দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ’র নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ার শঙ্কা

# ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফলতি ও ধীরগতিতে কাজ
# সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক’র কাজ ৫০ শতাংশ ও মূল ভবনের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশ
# চুক্তিপত্র অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের মেয়াদ মার্চ ২০২৬ #
এম রুহুল আমিন : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধী গ্রামে ৩ একর জমির উপর প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, বিষয়টি উপলব্ধি করে সরকার ইতিপূর্বে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০০ টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩২৯ টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কাজের নির্মাণ সহযোগী সংস্থা খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে এ জাতীয় আরো ৩২৯ টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (২য় পর্যায়) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যেটি ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)’র সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা।
সূত্র মতে, প্রতিষ্ঠানটির ৫ তলা একাডেমিক ভবনের সাথে নির্মাণ করা হবে ওয়ার্কশপ ও ৪ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন,৩ তলা বিশিষ্ট টিচার্স ডরমেটরি, ২’শ শষ্যার ৫তলা বিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস,ক্যাম্পাসের ভীতরের অভ্যন্তরীণ সড়ক, গার্ড রুম, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাবস্টেশন,পানি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরী করা হবে, নির্মিত হবে শহীদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ,সারফেস ড্রেনেজ সিস্টেম, খেলার মাঠ,এছাড়া রয়েছে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ ও পুকুর খননও করা হবে। ২ গ্রুপে ভাগ করে কাজটির টেন্ডার আহবান করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,মেসার্স এস ই এন্ড এমএএস জেভি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৫তলা একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ও ৪ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ১২ ফেব্রয়ারী-২০২৪ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ৭২০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চে একাডেমিক ভবন ওয়ার্কশপ ও প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী উপরোক্ত কাজের দরপত্র মূল্য ২০ কোটি ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মূল ভবনের কাজে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। ৫তলা একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ও ৪ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন কাজের নির্মাণ সহযোগী সংস্থা খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল)।কারন ৫ আগষ্টের পর কিছুদিন কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর,প্রধান ফটক নির্মাণে ব্যয় হবে ২ কোটি ৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা। মেসার্স সৈকত নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ২২ জানুয়ারী-২০২৪ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত কাজ করেছে ৮০ লক্ষ টাকার। সীমানা প্রাচীর,প্রধান ফটক নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। তবে এলাকাবাসি বলছে ভিন্ন কথা,এ প্রকল্পের কোন কাজই নিদিষ্ট সময়েই শেষ করা সম্ভব নয়।কর্মরত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফলতি ও ধীরগতিতে কাজ করছে।আমরা চাই দ্রত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করবে খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,২০২২ সালের ৩ নভেম্বর দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু তখন নির্মাণ সামগ্রির মূল্য ঊর্ধমুখী থাকায় কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করতে আগ্রহ দেখায়নি। এর ১ বছর পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে নতুন রেটে মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রয়ারী নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ’র নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে গুণগত মান ঠিক রেখে কাজ করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেদিকে উপজেলা প্রশাসন লক্ষ্য রাখছে। প্রকল্পের পরিচালক এসেছিল তিনি কাজের বিষয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেভাবে কাজ করানোর চেষ্টা করব। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার। তবে কাজের সময় যদি বাড়ানো হয় সেটি এর মধ্যেই যেন রাখা যায়।
প্রকল্পটির নির্মাণকারী সংস্থা খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মুত্তাকিন বলেন, ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণ প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজে অগ্রগতি সন্তোষজনক। সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।মূল ভবনের কাজ নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন,কর্মক্ষম যুবকদের দেশে ও বিদেশে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চাকুরির বাজারের চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন সরকার দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের নির্মাণের মধ্য দিয়ে আরো একধাপ অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, প্রাথমিক অবস্থায় দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এন্ড ইনফরমেশন,অটোমোটিভ এন্ড ড্রাইভিং,ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল,জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস এই ৪টি ট্রেডে ভর্তি হয়ে পড়াশুনার সুযোগ পাবে ছাত্র ছাত্রীরা। এসএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্স চালু করার মাধ্যমে দেশব্যাপী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ। এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, কর্মক্ষম যুবকদের দেশে ও বিদেশে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চাকুরির বাজারের চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে। দারিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা সংস্থাপনের লক্ষে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।



