খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা মামলায় ফ্যাসিস্ট পিন্টুসহ দু’জনকে শ্যোন এ্যারেষ্ট

স্টাফ রিপোর্টার ঃ অবশেষে খুলনার কাশিপুরের বিএনপি নেতা রিয়াজকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা মামলায় শ্যোন এ্যারেষ্ট দেখানো হলো ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফ্যাসিস্ট সুলতান মাহমুদ পিন্টুকে। বৃহস্পতিবার ওই আবেদনের ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতে আদেশ মতে, পিন্টুসহ দু’জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো। অন্যজন হলো আরমান মোল্লা ওরফে দিপু(২৭) বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুলনা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ পরিদর্শক মোঃ ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, আরমান মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান ওরফে মিঠুর ছেলে। ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে গ্রেফতারকৃত অন্য আসামী আরমানের নাম বলেছে বলে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো। এ মামলায় এ যাবৎ ৫/৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২০ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর হাকিম আদালতে এ আবেদন করেন। যার দৌলতপুর থানার মামলা নং-১৩, তারিখ-০৮/০৯/২০২২, ধারা-৩২৬/৩০৭ পেনাল কোড। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি নেতা শেখ রিয়াজ শাহেদকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দিগ্ধ আসামী সাবেক কাউন্সিল পিন্টু ওরফে সুলতান মাহমুদ পিন্টু (৫১) ও রায়হান মোল্লা। পিন্টু ফুলতলা থানার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করে আদালতে সি/ডব্লিউ মূলে বর্তমানে জেল হাজতে আটক আছে। অত্র মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর’২২ রাত ৯টার সময় বাদী রিয়াজ শাহেদ মোটর সাইকেল যোগে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করে বিএল কলেজের পৌছিলে অজ্ঞাতনামা আসামীরা মোটর সাইকেল যোগে পিছন দিক থেকে এসে রিয়াজ সাহেদকে লক্ষ্য করে গুলি করলে উক্ত গুলি তার ডান হাতে লেগে জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ভিকটিম রিয়াজকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকালে ফ্যাসিস্ট পিন্টু ওরফে সুলতান মাহমুদ পিন্টু’র বিরুদ্ধে বাদী ও ভিকটিমকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার সাথে জড়িত থাকার স্বপক্ষ্যে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে সন্দিগ্ধ উক্ত আসামী পিন্টু’কে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হবে। সে কারণে খুলনা জেলার জেলহাজতে আটককৃত পিন্টু’ ও রায়হানকে উক্ত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। শিগগিরই তাদের দু’জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান। ভিকটিম শেখ রিয়াজ শাহেদ ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বর্তমানে খালিশপুর থানা বিএনপির সদস্য। তিনি বলেন, সুলতান মাহমুদ পিন্টু আওয়ামীলীগ আমলে শেখ পরিবারের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করতো। তিনি শেখ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব পালন করতো। রক্ত পিপাসুতে পরিণত হয়েছে। তিনি ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের সদস্য। মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে দু’টি হাতি উপহার দিয়ে এ পিন্টু শেখ বাড়ির আস্থাভাজন লাভ করে। কেসিসির সাবেক মেয়র আঃ খালেকের পক্ষে ভোট চাওয়া, সাবেক সংসদ এসএম কামালের পক্ষে ভোট চাওয়া ছিল এলাকায় চোখে পড়ার মত। তিনি এ অঞ্চলে ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দায়িত্বশীল ভূমিকায় ছিলেন। শেখ বাড়ির ক্ষমতায় তিনি বেপরোয়া হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নানা ধরনের কুটকৌশল ব্যবহার করতেন। তা না হলে প্রতিপক্ষকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেন। তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। খুলনার তেল সেক্টর এই ফ্যাসিস্টের দখলে রয়েছে। বর্তমানে পিন্টু বিএনপির অফিস ভাংচুর মামলায় কারাগারে রয়েছে। গত ২১ মে তিনি আদালতে আতœসমার্পন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। সেই থেকে এখনও তিনি কারাগারে রয়েছেন। তারপরও তার খুন খারাবি বন্ধ নেই। তিনি পরিকল্পনা করে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে তেল ব্যবসায়ী শেখ ফরহাদসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন। ফরহাদের মামলায়ও পিন্টু আসামী বলে তিনি জানান।



