জাতীয় সংবাদ

চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার

প্রবাহ রিপোর্ট : চাঁদাবাজির অভিযোগে শেরপুর জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হোসেন আলীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। গতকাল রোববার যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম নয়নের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় হোসেন আলীকে যুবদলের সব ধরনের পদ ও সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়। বহিষ্কারাদেশ ঘোষণার পর জেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি এবং শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও দ্বন্দ্ব নিরসনে সহায়ক হবে। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আতারুল ইসলাম আতা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। হোসেন আলীর কর্মকা-ে আমরা বারবার বিব্রত হয়েছি। বহুবার সতর্ক করেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ ধরনের পদক্ষেপ দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় জরুরি। শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পারভেজ আহমেদ বলেন, দলীয় পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত কারও স্থান যুবদলে হতে পারে না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আমাদের সাহস জুগিয়েছে। এটি যুবদলের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি প্রক্রিয়ার একটি বড় পদক্ষেপ। জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব হযরত আলী বলেন, অপরাধ করে কেউ দলের ছত্রছায়ায় থাকতে পারে না। এটি রাজনীতির জন্য অশুভ দৃষ্টান্ত। হোসেন আলীকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সংশোধন হননি। এই বহিষ্কার স্বস্তিদায়ক ও প্রয়োজনীয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিতে শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। যুবদলের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে এবং দলীয় ঐক্য পুনর্গঠনে সহায়ক হবে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না, এটাই আমাদের বার্তা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আমাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। নেতাকর্মীদের মতে, হোসেন আলীকে বহিষ্কারের মাধ্যমে যুবদলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এটি শুধু একটি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা-অপরাধ করে কেউ দলীয় পরিচয়ে রক্ষা পাবে না। স্থানীয় নেতারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যুবদলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, অসন্তোষ ও শৃঙ্খলাহীনতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button