মোংলায় ব্রিজের এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে চরম অনিয়ম, যানবাহন ও জনসাধারনের সাঁকো পারাপারের ভোগান্তির মুক্তির দাবিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষে এলাকাবাসী।

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : মোংলা উপজেলার বাঁশতলা ও চিলা ইউনিয়নের সংযোগ এলাকায়, পুটিমারী খালের উপর নির্মাণাধীন ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজের এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে চরম অনিয়ম ও অসম্পূর্ণ কাজ নিয়ে এলাকাবাসীরা ক্রন্দন তুলছেন। ব্রিজের গার্ডার ও কলাম নির্মিত হলেও, স্লোভ ও বোর্ডের কাজ শুরুই হয়নি ফলে শিক্ষার্থীসহ নানা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রায় বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে শিশুদের স্কুল যাত্রা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও প্রাত্যহিক যাত্রীদের জন্য এ অসহজ অবস্থা কষ্ট ও বিপদে ফেলে দিচ্ছে। মোংলা উপজেলার বাঁশতলা এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “আমাদের ছেলে-মেয়েদের সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। মাঝে মাঝে স্কুলে যেতে গিয়ে সময়ই নষ্ট হয়ে যায়, কারণ ব্রিজের স্লোভের কাজ চালু না হওয়ায় মোংলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মালামাল নিতে হয়।” উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ ইসরাফিল শেখ বলেন, “ব্রিজের স্লোভের কাজের জন্য আমাদের এলাকার মানুষ আজ চরম ভোগান্তির মধ্যে। স্কুলে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পারাপারের কষ্ট ও বিপদ আমাদের জীবনধারাকে প্রভাবিত করছে। কাজ দ্রুত সমাপ্তি না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাবে।”
মোংলা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাবীদুল হাসান জানান, “চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ মালে। তবে বর্তমানে রিভাইজ পাস হয়ে থাকলেও, কাজে সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। সঠিক সমাপ্তির তারিখ নির্ধারণ করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না।”
ব্রিজের স্লোভের অপরিপূর্ণ কাজের কারণে আশেপাশের ব্যবসায়ী এবং মুদি দোকানদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। মুদি দোকানদার মোঃ আবুবক্কার শেখ সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, “আমরা দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসা করে আসছি। ব্রিজের স্লোভের কাজ শুরু হলে আমাদের আশপাশের দোকান জায়গা ও বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাবে। ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, ক্ষতিপূরণ ছাড়া অবস্থার নাগালে গেলে আমাদের রাস্তায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করতে বাধ্য হতে হবে।”
এরপরও কর্তৃপক্ষ কাজের অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এলাকাবাসী আশাবাদী যে, অবিলম্বে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্লোভের কাজ সম্পন্ন করলে তাদের দৈনন্দিন যাত্রা ও জীবনধারা স্বাভাবিকতায় ফিরে আসবে।



