দিঘলিয়ায় পরীক্ষা হলে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর ছবি তোলা নিয়ে অভিভাবক মহলের উত্তেজনা

# স্কুল ঘেরাও শিক্ষক বরখাস্ত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন #
দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ
দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া কর্তৃক ৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দেয়াড়া নিবাসী শরিফুলের কন্যা লাবিবার পরীক্ষা হলে ছবি তুলেছেন। আর এই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। উত্তেজিত অভিভাবক সাধারণ আমজনতা স্কুল ঘেরাও করেছে। অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের চাকুরি থেকে অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোলাম কিবরিয়াকে তৎক্ষনাৎ সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৭ কর্মদিবসে তাদের তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া। তিনি এ বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পূর্বে ২০১২-১৩ সালের দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি শিক্ষক হিসেবে এ বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে তার আচার-আচরণ শিক্ষক সুলভ ছিলো না। তার বিরুদ্ধে শিক্ষক-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা সংশ্লিষ্ট অনেক অভিযোগ রয়েছে। যেগুলো মারাতœক অপরাধ কিন্তু পারিপার্শ্বিক নানা কারণে ইতোপূর্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যে কারণে তার এ কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে। গত সপ্তাহেও জনৈক শিক্ষিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক গোলাম কিবরিয়ার মারাতœক ঘটনা ঘটেছে। যা প্রধান শিক্ষক স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি করেছেন বলে জানা যায়। উক্ত শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি ইউএনও স্যারকে জানাতে চেয়েছিলেন কিন্ত স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করেছেন যার প্রতি তিনি সন্তষ্ট নন। তবে কিবরিয়া স্যারের সোমবার ঘটে যাওয়া ঘটনায় তার শাস্তি সে পেয়ে গেছে আরও পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আর এতেই আমি সন্তষ্ট।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ ফরহাদ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমি ও আমার শিক্ষক মন্ডলীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিবরিয়øার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম স্যার তাকে সাময়িকভাবে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেছেন। তিনি ঘটনা তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তার মোবাইল জব্দ করা হয়েছে কিন্তু সে ছবি মনিটর থেকে মুছে ফেলেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সহযোগিতায় ছবি আনা যাবে এমনটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞমহল। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীন বলেন, পরিবেশ খুবই উত্তপ্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিবেশ আমাদের অনুকূলে আছে। শিক্ষকের প্রিভিয়াস রেকর্ড, মোবাইলে থাকা ছবি প্রমাণ করে শিক্ষক অপরাধী। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ঘটনা শোনার সাথে সাথে তৎক্ষনাৎ উক্ত সহকারি শিক্ষককে মৌখিকভাবে বিদ্যালয়ে এবং বিদ্যালয়ের আশপাশে যেন না আসে সেটা কার্যকরী করার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাকে সাময়িকভাবে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ৭ কর্মদিবসের মধ্যে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রিভিয়াস ও বর্তমান সকল অভিযোগ তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যগণ হলেন (১) উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিপাশা দেবী তনুকে আহবায়ক এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসার শামসুন নাহার ও সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক(গনিত) দ্বয়কে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।


