আড়ংঘাটায় ৮ বছরের শিশু নিখোঁজ !

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা নগরীর আড়ংঘাটা বাজার এলাকা হতে গত ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রাইন ইসলাম ইব্রাহিম (৮) নামের মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক শিশুর নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ওই শিশু আড়ংঘাটা দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিন মজুর মো. হোসেন শেখের একমাত্র পুত্র। নিখোঁজ ওই শিশুকে সম্ভব্য সকল স্থানসমূহ সহ আত্বীয়-স্বজনের বাড়ীতে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যান না পেয়ে অবশেষে তাকে ফিরে পেতে তার মা আমেনা বেগম বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) আড়ংঘাটা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন (যার নং- ৯৬৭)। এদিকে, নিখোঁজের ৯ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সন্তান হারিয়ে তার পিতা-মাতাসহ স্বজনদের চোখে মুখে এখন উৎকন্ঠা ও অজানা আতঙ্কের ছাপ। একমাত্র পুত্র নিখোঁজের ঘটনায় শোকাহত পিতা-মাতা, গোটা পরিবারসহ আত্মীয়-স্বজনেরা। নিখোঁজের সন্ধান পেতে ভিকটিমের পরিবার প্রশাসনের সহযোগীতা ও সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে রাইন ইসলাম ইব্রাহিম বাড়ী থেকে বের হয়। ওই দিন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও সে আর বাড়ীতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা তাদের সকল আত্বীয় স্বজনের বাড়ী ও সম্ভব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধ্যান মেলাতে পারেনি। অবশেষে, ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) আড়ংঘাটা থানায় একটি নিখোঁজ ইব্রাহিমের মা একটি সাধারন ডাইরী করেন। এখন পর্যন্ত তার পরিবারের পক্ষ হতে তাকে ফিরে পেতে স্থানীয় এলাকায় মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগেরে মাধ্যমে, ছবি ছাপিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি অব্যহত রেখেছে। নিখোঁজ শিশুটির গায়ের রং কালো, চুল ছোট-খাটো, খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারে।
এ বিষয়ে নিখোঁজের মা আমেনা জানান, ইব্রাহিম আমার একমাত্র পুত্র। আমরা খুব গরীব মানুষ। আমি মানুষের বাস-বাড়ীতে কাজ করি এবং আমার স্বামীও একজন দিনমজুর। নিখোঁজের দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমি ছেলেকে রেখে বাসা-বাড়ীর কাজে যায়। বিকালে কাজ থেকে ফিরে ওর দাদী বাড়ীতে ছেলেকে খুঁজতে যাই। এরপর থেকে ছেলেকে সকল সম্ভব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করি কিন্তু, সন্ধ্যান মেলাতে পারি নাই। স্থানীয় এলাকায় মাইকিং করি, ছেলের ছবি ছাপিয়ে সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করছি। ছেলের সন্ধ্যান পেতে অবশেষে আড়ংঘাটায় থানায় নিখোজ জিডি করি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ছেলের সন্ধ্যান পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা ও সু-দৃষ্টি কামনা করছি। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সাঈদ হোসেন জানান, ভিকটিম শিশু নিখোঁজের ঘটনায় তার মা সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন। ডায়রী করার দিনই আমরা সকল থানা বরাবর বেতার বার্তা পাঠায়। যেহেতু ভিকটিম শিশু, তার কাছে মোবাইল ফোন না থাকাটায় স্বাভাবিক, তবে মোবাইল ফোন সাথে থাকলে প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কোনো তদন্ত করাটা সহজলভ্য হয়। তারপরও ভিকটিমের সন্ধ্যান মেলাতে প্রকাশ্যে ও গোপনে খোঁজাখুঁজি অব্যহত আছে। জানা গেছে, শিশু ইব্রাহিমের সন্ধ্যান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ ছবি সম্বলিত একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত পোষ্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানেও খোঁজাখুঁজি অব্যহত আছে।



