মোংলায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ঢেউয়ের তোড়ে টিকতে না পেরে নিরাপদ আশ্রয় চলে এসেছে শত শত মাছ ধরা ট্রলার

বাগেরহাট প্রতিনিধি।
সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টি, সুন্দরবন উপকূলে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে পড়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন সমুদ্রে বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা ট্রলার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসছে। এ দিকে মোংলা সমুদ্র বন্দর কে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার ভোর থেকে বাগেরহাটের পুর্ব- সুন্দরবনের কটকা-কচিখালী, সুপতি, দুবলাসহ শরণখোলা, রাজৈর, মোংলাসহ উপকূলে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে শত শত মাছধরা ট্রলার। সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ায় মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। মঙ্গলবার ভোর থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত ৬টি জাহাজে পণ্য ওঠা নামা ব্যাহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ। এ ছাড়া গত কয়েকদিন ধরে মুললধারে বৃষ্টি হওয়ায় বাগেরহাট জেলা সদরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর তলীয়ে গেছে। সাধরন মানুষের স্বাভাবিক জীবন -যাপন ব্যহত হচ্ছে। দিনমজুরসহ দরিদ্র মানুষরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বঙ্গোপসাগরে টিকতে না পেরে ভোর থেকে কয়েক শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের কটকা-কচিখালী, সুপতি, দুবলার বিভিন্ন খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সুন্দরবনে গত ১ জুন থেকে পর্যটকসহ বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ সময়ে এই দুর্যোগের সময়ে ফিশিং ট্রলারগুলো সুন্দরবনে আশ্রয় নিলেও তাদের ওপর বন বিভাগের নজরদারি রয়েছে। দুর্যোগকালে আশ্রয় নিয়ে সুন্দরবনের নদী খালে মাছ শিকার করলে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে। মোংলা আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ হারুন আর রশিদ জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকায় অন্য বন্দরের মতো মোংলা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।


