ফুলতলায় ইফা’র কেন্দ্র শিক্ষক ফজলুর বিরুদ্ধে কেন্দ্র না চালিয়ে বেতন তোলার অভিযোগ

সাইফুল্লাহ তারেক ঃ ইসলামি ফাউন্ডেশন খুলনার ফুলতলা উপজেলার নাওদাড়ী বায়তুন নূর জামে মসজিদ কেন্দ্রের (কোড নং-৯০৩) সহজ কুরআন শিক্ষার শিক্ষক শেখ ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে কেন্দ্র না চালিয়ে ৪ বছর ধরে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও বহিরাগত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে চাকুরী, সাধারণ শিক্ষক হয়ে কেয়ার টেকার এবং মডেল শিক্ষকের পরিচয় দেয়ার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা মিলেছে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ তার বেতন স্থগিত করলেও সেটি ছাড় করাতে দেন দরবার শুরু হয়েছে। ফুলতলা উপজেলার নাওদাড়ী বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ডাঃ মঈনুল হাসান, সেক্রেটারী মোঃ মঈন উদ্দীন মঈনসহ সদস্যবৃন্দ ইসলামি ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় পরিচালক বরাবর পেশকৃত স্মারকলিপিতে জানা যায়, ওই কেন্দ্রের সহজ কুরআন শিক্ষার শিক্ষক শেখ ফজলুল করিম কেন্দ্রে উপস্থিত না থেকেই ২০১৮ সাল থেকেই বেতন উত্তোলন করছেন। সোনালী ব্যাংক ফুলতলা শাখা (হিসাব নং-২৭২০১০১০১৫১১৭) থেকে বেতনের টাকা ভোগ করেন। নিয়মিত কেন্দ্রে না আসায় বিগত ৪ বছর শিশু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকে। এছাড়াও বহিরাগত হয়েও স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে চাকুরী, সাধারণ শিক্ষক হয়ে কেয়ার টেকার এবং মডেল শিক্ষকের পরিচয় দেয়ার অভিযোগও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। ইসলামি ফাউন্ডেশন খুলনার বিভাগীয় পরিচালক তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম, ফিল্ড অফিসার মোঃ ফোরকান হুসাইন এবং মাষ্টার ট্রেইনার মোঃ কামরুল ইসলামকে নির্দেশনা দেন। গত ১৮/১০/২৩ তারিখে পরিচালক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ ফজলুল করিম (কোড নং-৯০৩) কেন্দ্রে ৪ বছর অনুপস্থিতির প্রমাণ মেলে। এছাড়া বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতি, ফুলতলা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি নড়াইল জেলার কালিয়া থানার পুরুলিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কলামনখালি গ্রামের বাসিন্দা ও মোঃ খলিলুর রহমানের পুত্র। তিনি ওই ঠিকানা ব্যবহার করে ২০১৯ সালে একটি মাদ্রাসা থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। এছাড়াও কেন্দ্র পরিবর্তন করতে গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সভাপতির প্রত্যয়নের প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয় যদিও সেটি প্রকৃত সভাপতির কাছ থেকে না নিয়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে। তার অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ইসলামি ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক শেখ ফজলুল করিমকে কারণ দর্শানো নোটিশ করেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নিজেকে আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হওয়ায় স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি কর্তৃক রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার বলে লিখিতভাবে দাবি করেন। নাওদাড়ী বায়তুন নূর জামে মসজিদ কেন্দ্রে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী কেন্দ্রটি বর্তমানে মসজিদুত্ব ত্বাকওয়া জামে মসজিদে পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি তৎকালীন ইউএনও সাদিয়া আফরিন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আশরাফ হোসেন আশু ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম খানকে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়। নড়াইল এলাকার বাসিন্দার বিষয়টি স্বীকার করে বর্তমানে তিনি ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা হিসাবে পরিচয়পত্রের সংশোধন করেছেন বলে জানিয়েছেন। অপরদিকে, কেন্দ্র না চালিয়ে অনৈতিকভাবে বেতনের উত্তোলনকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা এবং চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ইসলামি ফাউন্ডেশন খুলনার জেলা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মোঃ তাওহীদ হোসেন বলেন, শেখ ফজলুল করিমসহ আরো কিছু কেন্দ্রের শিক্ষক নিয়মিত কেন্দ্র না চালানোই তাদেরকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পূর্বে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিধি বর্হিভূতভাবে অনেক শিক্ষক এরকম করেছেন। এখন থেকে বিধি অনুযায়ী সব কিছু পরিচালিত হবে।



