পাইকগাছায় রাস্তায় ফুটফুটে কন্যা সন্তান প্রসব করলেন পাগলি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ মানুষ রুপের পশুদের আক্রমণের শিকারে ভারসাম্যহীন পাগলী হয়ে পড়ে অন্তঃস্বত্বা। অচেনা অজানা পরিচয়হীন পাগলী হলো মা। কোথা থেকে কতদিন এ এলাকায় সেটাও রয়ে গেছে অজানা। রাস্তার উপর ফুটফুটে ২.৬ কেজি ওজনের সন্তান ভূমিষ্ট হলো ডাক্তার কিংবা ধাত্রী ছাড়াই। পাইকগাছা প্রধান সড়ের হিরো শো-রুমের সামনে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছে এক অজ্ঞাতনামা পাগলি। মঙ্গলবার সকালে সন্তান প্রসব করে ওই পাগলি। বর্তমানে ওই প্রসূতি ও তার সন্তান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। মা ও বাচ্চা সকলেই সুস্থ এবং নিরাপদে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান সড়কের এক দোকানের সামনে প্রসব বেদনা ওঠার পর পাগলি নিজেই তার সন্তান প্রসব করেন। পাশের দোকানের কিছু লোক দেখতে পায় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতাল এনে ভর্তি করিয়ে দেয়। এখন মা-মেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানেই রয়েছেন। মা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রেহানা পারভীন এই পাগলি সম্পর্কে বলেন, বেশ কিছুদিন যাবত ওই পাগলি পেটে বাচ্চা অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। আশপাশের দোকান থেকে খাবার চেয়ে খেত। প্রধান সড়কের একটি দোকানের সামনে পাগলিটি বাচ্চা প্রসব করে, এখন সে ও তার নবজাতক সন্তান সুস্থ আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালের দিকে ভারসাম্যহীন এক মহিলা ডেলিভারি বিষয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আমরা সব কিছু সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করি এবং আমি নিজে গিয়ে পরিদর্শন করে এসেছি, মা ও বাচ্চা দুজনেই সুস্থ আছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি শুনেছি হাসপাতালে যেয়ে দেখে শুনে কি করা যায় ইউএনও স্যারের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, বিকাল ৪টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং পাগলীর বাচ্চাকে কোলে নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, সবাই মিলে চেষ্টা করুন তার পরিচয়টা জানা যায় কিনা। আর সেটা সম্ভব না হলে সরকারীভাবে যা করণীয় তার জন্য সমাজসেবা অফিসারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।



