খুলনায় ভোক্তা অধিকারের কঠোর অভিযানে ২১ প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ৬ হাজার টাকা জরিমানা

# জনস্বার্থে অভিযান চলমান রাখার আশ^াস সংশ্লিষ্টদের #
স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় সমূহ খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার ভোক্তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখাসহ নিয়মবর্হিভূত কেনাবেচা ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত বাজার তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৩ জুলাই) ভোক্তা অধিকারের ১১ টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের খুলনা মহানগরীর নেতৃত্বে সোনাডাঙ্গা থানার রয়রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুইন ফুডকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সংযুক্ত) প্রনব কুমার প্রামাণিকের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বয়রা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মারিয়াম মসলা ঘরকে ২ হাজার টাকা, আমির হামজা স্টোরকে ১হাজার টাকা, রাবেয়া এন্টারপ্রাইজকে ১ হাজার ৫ শত টাকা এবং হাসিব স্টোরকে ৫ শত টাকা জরিমানা করা হয়। খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানার জয়পুর বাজার ও বাইনতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্যে উৎপাদন কারার অপরাধে তপু মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ হাজার ও সোহাগ মিষ্টান্ন ভা-ারকে ১ হাজার টাকা এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে মেসার্স বিসমিল্লাহ ফার্মেসিকে ৪ হাজার টাকা ও অনুপম কৃষি ভান্ডারকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার জেলখানা মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স মাহি ফার্মেসিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে শাখিলা উপজেলার আড়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্সকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা অবৈধ পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রিন্স ভ্যারাইটিজ স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৭ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার পুলিশ লাইন মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মা চৌধুরী এন্টারপ্রাইজকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার হলিধানী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে টাকা ফুডকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার ইসলাম পাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স। মিঠাই বাড়িকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্যে উৎপাদন করার অপরাধে ৬ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে ফকিরহাট উপজেলার ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ ট্রেডার্সকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৫ শত টাকা, মেসার্স জনা মেডিকেল হলকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ২ হাজার টাকা, মেসার্স অজনা ফার্মেসীকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা এবং চয়ন কসমেটিকসকে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব শামীম হাসান এর নেতৃত্বে লোহাগড়া উপজেলার মানিকগঞ্জ ও বাতাশি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স রাফিয়া ট্রেডার্সকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ২ হাজার টাকা ও মেসার্স নিউ যশোর ফুডকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযানে ২১ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৬ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় । জনস্বার্থে অভিযান চলমান রাখার আশ^াস সংশ্লিষ্টদের।
এ ব্যাপার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত আছে। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে। খুলনার বাজার সমূহে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।



