স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে ১৪ দিন নিখোঁজ তানিম

# ভিকটিমকে ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট থানায় নানার নিখোঁজ ডায়রী #
# তার নিখোঁজে উৎকন্ঠা ও অজানা আতঙ্কে পরিবার, প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা নগরীর দৌলতপুর দেয়ানা পূর্বপাড়া হাসপাতাল মোড় এলাকা হতে গত ১৩ জুন (শুক্রবার) সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে তানিম মোল্লা (১৭) নামের এক কিশোর নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ কিশোর ওই এলাকার দিনমজুর আঃ রইফ মোল্লার জ্যেষ্ঠ পুত্র। নিখোঁজ ওই কিশোরকে সম্ভব্য সকল স্থানসমূহ সহ আত্বীয়-স্বজনের বাড়ীতে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যান না পেয়ে অবশেষে তাকে ফিরে পেতে নানা মো. এনায়েত হোসেন ১৭ জুন (মঙ্গলবার) দৌলতপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন (যার নং-৭১১)। এদিকে, নিখোঁজের ১৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সন্তান হারিয়ে তার পিতা-মাতাসহ স্বজনদের চোখে মুখে এখন উৎকন্ঠা ও অজানা আতঙ্কের ছাপ। জ্যেষ্ঠ পুত্র হারানোর ঘটনায় শোকাহত গোটা পরিবার, পিতা-মাতা ও একমাত্র স্কুল পড়–য়া ছোট ভাই পাগল প্রায়। তার সন্ধান মেলাতে ভিকটিমের পরিবার প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে (শুক্রবার) সকাল আনুমানিক সকাল ১১ টার দিকে তামিম একটি গোলগলা গেঞ্জি ও কালো রঙের ফুলপ্যান্ট পড়ে বাড়ী হতে বের হয়। তার উচ্চতা ৫ ফুট। গায়ের রং শ্যামলা, খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় কথায় বলে। সে একটু সরলসোজা ও নিরীহ প্রকৃতির। ওই দিন বাড়ী হতে বের হয়ে সে আর বাড়ীতে ফিরে আসেনি। আমরা সম্ভব্য সকল স্থান ও আত্বীয় স্বজনের বাড়ীতে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধ্যান পাইনি। অবশেষে ১৭ জুন (মঙ্গলবার) তাকে ফিরে পেতে দৌলতপুর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিখোঁজ ডাইরী করেন ।
এ বিষয়ে হাসপাতাল মোড় এলাকার পান ব্যবসায়ী মো. আলমগীর শেখ জানান, তানিম খুব নিরীহ ও সরল প্রকৃতির একটা সাদামাঠা ছেলে। আমার দোকান হতে দিনের মধ্যে কয়েকবার পান খেতো। সকলের সাথে হাসি-খুশি মনে চলাফেরা করতো। তার নিখোঁজের ঘটনা সত্যই মেনে নেওয়ার মতো নয়। তামিমের নিখোঁজের পর থেকে তার পরিবারের পাশাপাশি হাসপাতাল মোড় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তানিমের সন্ধ্যান মেলাতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সুদৃষ্টি ও সহয়তা কামনা করছি।
ওই এলাকার বাসিন্দা মো. আজিজুল ইসলাম জানান, তানিমকে যতটুকু চিনি এবং দেখেছি সে একটা সহজসোজা টাইপের ছেলে। মাঝে মাঝে মেজাজ চড়া দেখা যেত। সবার সাথে মিলে মিশে চলে। সবাই তাকে ¯েœহ করে। তার নিখোঁজের ঘটনায় মনটা সত্যই খারাপ লাগছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তার সন্ধ্যান মেলাতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে নিখোঁজ তানিমের পিতা দিনমজুর আঃ রইফ মোল্লা অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, তানিম আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র, বড় আদরের সন্তান। ১৪ দিন গত হলো সে নিখোঁজ, জানি না কোথায় আছে? কেমন আছে। ও নিখোঁজের পর কাজে মন বসে না। সারাক্ষন মনটা ছটফট করে। নাওয়া-খাওয়া ভালো লাগে না। সে নিখোঁজের পর থেকে ওর মা পাগল প্রায়। সারাক্ষন কান্নাকাটি করছে, সাথে নিরব কান্না করছে তার ছোট ভাইসহ আত্বীয় স্বজনেরা। আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেতে দৌলতপুর পুলিশ প্রশাসনের সর্ব্বোচ সহযোগীতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে নিখোঁজ তানিমের নানা মো. এনায়েত হোসেন জানান, আমি নাতি একটা সহজসরল ও নিরীহ প্রকৃতি মানুষ। পরিবারসহ এলাকার সবার সাথে সে মিলে মিশে চলাফেরা করে। প্রতিদিন বাড়ী থেকে বের হয়ে সে যথারীতি বাড়ীতে ফিরে আসে, কিন্তু ওই দিন আর বাড়ীতে ফিরে আসেনি। সব জায়গায়, আত্বীয়দের বাড়ীতে খোঁজাখুঁজি করেছি। বুঝতে পারছিনা কাউকে কিছু না বলে আমার আদরের নাতিটা কই গেল? তাকে ফিরে আমি থানায় একটা জিডি করি। পুলিশ বলছে তারা খোঁজাখুঁজি করছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. অলিয়ার রহমান জানান, ভিকটিম নিখোঁজের ঘটনায় তার নানা সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন। ডায়রী করার দিনই আমরা সকল থানায় বেতার বার্তা পাঠায়। ভিকটিমের সাথে নিকট কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় আমরা কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছিনা। তার সন্ধ্যান মেলাতে প্রকাশ্যে ও গোপনে খোঁজাখুঁজি চলছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মীর আতাহার আলী জানান, ওই নিখোঁজের ঘটনায় ভিকটিমের নানা একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন। ভিকটিমের নিকট মোবাইল ফোন না থাকার দরুন আমরা প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে পারি না। তারপরও ভিকটিমের সন্ধ্যান মেলাতে আমাদের কার্যক্রম অব্যহত আছে, আশাকরি তার সন্ধ্যান মেলাতে সক্ষম হবে। জানা গেছে, তানিমের সন্ধ্যান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ ছবি সম্বলিত একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত পোষ্ট দিয়েছেন। এছাড়া খোঁজাখুঁজি অব্যহত রেখেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button