেখি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সদস্য সচিব বাপ্পী ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা সাঈদের ভাগ্নে সাজিদের সাথে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করতো। অভি, মঈন, সায়েম ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। বাপ্পী যুবদলের রাজনীতিতে আসে আসলাম ও রনির মাধ্যমে। ছাত্রলীগ নেতা টিপুরও ঘনিষ্টজন ছিল এই বাপ্পী। পরে সে সাবেক কাউন্সিলর ডালিম লীগ করতো। এভাবে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িয়ে থেকে সুবিধা ভোগ করেছে। ৫ আগস্টের পর আবার বিএনপির সাথে জড়িয়ে নতুন সুবিধা ভোগ করার দুয়ার খুলে ফেলেছে। সুবিধাভোগীরা আজ ছাত্রদলকে গিলতে বসেছে। কতিপয় অসাধুচক্র কৌশলে বকুল সাহেবকে বুঝিয়ে এ কমিটি অনুমোদ করিয়েছে বলে ত্যাগী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানায়। থানা ছাত্রদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশী আপন ও মিরাজসহ অনেকে বলেন, গঠিত কমিটির ১০/১২ জনকে তিনি চেনেন না। তারা ৫ আগস্টের পর নতুন করে দলে আমদানি হয়েছেন। নতুন কমিটির সদস্য সচিব বাপ্পী ৫ আগস্টের পর দলে আগমন হয়। এর আগে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিল। আহবায়ক মানিক বিবাহিত। সন্তানের বাবা। আহবায়ক কমিটির নেতা লালন ফকির বিবাহিত। যুবদল রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। আরেক নেতা এলিনুর ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে মাদকের সাথে জড়িত। কমিটির ৩/৪ জন অছাত্রত্ব। ত্যাগী নেতা-কর্মীদের রেখে হাইব্রিড ও বিতর্কিতদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে এ কমিটি। যেভাবে সামাজিক যোগাযোগে এ কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তাতে করে এ কমিটি বাতিল করা উচিত বলে তারা মনে করেন। আরেক নেতৃত্ব প্রত্যাশী জুবায়ের হোসেন বলেন, আহবায়ক মানিক, সদস্য সচিব বাপ্পী, আরেক নেতা রিয়াজ ছাত্রলীগের কর্মী ছিল। ছাত্রলীগ নেতা রাশেদের সাথে তাদের ঘনিষ্টতা ছিল। যার ছবি আছে। আহবায়ক মানিকসহ ৪/৫জন বিবাহিত। কমিটির সদস্য আশিক ও বাপ্পী লিবার এবং ছাত্রত্ব নেই। এদের দু’জন বাস্তহারার বাসিন্দা। রুবেল নামের আরেক সদস্য মাদকের সাথে জড়িত। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাঃ সম্পাদক আঃ আজিজ এমন কমিটি গঠন নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দুর্দিনে এসব ছেলেরা অন্য দল করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছে। এখন আবার তারা ছাত্রদলে পূর্নবাসন হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। তাহলে এখন ত্যাগী আর নির্যাতিত ছাত্রদল কর্মীরা যাবে কোথায়। একটি চক্র বকুল ভাইকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। যারা এ অকাম করেছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিতর্কিত এ কমিটি বাতিল করার দাবি জানান এই সাবেক নেতা। খালিশপুরের যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন বাবু বলেন, থানা ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে নানা বিতর্ক শুনেছি। যেহেতু তিনি ছাত্রদল করেন না তাই তিনি এ ব্যাপারে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। নব গঠিত কমিটির সদস্য সচিব বাপ্পী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গঠিত কমিটি ও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি আন্দোলন করার দায়ে আ’লীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্দ হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। তখন তিনি চারমাসের জন্য জাহাজে চলে যান। সাবেক কাউন্সিলর ডালিম তার স্যার ছিলেন। ডালিম যখন আ’লীগে যোগ দেন তখন থেকে তিনি ডালিমের সঙ্গ ছাড়েন বলে দাবি করেন। সংগঠনের আহবায়ক মানিক সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কমিটির সকলে দলের সক্রিয় কর্মী। বিগত সময় টিকে থাকতে কেউ কেউ কারোর ছত্রছায়ায় চলেছে। সে জন্য কারোর কারোর ছবি কেউ তুলে রেখেছে। তাই বলে সে দল ছেড়ে চলে যায়নি। নিয়মিত ও ছাত্রত্ব শেষের দিকে যারা রয়েছে তাদের থানা কমিটিতে রাখা হয়েছে। তবে যারা মহানগর ও ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে চেয়েছে তাদের থানা কমিটিতে রাখা হয়নি। সকল ত্যাগীদের মূল্যায়নের ব্যাপারে বকুল ভাইয়ের নির্দেশনা রয়েছে। ফলে কোন ত্যাগী নেতা-কর্মী অবমূল্যায়ীত হবে না বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button